যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা চালালে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের প্রস্তুতি নিতে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নির্দেশ দিয়েছে তেহরান। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
সূত্রগুলোর দাবি, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে এ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং হুথি নেতৃত্বের কাছে বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে কীভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কিংবা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির আগে নাকি পরে তা পাঠানো হয়েছে—সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা হুথিদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোতায়েন করে হামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে হুথিরা। এখন শুধু চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষা।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ইতোমধ্যে বন্ধ থাকায় বাব আল-মান্দেবেও নৌ চলাচল ব্যাহত হলে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি প্রধান তেল রপ্তানি পথ একযোগে অচল হয়ে পড়বে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হুথি-ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, ইয়েমেনে অবস্থানরত ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর প্রতিনিধিরাই বাব আল-মান্দেবে নৌ চলাচল বন্ধের সময় নির্ধারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই হুথিরা সৌদি আরব লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তাদের অভিযোগ, সৌদি বাহিনী ইয়েমেনে তাদের নিয়ন্ত্রিত একটি বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। এই হামলার মাধ্যমে চার বছর ধরে চলা তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির অবসান ঘটে।
ঝুঁকি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফটের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রধান বিশ্লেষক টরবিয়র্ন সলভেড্ট বলেন, সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে যদি লোহিত সাগরের জ্বালানি অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক নৌপথে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান বিকল্প পথও হুমকির মুখে পড়বে।
রিয়াদের ঘনিষ্ঠ দুটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান ও হুথিদের এই হুমকিকে সৌদি আরব অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তাদের মতে, লোহিত সাগর ইস্যুতে হুথিদের সঙ্গে ইরানের সমন্বয় আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়। এরপর সৌদি আরব তাদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল রপ্তানি লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে সরিয়ে নেয়। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৭ শতাংশ জ্বালানি এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হচ্ছে।
আঞ্চলিক একটি সূত্রের মতে, বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগতভাবে চাপে ফেলতেই লোহিত সাগরের নৌ চলাচল এবং সৌদি তেল রপ্তানিকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা করছে ইরান। ওই সূত্রের ভাষায়, বাব আল-মান্দেবে নৌ চলাচল ব্যাহত করতে অত্যাধুনিক অস্ত্রের প্রয়োজন নেই; সামান্য অস্ত্র দিয়েও এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ইরান হুথিদের অস্ত্র, অর্থ ও সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করছে। তেহরান অবশ্য বরাবরের মতোই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা চালালে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের প্রস্তুতি নিতে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নির্দেশ দিয়েছে তেহরান। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
সূত্রগুলোর দাবি, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে এ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং হুথি নেতৃত্বের কাছে বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে কীভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কিংবা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির আগে নাকি পরে তা পাঠানো হয়েছে—সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা হুথিদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোতায়েন করে হামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে হুথিরা। এখন শুধু চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষা।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ইতোমধ্যে বন্ধ থাকায় বাব আল-মান্দেবেও নৌ চলাচল ব্যাহত হলে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি প্রধান তেল রপ্তানি পথ একযোগে অচল হয়ে পড়বে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হুথি-ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, ইয়েমেনে অবস্থানরত ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর প্রতিনিধিরাই বাব আল-মান্দেবে নৌ চলাচল বন্ধের সময় নির্ধারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই হুথিরা সৌদি আরব লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তাদের অভিযোগ, সৌদি বাহিনী ইয়েমেনে তাদের নিয়ন্ত্রিত একটি বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। এই হামলার মাধ্যমে চার বছর ধরে চলা তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির অবসান ঘটে।
ঝুঁকি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফটের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রধান বিশ্লেষক টরবিয়র্ন সলভেড্ট বলেন, সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে যদি লোহিত সাগরের জ্বালানি অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক নৌপথে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান বিকল্প পথও হুমকির মুখে পড়বে।
রিয়াদের ঘনিষ্ঠ দুটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান ও হুথিদের এই হুমকিকে সৌদি আরব অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তাদের মতে, লোহিত সাগর ইস্যুতে হুথিদের সঙ্গে ইরানের সমন্বয় আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়। এরপর সৌদি আরব তাদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল রপ্তানি লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে সরিয়ে নেয়। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৭ শতাংশ জ্বালানি এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হচ্ছে।
আঞ্চলিক একটি সূত্রের মতে, বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগতভাবে চাপে ফেলতেই লোহিত সাগরের নৌ চলাচল এবং সৌদি তেল রপ্তানিকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা করছে ইরান। ওই সূত্রের ভাষায়, বাব আল-মান্দেবে নৌ চলাচল ব্যাহত করতে অত্যাধুনিক অস্ত্রের প্রয়োজন নেই; সামান্য অস্ত্র দিয়েও এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ইরান হুথিদের অস্ত্র, অর্থ ও সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করছে। তেহরান অবশ্য বরাবরের মতোই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আপনার মতামত লিখুন