দিকপাল

শেয়ারবাজারে চালু হচ্ছে স্ক্রিপ নেটিং: বিএসইসির অনুমোদন


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ | ১১:৪০ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

শেয়ারবাজারে চালু হচ্ছে স্ক্রিপ নেটিং: বিএসইসির অনুমোদন

দেশের শেয়ারবাজারকে আরও গতিশীল, দক্ষ ও আধুনিক করতে অবশেষে স্ক্রিপ নেটিং বা ইন্ট্রাডে ট্রেডিং (একই দিনে শেয়ার কেনাবেচা) চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর ফলে সেকেন্ডারি মার্কেটের বিনিয়োগকারীরা একই দিনে নির্দিষ্ট কোম্পানির শেয়ার কেনা ও বেচার ক্ষেত্রে নেটিং করার সুবিধা পাবেন।

মঙ্গলবার বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এই স্ক্রিপ নেটিং চালুর বিষয়টি অনুমোদন করা হয়। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নেটিং চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সব কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি নিশ্চিত সাপেক্ষে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই ও সিএসই) এই সম্মতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ক্যাপিট্যাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত এক সংলাপে বিএসইসি চেয়ারম্যান স্ক্রিপ নেটিং চালুর বিষয়ে আভাস দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ব্রোকারেজ হাউস মালিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ডে-নেটিং সুবিধা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হলেও বর্তমান বাজার বাস্তবতায় সব শেয়ারে এটি চালু করা সম্ভব নয়। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে ভালো মানের এবং ক্যাটাগরির নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির ক্ষেত্রে এই সুবিধা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে, যা শুরুতে ভালো মানের ৩০টি কোম্পানির মাধ্যমে শুরু হতে পারে।

ইন্ট্রাডে ট্রেডিং বা স্ক্রিপ নেটিং হলো এমন একটি লেনদেন ব্যবস্থা যেখানে একই দিনে শেয়ার কেনাবেচা করা গেলেও আলাদাভাবে সেটেলমেন্ট করার প্রয়োজন পড়ে না। দিনশেষে শুধুমাত্র নিট শেয়ারের হিসাব সেটেলমেন্ট করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো বিনিয়োগকারী যদি সকালে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির ১০০টি শেয়ার কেনেন, দুপুরে ৫০টি বিক্রি করেন এবং বিকেলে আবার ২০টি কেনেন, তবে দিনশেষে তার মোট লেনদেনের হিসাব হবে ৭০টি শেয়ার। এই ৭০টি শেয়ারের বিপরীতেই চূড়ান্ত অর্থ পরিশোধ বা শেয়ার ডেলিভারি সম্পন্ন হবে।

নতুন এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম জানান, স্ক্রিপ নেটিং বিশ্বজুড়ে একটি স্বীকৃত প্রথা হলেও দেশের বাজারে বিনিয়োগকারীদের সচেতনতার অভাব ও ভালো মানের সিকিউরিটিজের স্বল্পতার কারণে এতদিন এটি চালু করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও যোগ করেন, পরীক্ষামূলক বা পাইলটিং প্রকল্প হিসেবে ডিএসই-৩০ সূচকের কোম্পানিগুলো দিয়ে এটি শুরু করা যেতে পারে এবং পরবর্তীতে এর সফলতার ওপর ভিত্তি করে অন্যান্য সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রেও এটি পর্যায়ক্রমে চালু করা যায়।

ডিএসইর প্রস্তুতি প্রসঙ্গে ডিবিএ প্রেসিডেন্ট মনে করেন, স্টক এক্সচেঞ্জটি প্রযুক্তিগতভাবে প্রস্তুত থাকলেও সফটওয়্যারে কিছু আপগ্রেডেশনের প্রয়োজন হতে পারে। তবে সব তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য এ ব্যবস্থা পুরোপুরি সচল করতে সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিসিবিএল) সক্রিয়তা প্রয়োজন। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে সিসিবিএল যাত্রা শুরু করলেও দীর্ঘ ছয় বছরেও প্রতিষ্ঠানটি তাদের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬


শেয়ারবাজারে চালু হচ্ছে স্ক্রিপ নেটিং: বিএসইসির অনুমোদন

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

দেশের শেয়ারবাজারকে আরও গতিশীল, দক্ষ ও আধুনিক করতে অবশেষে স্ক্রিপ নেটিং বা ইন্ট্রাডে ট্রেডিং (একই দিনে শেয়ার কেনাবেচা) চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর ফলে সেকেন্ডারি মার্কেটের বিনিয়োগকারীরা একই দিনে নির্দিষ্ট কোম্পানির শেয়ার কেনা ও বেচার ক্ষেত্রে নেটিং করার সুবিধা পাবেন।

মঙ্গলবার বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এই স্ক্রিপ নেটিং চালুর বিষয়টি অনুমোদন করা হয়। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নেটিং চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সব কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি নিশ্চিত সাপেক্ষে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই ও সিএসই) এই সম্মতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ক্যাপিট্যাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত এক সংলাপে বিএসইসি চেয়ারম্যান স্ক্রিপ নেটিং চালুর বিষয়ে আভাস দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ব্রোকারেজ হাউস মালিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ডে-নেটিং সুবিধা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হলেও বর্তমান বাজার বাস্তবতায় সব শেয়ারে এটি চালু করা সম্ভব নয়। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে ভালো মানের এবং ক্যাটাগরির নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির ক্ষেত্রে এই সুবিধা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে, যা শুরুতে ভালো মানের ৩০টি কোম্পানির মাধ্যমে শুরু হতে পারে।

ইন্ট্রাডে ট্রেডিং বা স্ক্রিপ নেটিং হলো এমন একটি লেনদেন ব্যবস্থা যেখানে একই দিনে শেয়ার কেনাবেচা করা গেলেও আলাদাভাবে সেটেলমেন্ট করার প্রয়োজন পড়ে না। দিনশেষে শুধুমাত্র নিট শেয়ারের হিসাব সেটেলমেন্ট করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো বিনিয়োগকারী যদি সকালে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির ১০০টি শেয়ার কেনেন, দুপুরে ৫০টি বিক্রি করেন এবং বিকেলে আবার ২০টি কেনেন, তবে দিনশেষে তার মোট লেনদেনের হিসাব হবে ৭০টি শেয়ার। এই ৭০টি শেয়ারের বিপরীতেই চূড়ান্ত অর্থ পরিশোধ বা শেয়ার ডেলিভারি সম্পন্ন হবে।

নতুন এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম জানান, স্ক্রিপ নেটিং বিশ্বজুড়ে একটি স্বীকৃত প্রথা হলেও দেশের বাজারে বিনিয়োগকারীদের সচেতনতার অভাব ও ভালো মানের সিকিউরিটিজের স্বল্পতার কারণে এতদিন এটি চালু করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও যোগ করেন, পরীক্ষামূলক বা পাইলটিং প্রকল্প হিসেবে ডিএসই-৩০ সূচকের কোম্পানিগুলো দিয়ে এটি শুরু করা যেতে পারে এবং পরবর্তীতে এর সফলতার ওপর ভিত্তি করে অন্যান্য সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রেও এটি পর্যায়ক্রমে চালু করা যায়।

ডিএসইর প্রস্তুতি প্রসঙ্গে ডিবিএ প্রেসিডেন্ট মনে করেন, স্টক এক্সচেঞ্জটি প্রযুক্তিগতভাবে প্রস্তুত থাকলেও সফটওয়্যারে কিছু আপগ্রেডেশনের প্রয়োজন হতে পারে। তবে সব তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য এ ব্যবস্থা পুরোপুরি সচল করতে সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিসিবিএল) সক্রিয়তা প্রয়োজন। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে সিসিবিএল যাত্রা শুরু করলেও দীর্ঘ ছয় বছরেও প্রতিষ্ঠানটি তাদের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল