সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্তি সামনে রেখে আগামী আগস্ট মাসে মন্ত্রিসভায় রদবদল এবং কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে জোর আলোচনা চলছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতার মূল্যায়নের ভিত্তিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আনা হতে পারে। একই সঙ্গে কয়েকজন মন্ত্রীর কাজের চাপ কমানো, কিছু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস এবং মন্ত্রিসভার আকার সামান্য বাড়ানোর বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্রগুলোর দাবি, কাজের গতি ও বিতর্কের জেরে দুই মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদও দেওয়া হতে পারে।
তবে এ বিষয়ে কোনও মন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাঁদের ভাষ্য, মন্ত্রিসভায় রদবদল বা দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর।
জাতীয় নির্বাচনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। শুরুতে তাঁর মন্ত্রিসভায় ৪৯ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে গত ১ জুন পদত্যাগ করেন। আগামী আগস্টে সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে এবং এ সময়কে সামনে রেখে বর্তমানে মন্ত্রিসভার সদস্যদের কর্মদক্ষতা নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার গঠনের সময়ই জানানো হয়েছিল, প্রথম ছয় মাস মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ধীরগতিতে সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের কাজের চাপ কমাতে দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এ ছাড়া যেসব মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে অথবা প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রত্যাশিত গতি পায়নি, সেসব ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হতে পারে। সূত্রগুলোর দাবি, সম্প্রতি বিভিন্ন বিতর্কের মুখে পড়া দুই জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা দপ্তর পরিবর্তনের বিষয়ে ছয় মাসের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নিজেই নেবেন।
সরকার ও বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো হলে বেশ কিছু নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং দলীয় সূত্রে আলোচনায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম হলেন এবিএম মোশাররফ হোসেন, সেলিমা রহমান, ড. আবদুল মঈন খান, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বরকত উল্লাহ বুলু এবং জয়নুল আবদিন ফারুক।
এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের নামও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির জন্য বিবেচনায় রয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা মনে করেন, প্রথম ছয় মাসের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রশাসনিক গতি বাড়াতে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে মন্ত্রিসভায় এই পরিবর্তন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬
সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্তি সামনে রেখে আগামী আগস্ট মাসে মন্ত্রিসভায় রদবদল এবং কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে জোর আলোচনা চলছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতার মূল্যায়নের ভিত্তিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আনা হতে পারে। একই সঙ্গে কয়েকজন মন্ত্রীর কাজের চাপ কমানো, কিছু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস এবং মন্ত্রিসভার আকার সামান্য বাড়ানোর বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্রগুলোর দাবি, কাজের গতি ও বিতর্কের জেরে দুই মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদও দেওয়া হতে পারে।
তবে এ বিষয়ে কোনও মন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাঁদের ভাষ্য, মন্ত্রিসভায় রদবদল বা দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর।
জাতীয় নির্বাচনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। শুরুতে তাঁর মন্ত্রিসভায় ৪৯ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে গত ১ জুন পদত্যাগ করেন। আগামী আগস্টে সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে এবং এ সময়কে সামনে রেখে বর্তমানে মন্ত্রিসভার সদস্যদের কর্মদক্ষতা নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার গঠনের সময়ই জানানো হয়েছিল, প্রথম ছয় মাস মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ধীরগতিতে সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের কাজের চাপ কমাতে দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এ ছাড়া যেসব মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে অথবা প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রত্যাশিত গতি পায়নি, সেসব ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হতে পারে। সূত্রগুলোর দাবি, সম্প্রতি বিভিন্ন বিতর্কের মুখে পড়া দুই জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা দপ্তর পরিবর্তনের বিষয়ে ছয় মাসের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নিজেই নেবেন।
সরকার ও বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো হলে বেশ কিছু নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং দলীয় সূত্রে আলোচনায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম হলেন এবিএম মোশাররফ হোসেন, সেলিমা রহমান, ড. আবদুল মঈন খান, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বরকত উল্লাহ বুলু এবং জয়নুল আবদিন ফারুক।
এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের নামও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির জন্য বিবেচনায় রয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা মনে করেন, প্রথম ছয় মাসের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রশাসনিক গতি বাড়াতে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে মন্ত্রিসভায় এই পরিবর্তন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আপনার মতামত লিখুন