গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার জামুডাঙ্গা এলাকায় ঘাঘট নদীর ওপর নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতুর সংযোগ সড়ক ভয়াবহ ধসের মুখে পড়েছে। গত দেড় মাস ধরে চলমান নদীভাঙনে ইতোমধ্যে সড়কটির একপাশের প্রায় দুইশত ফুটেরও বেশি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও নদীর পানির প্রবল চাপে সড়কের অবশিষ্ট অংশেও বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে সম্পূর্ণ সড়কটি ধসে উপজেলা শহরের সঙ্গে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথেই চলাচল করছেন হাজারো মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাদুল্লাপুর উপজেলা শহর থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার উত্তরে দামোদরপুর ইউনিয়নের জামুডাঙ্গা গ্রামে ঘাঘট নদীর ওপর এক যুগ আগে এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। জামুডাঙ্গা, মরুয়াদহ, কিশামত বড়বাড়ি, কিশামত খেজু ও কামারপাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের উপজেলা সদরে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এটি। বর্ষার শুরুতেই নদীর তীব্র স্রোতে সেতুর দক্ষিণ পাশের সংযোগ সড়কে ধস শুরু হয়। ভাঙন অব্যাহত থাকায় সড়কটি দিন দিন সরু হয়ে পিচ ও ইটের সলিং উঠে যাচ্ছে। এমনকি সেতুর প্রবেশমুখসহ বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এই পরিস্থিতি তৈরি হলেও ধস ঠেকাতে এখন পর্যন্ত বাঁশের পাইলিং কিংবা জিও ব্যাগ ফেলার মতো জরুরি কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক ও চালকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতি বছরই ভাঙনের পর দায়সারা সংস্কার করা হলেও স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না।
এ বিষয়ে সরকারের দুটি দপ্তরের মধ্যে এক ধরনের সমন্বয়হীনতা দেখা গেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দাবি করেছে, সড়কটি তাদের আওতাধীন হলেও নদীভাঙন প্রতিরোধের মূল দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো)। অন্যদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে যে জরুরি মেরামতের জন্য ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তহবিল ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলেই সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ও বাঁশের পাইলিংয়ের কাজ শুরু করা হবে।
সম্প্রতি ভাঙনকবলিত এই এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু। এলজিইডির কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তিনি দ্রুত মেরামত ও স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেন। দামোদরপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল মাজেদ মিয়া জানান, প্রতি বছরই এখানে অস্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয়, তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য একাধিকবার প্রস্তাব পাঠানো হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত নদীতীর সংরক্ষণ ও ব্লক পাইলিংয়ের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার জামুডাঙ্গা এলাকায় ঘাঘট নদীর ওপর নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতুর সংযোগ সড়ক ভয়াবহ ধসের মুখে পড়েছে। গত দেড় মাস ধরে চলমান নদীভাঙনে ইতোমধ্যে সড়কটির একপাশের প্রায় দুইশত ফুটেরও বেশি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও নদীর পানির প্রবল চাপে সড়কের অবশিষ্ট অংশেও বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে সম্পূর্ণ সড়কটি ধসে উপজেলা শহরের সঙ্গে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথেই চলাচল করছেন হাজারো মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাদুল্লাপুর উপজেলা শহর থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার উত্তরে দামোদরপুর ইউনিয়নের জামুডাঙ্গা গ্রামে ঘাঘট নদীর ওপর এক যুগ আগে এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। জামুডাঙ্গা, মরুয়াদহ, কিশামত বড়বাড়ি, কিশামত খেজু ও কামারপাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের উপজেলা সদরে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এটি। বর্ষার শুরুতেই নদীর তীব্র স্রোতে সেতুর দক্ষিণ পাশের সংযোগ সড়কে ধস শুরু হয়। ভাঙন অব্যাহত থাকায় সড়কটি দিন দিন সরু হয়ে পিচ ও ইটের সলিং উঠে যাচ্ছে। এমনকি সেতুর প্রবেশমুখসহ বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এই পরিস্থিতি তৈরি হলেও ধস ঠেকাতে এখন পর্যন্ত বাঁশের পাইলিং কিংবা জিও ব্যাগ ফেলার মতো জরুরি কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক ও চালকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতি বছরই ভাঙনের পর দায়সারা সংস্কার করা হলেও স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না।
এ বিষয়ে সরকারের দুটি দপ্তরের মধ্যে এক ধরনের সমন্বয়হীনতা দেখা গেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দাবি করেছে, সড়কটি তাদের আওতাধীন হলেও নদীভাঙন প্রতিরোধের মূল দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো)। অন্যদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে যে জরুরি মেরামতের জন্য ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তহবিল ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলেই সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ও বাঁশের পাইলিংয়ের কাজ শুরু করা হবে।
সম্প্রতি ভাঙনকবলিত এই এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু। এলজিইডির কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তিনি দ্রুত মেরামত ও স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেন। দামোদরপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল মাজেদ মিয়া জানান, প্রতি বছরই এখানে অস্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয়, তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য একাধিকবার প্রস্তাব পাঠানো হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত নদীতীর সংরক্ষণ ও ব্লক পাইলিংয়ের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন