পাখিরা বাঁচতে চায়
ইদানীং শহর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে পাখি। চড়ুই ব্যতীত বাকি কোনো পাখি নজরে-ই আসে না বলা চলে। আচ্ছা, আপনারা একটা বিষয় খেয়াল করেছেন? শহর থেকে কাকের উপদ্রব একেবারে কমে গেছে। আজিব তো! কাকগুলো গেলো কই! আচ্ছা, ভাবতে হবে না। আমি চাই না আমার পাঠকদের কষ্ট হোক। তাই উত্তর আমি-ই দিলাম। একসময় গাড়ির হর্ণ, দূষিত বায়ু এবং কাকের কা-কা শব্দ শুনে নিশ্চিত হওয়া যেতো অবস্থান করছি শহরে। কিন্তু ইদানীং শহরের কাকগুলো না জানি কোথায় চলে গেলো। এ যেনো অভিমান করে বাড়ি ছাড়ার মতন বিষয়। শুধু শহরে নয়, গ্রামেও এখন আর খুব একটা পাখির দেখা মিলে না। মানুষের আচরণে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা পালিয়ে গেছে। এই যে গাছ কেটে বন ধ্বংস করা হলো। শহরজুড়ে বিশাল বিশাল অট্টালিকা। আরে ভাই মাথা গোঁজার জন্য কতটুকু-ই বা ছাদ লাগে! অথচ একেকজনের ৩-৪টা করে বাড়ি। খালি জমিন রেখে দেওয়া যেনো তাদের কাছে অপরাধের শামিল। একটু জমিন পেলে-ই ইট গেঁথে গড়ে তুলবে দালান। কার বাড়ি কত বড় হবে এ নিয়ে অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে সবার মধ্যে। বিষাক্ত বায়ুতে তো মানুষ-ই ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারে না। তাহলে পাখি বাঁচবে কেমন করে! আমরা তো নিজ হাতে পাখিদের খুন করছি। এই যে,সবার হাতে ২-৩টা করে মোবাইল। আরে বাপু ওত দরকার কী! একটা দিয়ে হয় না! সীম কোম্পানিগুলো আকাশচুম্বী টাওয়ার বানাচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির অজুহাতে। বাংলাদেশে বর্তমানে কম করে হলেও ৬-৭টা সীম কোম্পানি আছে। এত দরকার আছে আমাদের! কেনো ২-৩টা সীম ব্যবহার করতে হবে! খুব বেশি জরুরি! আমি মোটেও উন্নয়ন বিরোধী নই। আমিও চাই মানুষের জীবন সুবিধাজনক হোক, সুন্দর হোক। তাই বলে পরিবেশের ক্ষতি করা তো মেনে নিতে পারবো না। এসব মোবাইল টাওয়ার থেকে নিঃসৃত রেডিয়েশন পাখিদের বাঁচতে দিচ্ছে না। আর গ্রামেগঞ্জে পাখি শিকার তো আছেই। বনভোজনের নাম করে বন্দুক হাতে পাখি হত্যায় মেতে ওঠা হয় প্রতি বছর শীতকাল এলে। এটা নাকি বিনোদন!পাখি পরিবেশের জন্য সবদিক থেকে ই উপকারী। যদি অপকারী ই হতো তবে তো স্রষ্টা পাখি সৃষ্টি করতেন না। স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হয়েও যদি আমরা এসব না বুঝি তবে আর কি বা করার আছে আমার! পাখিদের বাঁচতে দাও, উড়তে দাও, ছুঁতে দাও আসমান...