দিকপাল

এআই প্রযুক্তিতে মার্কিন আধিপত্য রুখতে নতুন বৈশ্বিক জোটের রূপরেখা দিলেন শি জিনপিং


শামিমা লিয়া
শামিমা লিয়া আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ | ১১:১৯ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

এআই প্রযুক্তিতে মার্কিন আধিপত্য রুখতে নতুন বৈশ্বিক জোটের রূপরেখা দিলেন শি জিনপিং


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বৈশ্বিক নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নতুন আন্তর্জাতিক এআই ব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি বলেছেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য উন্মুক্ত ও সবার নাগালের এআই প্রযুক্তি নিশ্চিত করতে নেতৃত্ব দেবে বেইজিং।

শুক্রবার সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কনফারেন্সের (ডব্লিউএআইসি) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে শি বলেন, উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক (ওপেন-সোর্স) এআই প্রযুক্তি বিশ্ববাসীর জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’। প্রযুক্তিতে অসম প্রবেশাধিকার যেন নতুন বৈষম্য সৃষ্টি না করে, সে জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে চীন সহযোগিতা করবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক এআই নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রযুক্তিগত নেতৃত্বে চীনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে তুলে ধরলেন শি জিনপিং। তিনি এআইকে বাষ্পীয় ইঞ্জিন ও বিদ্যুতের আবিষ্কারের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, চীন বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি ও দক্ষতা ভাগাভাগি করবে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড তৈরিতে নেতৃত্ব দেবে।

শি জিনপিংয়ের ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের নাম সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও, তার প্রস্তাবিত এআই সহযোগিতা কাঠামোকে ওয়াশিংটনের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগের বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে চীনের ওপেন-সোর্স এআই মডেলগুলো দ্রুতই ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তির সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছে যাচ্ছে।

সম্মেলনের দিনই বেইজিংভিত্তিক স্টার্টআপ মুনশট এআই তাদের নতুন কিমি কে৩ (Kimi K3) উন্মোচন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি প্যারামিটারের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ওপেন এআই মডেল। এর এক মাস আগে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র সরকার অ্যানথ্রপিকের অত্যাধুনিক এআই মডেল প্রত্যাহার করেছিল।

এআই নিরাপত্তা নিয়েও এদিন সবচেয়ে বিস্তৃত বক্তব্য দেন শি। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবশ্যই মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে আগাম সতর্কতা ও জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি মানব নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে—এমন স্বয়ংক্রিয় এআই ব্যবস্থার ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

চীনের উদ্যোগে গঠিত ওয়ার্ল্ড এআই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএআইসিও)-কে বৈশ্বিক এআই উন্নয়নের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন শি। বৃহস্পতিবার সংগঠনটিতে ২৯টি দেশ সদস্য হয়েছে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এআই পরিচালনা ব্যবস্থায় আরও বড় ভূমিকা চেয়ে আসছে, আর সেই চাহিদারই প্রতিফলন এই উদ্যোগ।

শি আরও ঘোষণা দেন, ব্রিকস, আসিয়ান, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে এআই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং সহযোগিতা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করবে চীন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা এখন কেবল উন্নত এআই মডেল তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং ভবিষ্যতের বৈশ্বিক এআই নীতিমালা ও মানদণ্ড নির্ধারণের নেতৃত্ব নিয়েও দুই পরাশক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হচ্ছে।

এশিয়া গ্রুপের ডিজিটাল প্র্যাকটিসের চেয়ারম্যান জর্জ চেন বলেন, শি জিনপিংয়ের বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট—এআই প্রযুক্তি কিংবা এর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নির্ধারণে চীন কারও অনুসারী হবে না; বরং নেতৃত্ব দিতে চায়।

১৭ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত চলা এই সম্মেলন এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন প্রথমবারের মতো সরকারি পর্যায়ে এআই সংলাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে প্রযুক্তি প্রদর্শনীর পাশাপাশি বৈশ্বিক এআই নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায়ও সম্মেলনটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


এআই প্রযুক্তিতে মার্কিন আধিপত্য রুখতে নতুন বৈশ্বিক জোটের রূপরেখা দিলেন শি জিনপিং

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬

featured Image


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বৈশ্বিক নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নতুন আন্তর্জাতিক এআই ব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি বলেছেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য উন্মুক্ত ও সবার নাগালের এআই প্রযুক্তি নিশ্চিত করতে নেতৃত্ব দেবে বেইজিং।

শুক্রবার সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কনফারেন্সের (ডব্লিউএআইসি) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে শি বলেন, উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক (ওপেন-সোর্স) এআই প্রযুক্তি বিশ্ববাসীর জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’। প্রযুক্তিতে অসম প্রবেশাধিকার যেন নতুন বৈষম্য সৃষ্টি না করে, সে জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে চীন সহযোগিতা করবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক এআই নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রযুক্তিগত নেতৃত্বে চীনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে তুলে ধরলেন শি জিনপিং। তিনি এআইকে বাষ্পীয় ইঞ্জিন ও বিদ্যুতের আবিষ্কারের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, চীন বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি ও দক্ষতা ভাগাভাগি করবে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড তৈরিতে নেতৃত্ব দেবে।

শি জিনপিংয়ের ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের নাম সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও, তার প্রস্তাবিত এআই সহযোগিতা কাঠামোকে ওয়াশিংটনের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগের বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে চীনের ওপেন-সোর্স এআই মডেলগুলো দ্রুতই ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তির সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছে যাচ্ছে।

সম্মেলনের দিনই বেইজিংভিত্তিক স্টার্টআপ মুনশট এআই তাদের নতুন কিমি কে৩ (Kimi K3) উন্মোচন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি প্যারামিটারের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ওপেন এআই মডেল। এর এক মাস আগে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র সরকার অ্যানথ্রপিকের অত্যাধুনিক এআই মডেল প্রত্যাহার করেছিল।

এআই নিরাপত্তা নিয়েও এদিন সবচেয়ে বিস্তৃত বক্তব্য দেন শি। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবশ্যই মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে আগাম সতর্কতা ও জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি মানব নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে—এমন স্বয়ংক্রিয় এআই ব্যবস্থার ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

চীনের উদ্যোগে গঠিত ওয়ার্ল্ড এআই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএআইসিও)-কে বৈশ্বিক এআই উন্নয়নের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন শি। বৃহস্পতিবার সংগঠনটিতে ২৯টি দেশ সদস্য হয়েছে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এআই পরিচালনা ব্যবস্থায় আরও বড় ভূমিকা চেয়ে আসছে, আর সেই চাহিদারই প্রতিফলন এই উদ্যোগ।

শি আরও ঘোষণা দেন, ব্রিকস, আসিয়ান, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে এআই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং সহযোগিতা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করবে চীন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা এখন কেবল উন্নত এআই মডেল তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং ভবিষ্যতের বৈশ্বিক এআই নীতিমালা ও মানদণ্ড নির্ধারণের নেতৃত্ব নিয়েও দুই পরাশক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হচ্ছে।

এশিয়া গ্রুপের ডিজিটাল প্র্যাকটিসের চেয়ারম্যান জর্জ চেন বলেন, শি জিনপিংয়ের বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট—এআই প্রযুক্তি কিংবা এর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নির্ধারণে চীন কারও অনুসারী হবে না; বরং নেতৃত্ব দিতে চায়।

১৭ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত চলা এই সম্মেলন এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন প্রথমবারের মতো সরকারি পর্যায়ে এআই সংলাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে প্রযুক্তি প্রদর্শনীর পাশাপাশি বৈশ্বিক এআই নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায়ও সম্মেলনটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল