ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে চলা ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) আন্দোলনের আঁচ এবার এসে লেগেছে রূপালী জগৎ বলিউডেও। শনিবার মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানে সিজিপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে পুলিশি আটকের মুখে পড়েছেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা ইমরান খান, তাঁর বান্ধবী লেখা ওয়াশিংটন এবং তুতো বোন জেইন মারি।
শনিবার বিকেল চারটার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইমরান, লেখা ও জেইনকে। আটক তারকাদের অভিযোগ, মুম্বাইয়ের ইয়েলো গেট থানায় সরাসরি নিয়ে যাওয়ার বদলে তাদের বহনকারী পুলিশ ভ্যানটি বেশ কিছুক্ষণ ধরে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরিয়ে রাখা হয়।
অবশেষে কয়েক ঘণ্টার বন্দিদশা শেষে মুক্ত হয়ে ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিও বার্তায় নিজেদের নিরাপদে বাড়ি ফেরার কথা নিশ্চিত করেন লেখা ওয়াশিংটন। তবে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, থানা থেকে বেরোনোর পর স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা ট্যাক্সি ও ক্যাব চালকদের ভয় দেখানোর কারণে পরবর্তীতে বাড়ি ফিরতে তাদের নানামুখী ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
তবে আটক ও ভ্যানের ভেতরের থমথমে পরিস্থিতির মাঝে দারুণ এক রসাত্মক আবহ তৈরি করেন ইমরান খান নিজেই। ভ্যানের ভেতরে জেইন মারি ভিডিও করার সময় ইমরানের ২০০৮ সালের ব্লকবাস্টার ডেবিউ সিনেমা 'জানে তু... ইয়া জানে না'-র গল্প স্মরণ করিয়ে দেন। উক্ত চলচ্চিত্রে রাজপুত পরিবারের ছেলে ইমরানের চরিত্রের প্রকৃত 'বীর' হয়ে ওঠার শর্ত ছিল—ঘোড়ায় চড়া, মারপিট করা এবং অন্তত একবার জেলে যাওয়া! জেইন হাসতে হাসতে ইমরানকে জেলে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করলে ইমরানও মজা করে জবাব দেন, "হতেও পারে, হয়তো জেলেই যাচ্ছি!" এমনকি ভ্যানের ভেতর থেকে হাসিমুখে নিজস্ব ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে অভিনেতা লেখেন, "মনে হচ্ছে আমি বুঝি লং ড্রাইভে বের হয়েছি!"
অবশ্য পুলিশের এই গণ-আটকের আইনি যৌক্তিকতা নিয়ে চরম প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। জেইন মারি জানান, থানায় নেওয়ার পর আটকের স্পষ্ট কারণ জানতে চাইলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো পুলিশ কর্মকর্তা সঠিক সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে ছাড়া পাওয়ার পর ইমরান ও জেইনকে হাসিমুখে পুলিশ সদস্যদের 'জয় হিন্দ' জানিয়ে থানা ত্যাগ করতে দেখা যায়।
উল্লেখ্য, ভারতের ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারচুপির প্রতিবাদে সিজিপির আহ্বানে মুম্বাই ও দিল্লিতে এই বিশাল নাগরিক আন্দোলন গড়ে ওঠে। মুম্বাই পুলিশের দাবি, অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানে সমাবেশের জন্য তাদের পূর্বানুমতি ছিল না। অন্যদিকে সিজিপির দাবি, অনুমতির জন্য বারবার ইমেইল পাঠানো হলেও কর্তৃপক্ষের থেকে কোনো জবাব দেওয়া হয়নি। দিল্লিতে রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি মুম্বাইয়ে বলিউডের জনপ্রিয় তারকাদের এমন প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ এই বিক্ষোভকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এক নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে।

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে চলা ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) আন্দোলনের আঁচ এবার এসে লেগেছে রূপালী জগৎ বলিউডেও। শনিবার মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানে সিজিপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে পুলিশি আটকের মুখে পড়েছেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা ইমরান খান, তাঁর বান্ধবী লেখা ওয়াশিংটন এবং তুতো বোন জেইন মারি।
শনিবার বিকেল চারটার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইমরান, লেখা ও জেইনকে। আটক তারকাদের অভিযোগ, মুম্বাইয়ের ইয়েলো গেট থানায় সরাসরি নিয়ে যাওয়ার বদলে তাদের বহনকারী পুলিশ ভ্যানটি বেশ কিছুক্ষণ ধরে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরিয়ে রাখা হয়।
অবশেষে কয়েক ঘণ্টার বন্দিদশা শেষে মুক্ত হয়ে ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিও বার্তায় নিজেদের নিরাপদে বাড়ি ফেরার কথা নিশ্চিত করেন লেখা ওয়াশিংটন। তবে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, থানা থেকে বেরোনোর পর স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা ট্যাক্সি ও ক্যাব চালকদের ভয় দেখানোর কারণে পরবর্তীতে বাড়ি ফিরতে তাদের নানামুখী ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
তবে আটক ও ভ্যানের ভেতরের থমথমে পরিস্থিতির মাঝে দারুণ এক রসাত্মক আবহ তৈরি করেন ইমরান খান নিজেই। ভ্যানের ভেতরে জেইন মারি ভিডিও করার সময় ইমরানের ২০০৮ সালের ব্লকবাস্টার ডেবিউ সিনেমা 'জানে তু... ইয়া জানে না'-র গল্প স্মরণ করিয়ে দেন। উক্ত চলচ্চিত্রে রাজপুত পরিবারের ছেলে ইমরানের চরিত্রের প্রকৃত 'বীর' হয়ে ওঠার শর্ত ছিল—ঘোড়ায় চড়া, মারপিট করা এবং অন্তত একবার জেলে যাওয়া! জেইন হাসতে হাসতে ইমরানকে জেলে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করলে ইমরানও মজা করে জবাব দেন, "হতেও পারে, হয়তো জেলেই যাচ্ছি!" এমনকি ভ্যানের ভেতর থেকে হাসিমুখে নিজস্ব ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে অভিনেতা লেখেন, "মনে হচ্ছে আমি বুঝি লং ড্রাইভে বের হয়েছি!"
অবশ্য পুলিশের এই গণ-আটকের আইনি যৌক্তিকতা নিয়ে চরম প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। জেইন মারি জানান, থানায় নেওয়ার পর আটকের স্পষ্ট কারণ জানতে চাইলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো পুলিশ কর্মকর্তা সঠিক সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে ছাড়া পাওয়ার পর ইমরান ও জেইনকে হাসিমুখে পুলিশ সদস্যদের 'জয় হিন্দ' জানিয়ে থানা ত্যাগ করতে দেখা যায়।
উল্লেখ্য, ভারতের ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারচুপির প্রতিবাদে সিজিপির আহ্বানে মুম্বাই ও দিল্লিতে এই বিশাল নাগরিক আন্দোলন গড়ে ওঠে। মুম্বাই পুলিশের দাবি, অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানে সমাবেশের জন্য তাদের পূর্বানুমতি ছিল না। অন্যদিকে সিজিপির দাবি, অনুমতির জন্য বারবার ইমেইল পাঠানো হলেও কর্তৃপক্ষের থেকে কোনো জবাব দেওয়া হয়নি। দিল্লিতে রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি মুম্বাইয়ে বলিউডের জনপ্রিয় তারকাদের এমন প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ এই বিক্ষোভকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এক নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন