বিশ্ব ফুটবলের দৃষ্টি এখন এক জায়গায়—ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মহারণ। আগামী রোববার শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। একদিকে টানা দ্বিতীয় এবং ইতিহাসের চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বিভোর লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে ১৬ বছর পর বিশ্বসেরার মুকুট পুনরুদ্ধারে মরিয়া স্পেন।
তবে এই মহারণের আগে কৌশল, পরিসংখ্যান কিংবা শিরোপার লড়াইয়ের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি ছবি—যার বয়স ১৮ বছর। সেই ছবিতেই ধরা আছে এমন এক মুহূর্ত, যা আজ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আবেগঘন প্রতীক।
২০০৭ সালে বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যুতে ইউনিসেফের একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের ফটোশুটে অংশ নিয়েছিলেন তখনকার ২০ বছর বয়সী লিওনেল মেসি। সেখানেই একটি প্লাস্টিকের পানির টবে বসে থাকা এক শিশুকে কোলে নিয়ে ছবি তুলেছিলেন তিনি। সেই শিশুই আজকের স্পেনের বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামাল।
সে সময় ইয়ামালের মা শিলা ইবানা—যিনি মাত্র ১৬ বছর বয়সে সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন—ইউনিসেফের একটি লটারিতে বিজয়ী হয়ে মেসির সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ পান। একুয়েটোরিয়াল গিনির বংশোদ্ভূত শিলা কাতালোনিয়ায় ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ করতেন। মরক্কান বংশোদ্ভূত মুনির নাসরাউইয়ের সঙ্গে তার সংসারেই জন্ম নেয় ইয়ামাল।
ঐতিহাসিক সেই মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট। তার ভাষ্য, বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের নিয়ে দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য ছবিগুলো তোলা হচ্ছিল। মেসি ছিলেন অত্যন্ত লাজুক ও অন্তর্মুখী। "তিনি ড্রেসিংরুম থেকে বেরিয়ে এসে দেখলেন একটি ছোট্ট শিশু পানির টবে বসে আছে। শিশুটিকে কীভাবে কোলে নেবেন, সেটিও যেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না।"
মনফোর্ট জানান, ছবিগুলো প্রকাশের পর তেমন কোনো আলোচনা হয়নি। বহু বছর পর, ২০২৪ সালে ইয়ামালের বাবা ছবিগুলো সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করলে সেগুলো মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ক্যাপশনে লেখা ছিল—"দুই কিংবদন্তির যাত্রার শুরু।"
মনফোর্ট স্বীকার করেন, ছবিটি পুনরায় ভাইরাল হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি জানতেনই না, সেই শিশুটি পরবর্তীতে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত হবে।
বার্সেলোনা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের মাতারো শহর থেকে সেদিন শিশুকে নিয়ে ক্যাম্প ন্যুতে এসেছিলেন ইয়ামালের মা। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি পরিবারকে ছবির একটি করে কপি উপহার দেওয়া হয়েছিল।
মাত্র সাড়ে ছয় বছর বয়সে বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে যোগ দেন ইয়ামাল। এরপর একের পর এক রেকর্ড গড়ে ১৫ বছর বয়সে লা লিগায় এবং ১৬ বছর বয়সে স্পেন জাতীয় দলে অভিষেক ঘটে তার।
ইউরো ২০২৪-এ স্পেনকে শিরোপা জেতানোর পর বিশ্বকাপেও দলের সবচেয়ে বড় ভরসায় পরিণত হয়েছেন তিনি। ক্লাব ফুটবলেও বার্সেলোনায় এখন তিনি পরছেন মেসির কিংবদন্তি ১০ নম্বর জার্সি।
আগামী ১৯ জুলাই (রোববার) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল। সেখানেই প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ম্যাচে একে অপরের বিপক্ষে মাঠে নামবেন লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামাল।
১৮ বছর আগে এক ফ্রেমে ধরা পড়েছিল একজন কিংবদন্তির হাত আর এক শিশুর ভবিষ্যৎ। আজ সেই শিশুই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে দাঁড়িয়ে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত তার শৈশবের সেই নায়ককে। ফুটবলের সৌন্দর্য হয়তো এখানেই—যেখানে একটি ছবি শুধু স্মৃতি নয়, সময়ের সেতুবন্ধন হয়ে ইতিহাসের জন্ম দেয়।

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬
বিশ্ব ফুটবলের দৃষ্টি এখন এক জায়গায়—ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মহারণ। আগামী রোববার শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। একদিকে টানা দ্বিতীয় এবং ইতিহাসের চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বিভোর লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে ১৬ বছর পর বিশ্বসেরার মুকুট পুনরুদ্ধারে মরিয়া স্পেন।
তবে এই মহারণের আগে কৌশল, পরিসংখ্যান কিংবা শিরোপার লড়াইয়ের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি ছবি—যার বয়স ১৮ বছর। সেই ছবিতেই ধরা আছে এমন এক মুহূর্ত, যা আজ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আবেগঘন প্রতীক।
২০০৭ সালে বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যুতে ইউনিসেফের একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের ফটোশুটে অংশ নিয়েছিলেন তখনকার ২০ বছর বয়সী লিওনেল মেসি। সেখানেই একটি প্লাস্টিকের পানির টবে বসে থাকা এক শিশুকে কোলে নিয়ে ছবি তুলেছিলেন তিনি। সেই শিশুই আজকের স্পেনের বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামাল।
সে সময় ইয়ামালের মা শিলা ইবানা—যিনি মাত্র ১৬ বছর বয়সে সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন—ইউনিসেফের একটি লটারিতে বিজয়ী হয়ে মেসির সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ পান। একুয়েটোরিয়াল গিনির বংশোদ্ভূত শিলা কাতালোনিয়ায় ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ করতেন। মরক্কান বংশোদ্ভূত মুনির নাসরাউইয়ের সঙ্গে তার সংসারেই জন্ম নেয় ইয়ামাল।
ঐতিহাসিক সেই মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট। তার ভাষ্য, বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের নিয়ে দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য ছবিগুলো তোলা হচ্ছিল। মেসি ছিলেন অত্যন্ত লাজুক ও অন্তর্মুখী। "তিনি ড্রেসিংরুম থেকে বেরিয়ে এসে দেখলেন একটি ছোট্ট শিশু পানির টবে বসে আছে। শিশুটিকে কীভাবে কোলে নেবেন, সেটিও যেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না।"
মনফোর্ট জানান, ছবিগুলো প্রকাশের পর তেমন কোনো আলোচনা হয়নি। বহু বছর পর, ২০২৪ সালে ইয়ামালের বাবা ছবিগুলো সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করলে সেগুলো মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ক্যাপশনে লেখা ছিল—"দুই কিংবদন্তির যাত্রার শুরু।"
মনফোর্ট স্বীকার করেন, ছবিটি পুনরায় ভাইরাল হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি জানতেনই না, সেই শিশুটি পরবর্তীতে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত হবে।
বার্সেলোনা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের মাতারো শহর থেকে সেদিন শিশুকে নিয়ে ক্যাম্প ন্যুতে এসেছিলেন ইয়ামালের মা। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি পরিবারকে ছবির একটি করে কপি উপহার দেওয়া হয়েছিল।
মাত্র সাড়ে ছয় বছর বয়সে বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে যোগ দেন ইয়ামাল। এরপর একের পর এক রেকর্ড গড়ে ১৫ বছর বয়সে লা লিগায় এবং ১৬ বছর বয়সে স্পেন জাতীয় দলে অভিষেক ঘটে তার।
ইউরো ২০২৪-এ স্পেনকে শিরোপা জেতানোর পর বিশ্বকাপেও দলের সবচেয়ে বড় ভরসায় পরিণত হয়েছেন তিনি। ক্লাব ফুটবলেও বার্সেলোনায় এখন তিনি পরছেন মেসির কিংবদন্তি ১০ নম্বর জার্সি।
আগামী ১৯ জুলাই (রোববার) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল। সেখানেই প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ম্যাচে একে অপরের বিপক্ষে মাঠে নামবেন লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামাল।
১৮ বছর আগে এক ফ্রেমে ধরা পড়েছিল একজন কিংবদন্তির হাত আর এক শিশুর ভবিষ্যৎ। আজ সেই শিশুই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে দাঁড়িয়ে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত তার শৈশবের সেই নায়ককে। ফুটবলের সৌন্দর্য হয়তো এখানেই—যেখানে একটি ছবি শুধু স্মৃতি নয়, সময়ের সেতুবন্ধন হয়ে ইতিহাসের জন্ম দেয়।

আপনার মতামত লিখুন