নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে উপচে পড়া গ্যালারির সামনে রোমাঞ্চকর ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের নতুন চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া এই মেগা আসরের ১০টি প্রধান পর্যবেক্ষণ ও শিক্ষা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো—
৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটের কারণে টুর্নামেন্টে ম্যাচের সংখ্যা ও গোল বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন একাধিক রেকর্ড তৈরি হয়েছে। তবে দল ও ম্যাচ সংখ্যা বাড়লেও সেমিফাইনালে ঠিকই বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ চার র্যাংকড দল—আর্জেন্টিনা, স্পেন, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের আধিপত্য দেখা গেছে।
অভিষেকেই রূপকথার মতো পারফর্ম করে বিশ্ব ফুটবলের মন জয় করেছে কেপ ভার্দে। স্প্যানিশ ও উরুগুয়ানদের রুখে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত আটকে রেখেছিল তারা। অন্যদিকে, নিজেদের কৌশলগত ও গতিশীল ফুটবলে বিশ্বকে চমকে দিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় নরওয়ে।
ভিসা জটিলতা, গান ভায়োলেন্স ও স্থানীয়দের আগ্রহ না থাকা নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও, আমেরিকানদের উষ্ণ অভ্যর্থনা সেই শঙ্কা ভুলিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক দর্শকদের সাথে মার্কিন নাগরিকদের চমৎকার সামাজিক আদান-প্রদান বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
কানাডার পুরুষ ফুটবল দীর্ঘদিন ধরে কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও, দলটির শেষ ১৬-তে পৌঁছানো দেশটির ক্রীড়াঙ্গনে নতুন গতির সঞ্চার করেছে। ফুটবল খাতে অবকাঠামোগত বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি গ্যালারিতে দর্শক উপস্থিতির নতুন রেকর্ড গড়েছে দেশটি।
মেক্সিকোর ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ৪০ বছর পর শেষ ১৬-র জয় ছিল চরম আনন্দের। তবে সেই উন্মাদনা রূপ নেয় বিষাদে; জয় উদ্যাপনের সময় ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে ৪ জন দর্শকের প্রাণহানি ঘটে। পাশাপাশি এই টুর্নামেন্ট মেক্সিকোর অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি কোনো দৃশ্যমান সুফল আনতে পারেনি।
স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র টানা দ্বিতীয়বারের মতো শেষ ১৬ থেকে বিদায় নেওয়ায় সমর্থকরা হতাশ হয়েছেন। টুর্নামেন্ট চলাকালে দলের তারকা স্ট্রাইকারের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে ট্রাম্পের বিতর্কিত হস্তক্ষেপ মাঠের ফলাফলে কোনো অবদান রাখতে পারেনি। সার্বিকভাবে দলটি তাদের সামর্থ্য অনুযায়ীই পারফর্ম করেছে।
পূর্ববর্তী আসরগুলোর তুলনায় এবার প্রবেশপত্রের মূল্য ছিল আশঙ্কাজনকভাবে বেশি। স্টেডিয়ামগুলো দর্শকে পূর্ণ থাকলেও, অতিরিক্ত খরচের কারণে সাধারণ ও নিম্ন-আয়ের ফুটবলপ্রেমীদের বাদ দিয়ে মূলত উচ্চবিত্ত ও প্রবাসী ধনকূপদের প্রাধান্যই বেশি দেখা গেছে।
ভ্রমণ ও ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে যেসব দেশের সাধারণ সমর্থকরা সরাসরি আসরে যোগ দিতে পারেননি, তাদের শূন্যতা পূরণ করেছে স্বাগতিক দেশে অবস্থানরত বিশাল প্রবাসী সম্প্রদায় ও মার্কিন সমর্থকরা।
ফিফার অফিসিয়াল নীতিমালায় স্টেডিয়ামের ভেতর রাজনৈতিক প্রদর্শনী কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হলেও, টুর্নামেন্টজুড়ে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা মতপ্রকাশের বিরুদ্ধে আয়োজক বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কঠোর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
ম্যাচের মাঝে অতিরিক্ত ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ এবং ফাইনালের প্রথমার্ধ শেষে প্রথাগত বিরতির বাইরে ‘হাফটায়াম শো’ যুক্ত করায় ফুটবলের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করার অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকদের মতে, বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের সুযোগ বাড়াতেই এটি করা হয়েছে। তবে ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক তাপমাত্রা বিবেচনায় কোচরা এটিকে কৌশলগত বিরতি হিসেবে ব্যবহার করেছেন, যা ভবিষ্যতে স্থায়ী রূপ নিতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে উপচে পড়া গ্যালারির সামনে রোমাঞ্চকর ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের নতুন চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া এই মেগা আসরের ১০টি প্রধান পর্যবেক্ষণ ও শিক্ষা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো—
৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটের কারণে টুর্নামেন্টে ম্যাচের সংখ্যা ও গোল বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন একাধিক রেকর্ড তৈরি হয়েছে। তবে দল ও ম্যাচ সংখ্যা বাড়লেও সেমিফাইনালে ঠিকই বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ চার র্যাংকড দল—আর্জেন্টিনা, স্পেন, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের আধিপত্য দেখা গেছে।
অভিষেকেই রূপকথার মতো পারফর্ম করে বিশ্ব ফুটবলের মন জয় করেছে কেপ ভার্দে। স্প্যানিশ ও উরুগুয়ানদের রুখে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত আটকে রেখেছিল তারা। অন্যদিকে, নিজেদের কৌশলগত ও গতিশীল ফুটবলে বিশ্বকে চমকে দিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় নরওয়ে।
ভিসা জটিলতা, গান ভায়োলেন্স ও স্থানীয়দের আগ্রহ না থাকা নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও, আমেরিকানদের উষ্ণ অভ্যর্থনা সেই শঙ্কা ভুলিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক দর্শকদের সাথে মার্কিন নাগরিকদের চমৎকার সামাজিক আদান-প্রদান বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
কানাডার পুরুষ ফুটবল দীর্ঘদিন ধরে কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও, দলটির শেষ ১৬-তে পৌঁছানো দেশটির ক্রীড়াঙ্গনে নতুন গতির সঞ্চার করেছে। ফুটবল খাতে অবকাঠামোগত বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি গ্যালারিতে দর্শক উপস্থিতির নতুন রেকর্ড গড়েছে দেশটি।
মেক্সিকোর ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ৪০ বছর পর শেষ ১৬-র জয় ছিল চরম আনন্দের। তবে সেই উন্মাদনা রূপ নেয় বিষাদে; জয় উদ্যাপনের সময় ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে ৪ জন দর্শকের প্রাণহানি ঘটে। পাশাপাশি এই টুর্নামেন্ট মেক্সিকোর অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি কোনো দৃশ্যমান সুফল আনতে পারেনি।
স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র টানা দ্বিতীয়বারের মতো শেষ ১৬ থেকে বিদায় নেওয়ায় সমর্থকরা হতাশ হয়েছেন। টুর্নামেন্ট চলাকালে দলের তারকা স্ট্রাইকারের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে ট্রাম্পের বিতর্কিত হস্তক্ষেপ মাঠের ফলাফলে কোনো অবদান রাখতে পারেনি। সার্বিকভাবে দলটি তাদের সামর্থ্য অনুযায়ীই পারফর্ম করেছে।
পূর্ববর্তী আসরগুলোর তুলনায় এবার প্রবেশপত্রের মূল্য ছিল আশঙ্কাজনকভাবে বেশি। স্টেডিয়ামগুলো দর্শকে পূর্ণ থাকলেও, অতিরিক্ত খরচের কারণে সাধারণ ও নিম্ন-আয়ের ফুটবলপ্রেমীদের বাদ দিয়ে মূলত উচ্চবিত্ত ও প্রবাসী ধনকূপদের প্রাধান্যই বেশি দেখা গেছে।
ভ্রমণ ও ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে যেসব দেশের সাধারণ সমর্থকরা সরাসরি আসরে যোগ দিতে পারেননি, তাদের শূন্যতা পূরণ করেছে স্বাগতিক দেশে অবস্থানরত বিশাল প্রবাসী সম্প্রদায় ও মার্কিন সমর্থকরা।
ফিফার অফিসিয়াল নীতিমালায় স্টেডিয়ামের ভেতর রাজনৈতিক প্রদর্শনী কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হলেও, টুর্নামেন্টজুড়ে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা মতপ্রকাশের বিরুদ্ধে আয়োজক বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কঠোর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
ম্যাচের মাঝে অতিরিক্ত ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ এবং ফাইনালের প্রথমার্ধ শেষে প্রথাগত বিরতির বাইরে ‘হাফটায়াম শো’ যুক্ত করায় ফুটবলের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করার অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকদের মতে, বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের সুযোগ বাড়াতেই এটি করা হয়েছে। তবে ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক তাপমাত্রা বিবেচনায় কোচরা এটিকে কৌশলগত বিরতি হিসেবে ব্যবহার করেছেন, যা ভবিষ্যতে স্থায়ী রূপ নিতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স

আপনার মতামত লিখুন