দিকপাল

ভাইকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিলেন পঞ্চগড়ের বড় বোন


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ | ১২:০২ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ভাইকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিলেন পঞ্চগড়ের বড় বোন

পঞ্চগড়ে আলোচিত মানিক হোসেন হত্যা মামলার তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বড় বোনকে ধর্ষণ এবং গোপনে ধারণ করা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে নির্যাতন চালাতেন ১৯ বছর বয়সী মানিক হোসেন। সেই নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তার বড় বোন।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর নিহতের ২৪ বছর বয়সী বড় বোন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তিনি হত্যার কারণ ও ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন বলে দাবি তদন্ত সংশ্লিষ্টদের।

মানিক হোসেনের মরদেহ পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের ঐতিহাসিক মহারাজার দিঘি থেকে উদ্ধার হওয়ার পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) নিহতের বড় বোন এবং একই এলাকার ৪৯ বছর বয়সী শাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) পঞ্চগড় জেলা পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, তদন্তে হত্যাকাণ্ডের পেছনের সম্ভাব্য কারণ ও পরিকল্পনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, মানিক দীর্ঘদিন ধরে তার বড় বোনকে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করতেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি গোপনে ভিডিও ধারণ করে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নির্যাতনের জেরেই বড় বোন হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মানিককে পান করানো হয়। তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তার কোমরে পলিথিনে মোড়ানো একটি চিরকুট গুঁজে দেওয়া হয়। পরে সহযোগী শাহাবুদ্দিন তাকে হত্যা করে মরদেহ মহারাজার দিঘিতে ফেলে দেন।

ডিবি পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুটের হাতের লেখার সঙ্গে নিহতের বড় বোনের শয়নকক্ষ থেকে জব্দ করা একটি ক্যালেন্ডারের লেখার মিল পাওয়া যায়। সেই সূত্র ধরেই জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন তিনি বলে দাবি পুলিশের।

পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফরহাদ হোসেন বলেন, "তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের জোরপূর্বক শারীরিক নির্যাতনের ক্ষোভ থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।" মামলাটি এখনও তদন্তাধীন। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি, ফরেনসিক তথ্য এবং অন্যান্য আলামত যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


ভাইকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিলেন পঞ্চগড়ের বড় বোন

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

পঞ্চগড়ে আলোচিত মানিক হোসেন হত্যা মামলার তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বড় বোনকে ধর্ষণ এবং গোপনে ধারণ করা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে নির্যাতন চালাতেন ১৯ বছর বয়সী মানিক হোসেন। সেই নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তার বড় বোন।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর নিহতের ২৪ বছর বয়সী বড় বোন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তিনি হত্যার কারণ ও ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন বলে দাবি তদন্ত সংশ্লিষ্টদের।

মানিক হোসেনের মরদেহ পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের ঐতিহাসিক মহারাজার দিঘি থেকে উদ্ধার হওয়ার পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) নিহতের বড় বোন এবং একই এলাকার ৪৯ বছর বয়সী শাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) পঞ্চগড় জেলা পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, তদন্তে হত্যাকাণ্ডের পেছনের সম্ভাব্য কারণ ও পরিকল্পনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, মানিক দীর্ঘদিন ধরে তার বড় বোনকে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করতেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি গোপনে ভিডিও ধারণ করে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নির্যাতনের জেরেই বড় বোন হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মানিককে পান করানো হয়। তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তার কোমরে পলিথিনে মোড়ানো একটি চিরকুট গুঁজে দেওয়া হয়। পরে সহযোগী শাহাবুদ্দিন তাকে হত্যা করে মরদেহ মহারাজার দিঘিতে ফেলে দেন।

ডিবি পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুটের হাতের লেখার সঙ্গে নিহতের বড় বোনের শয়নকক্ষ থেকে জব্দ করা একটি ক্যালেন্ডারের লেখার মিল পাওয়া যায়। সেই সূত্র ধরেই জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন তিনি বলে দাবি পুলিশের।

পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফরহাদ হোসেন বলেন, "তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের জোরপূর্বক শারীরিক নির্যাতনের ক্ষোভ থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।" মামলাটি এখনও তদন্তাধীন। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি, ফরেনসিক তথ্য এবং অন্যান্য আলামত যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল