দিকপাল

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সাফল্যের নেপথ্যে ‘চার বন্ধু’


স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ : রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৪৩ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সাফল্যের নেপথ্যে ‘চার বন্ধু’

লিওনেল স্কালোনির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের সাম্প্রতিক সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি শুধু কৌশলগত নৈপুণ্য নয়, বরং প্রধান কোচ ও তার তিন দীর্ঘদিনের বন্ধুর মধ্যে গড়ে ওঠা গভীর আস্থা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। এই "চার বন্ধু"র সমন্বয়েই গত কয়েক বছরে বদলে গেছে আলবিসেলেস্তেদের ভাগ্য।

২০১৮ বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর হোর্হে সাম্পাওলি দায়িত্ব ছাড়লে কঠিন এক সময়ে আর্জেন্টিনার দায়িত্ব নেন স্কালোনি। অনেকেই তার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুললেও শুরু থেকেই তার পাশে ছিলেন তিন সহকর্মী ও বন্ধু—পাবলো আইমার, রবার্তো আয়ালা এবং ওয়াল্টার সামুয়েল। এই চারজনের নেতৃত্বেই নতুন করে গড়ে ওঠে দলটি, যা ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জেতে। বর্তমানে উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে তারা ফাইনালে পৌঁছেছে।

বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনার প্রধান সহকারী কোচ পাবলো আইমার এই সাফল্যের নেপথ্যের গল্প তুলে ধরেন। স্কালোনির সবচেয়ে বড় শক্তি প্রসঙ্গে আইমার বলেন, "সে শুধু ভালো একটি দল তৈরি করেনি, বরং এমন একদল মানুষকে একত্র করেছে, যারা সবাই একই লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। এটা খুব কঠিন একটি কাজ। স্কালোনির সবচেয়ে বড় গুণ হলো, সে সবাইকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং দলের মধ্যে এক ধরনের মানসিক শান্তি ছড়িয়ে দিতে পারে।"

আইমারের মতে, তাদের সম্পর্ক শুধু সহকর্মীর নয়, বরং গভীর বন্ধুত্বের। তিনি বলেন, "আমরা শুধু একসঙ্গে কাজ করি না, আমরা বন্ধু। একসঙ্গে সময় কাটাতে আমাদের ভালো লাগে। মাঠের ফলাফল সব সময় আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না, কিন্তু এই ৪০ দিন আমরা যেভাবে একসঙ্গে থাকি, সেই পরিবেশটা আনন্দময় হওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ।"

এই বন্ধুত্বের প্রভাব কোচিং স্টাফের বাইরেও পুরো দলে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ড্রেসিংরুমে ইতিবাচক ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করেছে এবং মাঠের পারফরম্যান্সে প্রতিফলিত হচ্ছে। তবে খেলোয়াড় হিসেবে ২০০২ ও ২০০৬ বিশ্বকাপে শিরোপা জেতা না হওয়ার স্মৃতি নিয়ে আইমার বলেন, "খেলোয়াড় হিসেবে আমরা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছি, কিন্তু ট্রফি জিততে পারিনি। তাই স্মৃতিগুলোতে আনন্দ যেমন আছে, তেমনি কষ্টও আছে। তবে দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে পারা এবং জাতীয় সংগীত গাওয়ার মুহূর্ত সব সময়ই বিশেষ।"

খেলোয়াড় হিসেবে যে স্বপ্ন তাদের অপূর্ণ ছিল, কোচ হিসেবে সেটিই পূরণ করেছেন এই চার বন্ধু। কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার তাদের সামনে আরেকটি বিশ্বশিরোপা জিতে ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬


বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সাফল্যের নেপথ্যে ‘চার বন্ধু’

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

লিওনেল স্কালোনির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের সাম্প্রতিক সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি শুধু কৌশলগত নৈপুণ্য নয়, বরং প্রধান কোচ ও তার তিন দীর্ঘদিনের বন্ধুর মধ্যে গড়ে ওঠা গভীর আস্থা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। এই "চার বন্ধু"র সমন্বয়েই গত কয়েক বছরে বদলে গেছে আলবিসেলেস্তেদের ভাগ্য।

২০১৮ বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর হোর্হে সাম্পাওলি দায়িত্ব ছাড়লে কঠিন এক সময়ে আর্জেন্টিনার দায়িত্ব নেন স্কালোনি। অনেকেই তার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুললেও শুরু থেকেই তার পাশে ছিলেন তিন সহকর্মী ও বন্ধু—পাবলো আইমার, রবার্তো আয়ালা এবং ওয়াল্টার সামুয়েল। এই চারজনের নেতৃত্বেই নতুন করে গড়ে ওঠে দলটি, যা ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জেতে। বর্তমানে উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে তারা ফাইনালে পৌঁছেছে।

বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনার প্রধান সহকারী কোচ পাবলো আইমার এই সাফল্যের নেপথ্যের গল্প তুলে ধরেন। স্কালোনির সবচেয়ে বড় শক্তি প্রসঙ্গে আইমার বলেন, "সে শুধু ভালো একটি দল তৈরি করেনি, বরং এমন একদল মানুষকে একত্র করেছে, যারা সবাই একই লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। এটা খুব কঠিন একটি কাজ। স্কালোনির সবচেয়ে বড় গুণ হলো, সে সবাইকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং দলের মধ্যে এক ধরনের মানসিক শান্তি ছড়িয়ে দিতে পারে।"

আইমারের মতে, তাদের সম্পর্ক শুধু সহকর্মীর নয়, বরং গভীর বন্ধুত্বের। তিনি বলেন, "আমরা শুধু একসঙ্গে কাজ করি না, আমরা বন্ধু। একসঙ্গে সময় কাটাতে আমাদের ভালো লাগে। মাঠের ফলাফল সব সময় আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না, কিন্তু এই ৪০ দিন আমরা যেভাবে একসঙ্গে থাকি, সেই পরিবেশটা আনন্দময় হওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ।"

এই বন্ধুত্বের প্রভাব কোচিং স্টাফের বাইরেও পুরো দলে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ড্রেসিংরুমে ইতিবাচক ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করেছে এবং মাঠের পারফরম্যান্সে প্রতিফলিত হচ্ছে। তবে খেলোয়াড় হিসেবে ২০০২ ও ২০০৬ বিশ্বকাপে শিরোপা জেতা না হওয়ার স্মৃতি নিয়ে আইমার বলেন, "খেলোয়াড় হিসেবে আমরা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছি, কিন্তু ট্রফি জিততে পারিনি। তাই স্মৃতিগুলোতে আনন্দ যেমন আছে, তেমনি কষ্টও আছে। তবে দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে পারা এবং জাতীয় সংগীত গাওয়ার মুহূর্ত সব সময়ই বিশেষ।"

খেলোয়াড় হিসেবে যে স্বপ্ন তাদের অপূর্ণ ছিল, কোচ হিসেবে সেটিই পূরণ করেছেন এই চার বন্ধু। কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার তাদের সামনে আরেকটি বিশ্বশিরোপা জিতে ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল