দিকপাল

প্রধানমন্ত্রীর গুলশানের বাসভবন কেপিআই ঘোষণা


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬ | ১১:২৪ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রীর গুলশানের বাসভবন কেপিআই ঘোষণা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজধানীর গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবনকে বিশেষ শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই-Key Point Installation) হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এর ফলে এই বাসভবনটি এখন থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় এসেছে এবং এর চারপাশে একটি নিভেদ্রিত বিশেষ নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুন কেপিআই-সংক্রান্ত কমিটির (কেপিআইডিসি) মাসিক সভায় গুলশানের এই বাসভবনটিকে বিশেষ শ্রেণির কেপিআই হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জোর সুপারিশ করা হয়। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারের সম্মতির পর ১৫ জুন আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় এবং গত শুক্রবার এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়।

ঐতিহাসিক এই বাড়িটির পটভূমি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৮১ সালের ৩১ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তাঁর স্ত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে গুলশান এলাকায় প্রায় দেড় বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই বাড়িটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে গত বছরের ৫ জুন অন্তর্বর্তী সরকার খালেদা জিয়ার হাতে এই বাড়ির নামজারির অফিসিয়াল কাগজ হস্তান্তর করে। নামজারি সম্পন্ন হওয়ার পর বাড়িটি আধুনিকায়ন ও সংস্কার করা হয়। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে প্রত্যাবর্তনের পর তারেক রহমান সপরিবারে এই বাসভবনে ওঠেন। পরবর্তীতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরও তিনি এই গুলশানের বাসভবন থেকেই তাঁর মূল সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। উল্লেখ্য, সরকারপ্রধানের জন্য রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ প্রস্তুত রাখা হলেও তিনি সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না।

বিশেষ শ্রেণির কেপিআই ঘোষণার ফলে এই বাসভবনের আঙিনা, কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর তথ্য, নথি ও প্রশাসনিক দলিলের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য বিশেষায়িত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আঙিনা নিরাপত্তার আওতায় বহিঃনিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পৃথক নিখুঁত রূপরেখা প্রণয়ন করা হবে, যা তদারকি করবে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ নিরাপত্তা কমিটি।

নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের চারপাশের সীমানা প্রাচীরের উচ্চতা কমপক্ষে ১২ ফুট হতে হবে এবং এর উপরে আরো তিন ফুট উচ্চতার ‘ওয়াই’ (Y) আকৃতির কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়াও নিরাপত্তার স্বার্থে আশেপাশের সুউচ্চ ভবনগুলো থেকে ছবি তোলা, নজরদারি ও সম্ভাব্য স্নাইপার হামলার ঝুঁকি মূল্যায়ন করে বিশেষ পর্যবেক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই কেপিআই স্থাপনার ১৫০ থেকে ৩০০ মিটারের মধ্যে যেকোনো উচ্চ ভবন নির্মাণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ ‘কেপিআই ছাড়পত্র’ নিতে হবে এবং ভবনের ঠিক ২৫ মিটারের মধ্যে নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। একই সাথে সীমানার ৫ ফুটের মধ্যে থাকা বিদ্যুৎ-টেলিফোনের খুঁটি বা ঝুঁকিপূর্ণ গাছপালা দ্রুত অপসারণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই বাসভবনের অভ্যন্তরীণ সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টা নিয়োজিত থাকবেন প্রেসিডেন্ট গার্ডস রেজিমেন্টের (পিজিআর) সদস্যরা। তাঁদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিটও এই নিরাপত্তাব্যবস্থায় যুক্ত থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সরকারপ্রধান ও তাঁর পরিবারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রমের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই গুলশানের এই বাসভবনকে বিশেষ শ্রেণির কেপিআই মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬


প্রধানমন্ত্রীর গুলশানের বাসভবন কেপিআই ঘোষণা

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজধানীর গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবনকে বিশেষ শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই-Key Point Installation) হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এর ফলে এই বাসভবনটি এখন থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় এসেছে এবং এর চারপাশে একটি নিভেদ্রিত বিশেষ নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুন কেপিআই-সংক্রান্ত কমিটির (কেপিআইডিসি) মাসিক সভায় গুলশানের এই বাসভবনটিকে বিশেষ শ্রেণির কেপিআই হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জোর সুপারিশ করা হয়। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারের সম্মতির পর ১৫ জুন আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় এবং গত শুক্রবার এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়।

ঐতিহাসিক এই বাড়িটির পটভূমি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৮১ সালের ৩১ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তাঁর স্ত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে গুলশান এলাকায় প্রায় দেড় বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই বাড়িটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে গত বছরের ৫ জুন অন্তর্বর্তী সরকার খালেদা জিয়ার হাতে এই বাড়ির নামজারির অফিসিয়াল কাগজ হস্তান্তর করে। নামজারি সম্পন্ন হওয়ার পর বাড়িটি আধুনিকায়ন ও সংস্কার করা হয়। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে প্রত্যাবর্তনের পর তারেক রহমান সপরিবারে এই বাসভবনে ওঠেন। পরবর্তীতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরও তিনি এই গুলশানের বাসভবন থেকেই তাঁর মূল সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। উল্লেখ্য, সরকারপ্রধানের জন্য রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ প্রস্তুত রাখা হলেও তিনি সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না।

বিশেষ শ্রেণির কেপিআই ঘোষণার ফলে এই বাসভবনের আঙিনা, কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর তথ্য, নথি ও প্রশাসনিক দলিলের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য বিশেষায়িত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আঙিনা নিরাপত্তার আওতায় বহিঃনিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পৃথক নিখুঁত রূপরেখা প্রণয়ন করা হবে, যা তদারকি করবে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ নিরাপত্তা কমিটি।

নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের চারপাশের সীমানা প্রাচীরের উচ্চতা কমপক্ষে ১২ ফুট হতে হবে এবং এর উপরে আরো তিন ফুট উচ্চতার ‘ওয়াই’ (Y) আকৃতির কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়াও নিরাপত্তার স্বার্থে আশেপাশের সুউচ্চ ভবনগুলো থেকে ছবি তোলা, নজরদারি ও সম্ভাব্য স্নাইপার হামলার ঝুঁকি মূল্যায়ন করে বিশেষ পর্যবেক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই কেপিআই স্থাপনার ১৫০ থেকে ৩০০ মিটারের মধ্যে যেকোনো উচ্চ ভবন নির্মাণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ ‘কেপিআই ছাড়পত্র’ নিতে হবে এবং ভবনের ঠিক ২৫ মিটারের মধ্যে নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। একই সাথে সীমানার ৫ ফুটের মধ্যে থাকা বিদ্যুৎ-টেলিফোনের খুঁটি বা ঝুঁকিপূর্ণ গাছপালা দ্রুত অপসারণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই বাসভবনের অভ্যন্তরীণ সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টা নিয়োজিত থাকবেন প্রেসিডেন্ট গার্ডস রেজিমেন্টের (পিজিআর) সদস্যরা। তাঁদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিটও এই নিরাপত্তাব্যবস্থায় যুক্ত থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সরকারপ্রধান ও তাঁর পরিবারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রমের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই গুলশানের এই বাসভবনকে বিশেষ শ্রেণির কেপিআই মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল