দিকপাল

৬০ বছরের বিতর্ক, ক্ষোভ আর গৌরব – আর্জেন্টিনার মুখোমুখি ইংল্যান্ড


স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ : সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ | ১০:২৭ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

৬০ বছরের বিতর্ক, ক্ষোভ আর গৌরব – আর্জেন্টিনার মুখোমুখি ইংল্যান্ড

ফুটবল বিশ্বে কিছু ম্যাচ শুধুই ৯০ মিনিটের লড়াই নয়; সেগুলো ইতিহাস, আবেগ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জাতীয় গৌরবের প্রতীক হয়ে ওঠে। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের দ্বৈরথ ঠিক তেমনই একটি অধ্যায়। দীর্ঘ কয়েক দশকের উত্তেজনা, বিতর্ক, ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এই দুই দলের প্রতিটি মুখোমুখিকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা। সেই বহুল প্রতীক্ষিত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আরেকটি অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে আগামী বুধবার (১৫ জুলাই) রাত ১টায়, যখন আটলান্টায় মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা এবং টমাস টুখেলের অধীনে ইংল্যান্ড।

দুই দলের বৈরিতার সূচনা ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপে হলেও, প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রকৃত রূপ দেখা যায় ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। ওয়েম্বলিতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক আন্তোনিও রাত্তিন বিতর্কিত সিদ্ধান্তে লাল কার্ড দেখেন। ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের কোচ আলফ রামসে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেন, যা দুই দেশের ফুটবল সম্পর্ককে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। ওই সময়ের বিতর্ক এবং মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা থেকেই পরবর্তীতে ফুটবলে লাল ও হলুদ কার্ড ব্যবস্থার প্রচলন শুরু হয়।

১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যায়। ফকল্যান্ড যুদ্ধের মাত্র চার বছর পর কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয় দুই দল। সেই ম্যাচে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা প্রথমে হাত দিয়ে করা বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং পরে একক নৈপুণ্যে ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলটি করে ইংল্যান্ডকে বিদায় করেন। ফুটবল ইতিহাসে এই দুটি গোল আজও সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম।

এরপর ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড এবং আর্জেন্টিনার টাইব্রেকারে জয় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করে। তবে ২০০২ সালের বিশ্বকাপে বেকহ্যামের একমাত্র পেনাল্টি গোলে জয় তুলে নিয়ে আগের আসরের হতাশার প্রতিশোধ নেয় ইংল্যান্ড। এরপরও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আসরে দুই দলের প্রতিটি সাক্ষাৎ বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

পরিসংখ্যানের দিক থেকে বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। এর মধ্যে তিনটি ম্যাচে জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড, আর দুটি ম্যাচে জিতেছে আর্জেন্টিনা। তবে সংখ্যার হিসাবের চেয়েও এই লড়াইকে বিশেষ করে তুলেছে এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, মাঠের নাটকীয়তা এবং দুই দেশের সমর্থকদের আবেগ। তাই আগামী ম্যাচটিও কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং বহু বছরের প্রতিদ্বন্দ্বিতার আরেকটি নতুন অধ্যায় হিসেবে ফুটবল ইতিহাসে স্থান করে নিতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬


৬০ বছরের বিতর্ক, ক্ষোভ আর গৌরব – আর্জেন্টিনার মুখোমুখি ইংল্যান্ড

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

ফুটবল বিশ্বে কিছু ম্যাচ শুধুই ৯০ মিনিটের লড়াই নয়; সেগুলো ইতিহাস, আবেগ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জাতীয় গৌরবের প্রতীক হয়ে ওঠে। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের দ্বৈরথ ঠিক তেমনই একটি অধ্যায়। দীর্ঘ কয়েক দশকের উত্তেজনা, বিতর্ক, ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এই দুই দলের প্রতিটি মুখোমুখিকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা। সেই বহুল প্রতীক্ষিত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আরেকটি অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে আগামী বুধবার (১৫ জুলাই) রাত ১টায়, যখন আটলান্টায় মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা এবং টমাস টুখেলের অধীনে ইংল্যান্ড।

দুই দলের বৈরিতার সূচনা ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপে হলেও, প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রকৃত রূপ দেখা যায় ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। ওয়েম্বলিতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক আন্তোনিও রাত্তিন বিতর্কিত সিদ্ধান্তে লাল কার্ড দেখেন। ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের কোচ আলফ রামসে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেন, যা দুই দেশের ফুটবল সম্পর্ককে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। ওই সময়ের বিতর্ক এবং মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা থেকেই পরবর্তীতে ফুটবলে লাল ও হলুদ কার্ড ব্যবস্থার প্রচলন শুরু হয়।

১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যায়। ফকল্যান্ড যুদ্ধের মাত্র চার বছর পর কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয় দুই দল। সেই ম্যাচে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা প্রথমে হাত দিয়ে করা বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং পরে একক নৈপুণ্যে ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলটি করে ইংল্যান্ডকে বিদায় করেন। ফুটবল ইতিহাসে এই দুটি গোল আজও সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম।

এরপর ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড এবং আর্জেন্টিনার টাইব্রেকারে জয় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করে। তবে ২০০২ সালের বিশ্বকাপে বেকহ্যামের একমাত্র পেনাল্টি গোলে জয় তুলে নিয়ে আগের আসরের হতাশার প্রতিশোধ নেয় ইংল্যান্ড। এরপরও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আসরে দুই দলের প্রতিটি সাক্ষাৎ বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

পরিসংখ্যানের দিক থেকে বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। এর মধ্যে তিনটি ম্যাচে জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড, আর দুটি ম্যাচে জিতেছে আর্জেন্টিনা। তবে সংখ্যার হিসাবের চেয়েও এই লড়াইকে বিশেষ করে তুলেছে এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, মাঠের নাটকীয়তা এবং দুই দেশের সমর্থকদের আবেগ। তাই আগামী ম্যাচটিও কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং বহু বছরের প্রতিদ্বন্দ্বিতার আরেকটি নতুন অধ্যায় হিসেবে ফুটবল ইতিহাসে স্থান করে নিতে পারে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল