দিকপাল

তরুণদের চাকরির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না: সংসদে প্রধানমন্ত্রী


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ | ০৪:২১ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

তরুণদের চাকরির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে এমন একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে যার ফলে তরুণ সমাজকে আর চাকরির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে। আজ সোমবার (২৯ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে বাজেট বক্তৃতায় তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে একমত পোষণ করে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সরকার দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকটকে কোনোভাবেই অস্বীকার করতে চায় না। তবে এই সংকটকে কোনো অজুহাত হিসেবেও ব্যবহার করা হবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সুদৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতিমালার মাধ্যমে এই অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করা হবে। সরকারের যাত্রালগ্ন থেকেই বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে যে বিশাল বৈশ্বিক চাপ তৈরি হয়েছিল, তা দেশের সাধারণ মানুষও অনুধাবন করতে পেরেছে। এমন একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও বহুমুখী সংকটময় পরিস্থিতিকে সামনে রেখেই বর্তমান সরকারকে এবারের বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ সরকারকে যে পবিত্র দায়িত্ব দিয়েছে, তা রক্ষা করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর এবং সরকারের মূল দর্শনই হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।

‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামে উপস্থাপিত এবারের বাজেটকে কেবল বার্ষিক আয়-ব্যয়ের একটি প্রথাগত হিসাব নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতিকে একটি নতুন ও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নয় লাখ আটত্রিশ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটের অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো দেশের অর্থনীতিকে মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীদের কবল থেকে মুক্ত করে এনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বিনিয়োগ ও উৎপাদনের চাকা বেগবান করতে সরকার উন্নয়ন ব্যয় ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি করে তিন লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করেছে। সরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রকল্পের পেছনে কত টাকা ব্যয় হলো তা বড় বিষয় নয়, বরং সেই প্রকল্প মানুষের জীবনে কী ভূমিকা রাখবে এবং কতটা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, সেটিই সরকারের মূল বিবেচনা।

অর্থনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নে সরকারের সুনির্দিষ্ট তিনটি ধাপের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথম ধাপে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে গুরুত্ব দেওয়া হবে রাজস্ব সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর। আর চূড়ান্ত ধাপে উৎপাদনশীল ও উদ্ভাবননির্ভর একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ অর্থনীতির ভিত সুদৃঢ় করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়লেই দেশে প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত হয় না। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই দৃশ্যমান হয়, যখন সাধারণ মানুষের ঘরে স্বস্তি আসে এবং তরুণরা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ পায়। দেশের শিল্প খাতের বিকাশ, রুগ্ন কারখানাগুলোর পুনরুজ্জীবন এবং নতুন শিল্পাঞ্চল ভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ঋণনির্ভর নয়, বরং উৎপাদন ও বিনিয়োগনির্ভর একটি শক্তিশালী রপ্তানিমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬


তরুণদের চাকরির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে এমন একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে যার ফলে তরুণ সমাজকে আর চাকরির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে। আজ সোমবার (২৯ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে বাজেট বক্তৃতায় তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে একমত পোষণ করে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সরকার দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকটকে কোনোভাবেই অস্বীকার করতে চায় না। তবে এই সংকটকে কোনো অজুহাত হিসেবেও ব্যবহার করা হবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সুদৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতিমালার মাধ্যমে এই অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করা হবে। সরকারের যাত্রালগ্ন থেকেই বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে যে বিশাল বৈশ্বিক চাপ তৈরি হয়েছিল, তা দেশের সাধারণ মানুষও অনুধাবন করতে পেরেছে। এমন একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও বহুমুখী সংকটময় পরিস্থিতিকে সামনে রেখেই বর্তমান সরকারকে এবারের বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ সরকারকে যে পবিত্র দায়িত্ব দিয়েছে, তা রক্ষা করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর এবং সরকারের মূল দর্শনই হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।

‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামে উপস্থাপিত এবারের বাজেটকে কেবল বার্ষিক আয়-ব্যয়ের একটি প্রথাগত হিসাব নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতিকে একটি নতুন ও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নয় লাখ আটত্রিশ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটের অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো দেশের অর্থনীতিকে মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীদের কবল থেকে মুক্ত করে এনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বিনিয়োগ ও উৎপাদনের চাকা বেগবান করতে সরকার উন্নয়ন ব্যয় ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি করে তিন লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করেছে। সরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রকল্পের পেছনে কত টাকা ব্যয় হলো তা বড় বিষয় নয়, বরং সেই প্রকল্প মানুষের জীবনে কী ভূমিকা রাখবে এবং কতটা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, সেটিই সরকারের মূল বিবেচনা।

অর্থনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নে সরকারের সুনির্দিষ্ট তিনটি ধাপের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথম ধাপে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে গুরুত্ব দেওয়া হবে রাজস্ব সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর। আর চূড়ান্ত ধাপে উৎপাদনশীল ও উদ্ভাবননির্ভর একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ অর্থনীতির ভিত সুদৃঢ় করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়লেই দেশে প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত হয় না। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই দৃশ্যমান হয়, যখন সাধারণ মানুষের ঘরে স্বস্তি আসে এবং তরুণরা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ পায়। দেশের শিল্প খাতের বিকাশ, রুগ্ন কারখানাগুলোর পুনরুজ্জীবন এবং নতুন শিল্পাঞ্চল ভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ঋণনির্ভর নয়, বরং উৎপাদন ও বিনিয়োগনির্ভর একটি শক্তিশালী রপ্তানিমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল