দিকপাল

নরমাল ডেলিভারি রুম না থাকলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬ | ১১:৩১ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

নরমাল ডেলিভারি রুম না থাকলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রতিটি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে আগামী শনিবারের মধ্যে ‘নরমাল ডেলিভারি রুম’ (স্বাভাবিক প্রসব কক্ষ) নিশ্চিত করার জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আজ সোমবার (৬ জুলাই) সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান।

গর্ভবতী মায়েদের অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন বা অস্ত্রোপচার কমিয়ে নরমাল ডেলিভারিতে উদ্বুদ্ধ করতেই সরকার এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আগে গ্রামীণ জনপদে দক্ষ দাইরা প্রসবের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন, যা ছিল আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির একটি সুন্দর অংশ। কিন্তু দেশ উন্নত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এখন সেই চিরাচরিত পদ্ধতিটি হারিয়ে যাচ্ছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সিজারের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।”

সিজারিয়ান প্রসবের নেতিবাচক দিক তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া শিশুদের অনেক সময় মায়ের প্রথম পুষ্টিকর শালদুধ দেওয়া সম্ভব হয় না, যা নবজাতকের বড় ধরনের পুষ্টির ঘাটতি তৈরি করে। একইভাবে অতীতে যে হাম রোগকে ‘ঘামাচির বড় ভাই’ মনে করা হতো, পুষ্টির চরম অভাবের কারণে সেই হাম-ই এখন মারাত্মক রূপ নিচ্ছে।” মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টির সার্বিক উন্নয়ন ছাড়া দেশের টেকসই ও সুষম অর্থনীতি গড়ে তোলা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দেশের স্বাস্থ্য খাতের জনবল কাঠামো নিয়ে এক বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকার দেশব্যাপী দ্রুত ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছে। মাঠ পর্যায়ের সেবার মান বাড়াতে এই বিশাল নিয়োগের মধ্যে ৮০ হাজারই নেওয়া হবে নারী স্বাস্থ্যকর্মী এবং এর মধ্যে সিংহভাগই থাকবেন দক্ষ ‘মিডওয়াইফ’ (ধাত্রী)। চিকিৎসাসেবার মাঠপর্যায়ে নারীদের এই অংশগ্রহণ দেশের মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমাতে এবং নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬


নরমাল ডেলিভারি রুম না থাকলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

দেশের প্রতিটি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে আগামী শনিবারের মধ্যে ‘নরমাল ডেলিভারি রুম’ (স্বাভাবিক প্রসব কক্ষ) নিশ্চিত করার জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আজ সোমবার (৬ জুলাই) সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান।

গর্ভবতী মায়েদের অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন বা অস্ত্রোপচার কমিয়ে নরমাল ডেলিভারিতে উদ্বুদ্ধ করতেই সরকার এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আগে গ্রামীণ জনপদে দক্ষ দাইরা প্রসবের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন, যা ছিল আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির একটি সুন্দর অংশ। কিন্তু দেশ উন্নত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এখন সেই চিরাচরিত পদ্ধতিটি হারিয়ে যাচ্ছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সিজারের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।”

সিজারিয়ান প্রসবের নেতিবাচক দিক তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া শিশুদের অনেক সময় মায়ের প্রথম পুষ্টিকর শালদুধ দেওয়া সম্ভব হয় না, যা নবজাতকের বড় ধরনের পুষ্টির ঘাটতি তৈরি করে। একইভাবে অতীতে যে হাম রোগকে ‘ঘামাচির বড় ভাই’ মনে করা হতো, পুষ্টির চরম অভাবের কারণে সেই হাম-ই এখন মারাত্মক রূপ নিচ্ছে।” মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টির সার্বিক উন্নয়ন ছাড়া দেশের টেকসই ও সুষম অর্থনীতি গড়ে তোলা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দেশের স্বাস্থ্য খাতের জনবল কাঠামো নিয়ে এক বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকার দেশব্যাপী দ্রুত ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছে। মাঠ পর্যায়ের সেবার মান বাড়াতে এই বিশাল নিয়োগের মধ্যে ৮০ হাজারই নেওয়া হবে নারী স্বাস্থ্যকর্মী এবং এর মধ্যে সিংহভাগই থাকবেন দক্ষ ‘মিডওয়াইফ’ (ধাত্রী)। চিকিৎসাসেবার মাঠপর্যায়ে নারীদের এই অংশগ্রহণ দেশের মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমাতে এবং নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল