দিকপাল

উড্ডয়নের পরই যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা নিহত ১২


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ | ০৪:২৪ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

উড্ডয়নের পরই যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা নিহত ১২

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে একটি ছোট যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ ১২ আরোহীর সবাই প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় সময় রবিবার সকাল ১১টা ২০ মিনিটে বাটলার মেমোরিয়াল বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ে। স্কাইডাইভিংয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা এই বিমানের আরোহীদের পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি প্রশাসন। তবে দুর্ঘটনাস্থলের ভয়াবহতা দেখে একে ‘গণহতাহতের পরিস্থিতি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্থানীয় জরুরি বিভাগ।

বেটস কাউন্টি জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, বিমানটি রানওয়ে থেকে উড্ডয়নের পর প্রয়োজনীয় উচ্চতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। এটি হঠাৎ করেই বাম দিকে মোড় নেয় এবং বিমানবন্দর থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে আছড়ে পড়ে। বিমানটিতে ১১ জন স্কাইডাইভার ও একজন পাইলট ছিলেন। দুর্ঘটনার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে আরোহীদের সবার ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরপরই বিমানটিতে দাউদাউ করে আগুন ধরে যায়। ঘটনার সময় আকাশ সম্পূর্ণ পরিষ্কার ছিল এবং ছোট বিমান হওয়ায় এটি কোনো এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC) সেবার আওতাভুক্ত ছিল না। ফলে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাথমিক সংকেত পাওয়া যায়নি। স্থানীয় শেরিফ চ্যাড অ্যান্ডারসন জানান, স্কাইডাইভারদের বেশ কয়েকজন স্বজন বিমানবন্দরের কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন, যারা নিজেদের চোখের সামনেই এই মর্মান্তিক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন।

দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি নিউজিল্যান্ডের তৈরি ‘প্যাসিফিক অ্যারোস্পেস পি-৭৫০ এক্সএল’ (Pacific Aerospace P-750 XL) মডেলের ছিল। স্কাইডাইভিং পরিচালনার জন্য একটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠান বিমানটি লিজ নিয়েছিল।

উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই তারা আশপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালান। উড্ডয়নের পরপরই কোনো আরোহী প্যারাস্যুট নিয়ে আগে লাফিয়ে বের হতে পেরেছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হতেই এই চিরুনি অভিযান চালানো হয়। তবে দুর্ভাগ্যবশত কাউকেই জীবিত বা অক্ষত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। কানসাস সিটি মহানগর এলাকা থেকে প্রায় ৫০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত বাটলার শহরের এই ট্র্যাজেডিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বর্তমানে মার্কিন বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থা ‘ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড’ (NTSB) এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।

প্যাসিফিক অ্যারোস্পেস পি-৭৫০ মডেলের বিমানগুলো সাধারণত স্কাইডাইভিং ও স্বল্প দূরত্বের পণ্য পরিবহনের জন্য বিশ্বজুড়ে বেশ জনপ্রিয়। অত্যন্ত শক্তিশালী ইঞ্জিন এবং ছোট রানওয়ে থেকে দ্রুত উড্ডয়নের ক্ষমতার জন্য এটি পরিচিত হলেও, অতীতে বিভিন্ন দেশে এই মডেলের বিমানের বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত ওজন বহন কিংবা উড্ডয়নের সময় আকস্মিক যান্ত্রিক জটিলতার কারণে এর আগে স্কাইডাইভিংয়ের বিমান দুর্ঘটনার নজির রয়েছে। মিসৌরির এই দুর্ঘটনার পেছনে যান্ত্রিক ত্রুটি, জ্বালানি সংকট নাকি পাইলটের নিয়ন্ত্রণ হারানো দায়ী ছিল, তা এনটিএসবির চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


উড্ডয়নের পরই যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা নিহত ১২

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে একটি ছোট যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ ১২ আরোহীর সবাই প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় সময় রবিবার সকাল ১১টা ২০ মিনিটে বাটলার মেমোরিয়াল বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ে। স্কাইডাইভিংয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা এই বিমানের আরোহীদের পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি প্রশাসন। তবে দুর্ঘটনাস্থলের ভয়াবহতা দেখে একে ‘গণহতাহতের পরিস্থিতি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্থানীয় জরুরি বিভাগ।

বেটস কাউন্টি জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, বিমানটি রানওয়ে থেকে উড্ডয়নের পর প্রয়োজনীয় উচ্চতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। এটি হঠাৎ করেই বাম দিকে মোড় নেয় এবং বিমানবন্দর থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে আছড়ে পড়ে। বিমানটিতে ১১ জন স্কাইডাইভার ও একজন পাইলট ছিলেন। দুর্ঘটনার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে আরোহীদের সবার ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরপরই বিমানটিতে দাউদাউ করে আগুন ধরে যায়। ঘটনার সময় আকাশ সম্পূর্ণ পরিষ্কার ছিল এবং ছোট বিমান হওয়ায় এটি কোনো এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC) সেবার আওতাভুক্ত ছিল না। ফলে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাথমিক সংকেত পাওয়া যায়নি। স্থানীয় শেরিফ চ্যাড অ্যান্ডারসন জানান, স্কাইডাইভারদের বেশ কয়েকজন স্বজন বিমানবন্দরের কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন, যারা নিজেদের চোখের সামনেই এই মর্মান্তিক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন।

দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি নিউজিল্যান্ডের তৈরি ‘প্যাসিফিক অ্যারোস্পেস পি-৭৫০ এক্সএল’ (Pacific Aerospace P-750 XL) মডেলের ছিল। স্কাইডাইভিং পরিচালনার জন্য একটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠান বিমানটি লিজ নিয়েছিল।

উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই তারা আশপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালান। উড্ডয়নের পরপরই কোনো আরোহী প্যারাস্যুট নিয়ে আগে লাফিয়ে বের হতে পেরেছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হতেই এই চিরুনি অভিযান চালানো হয়। তবে দুর্ভাগ্যবশত কাউকেই জীবিত বা অক্ষত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। কানসাস সিটি মহানগর এলাকা থেকে প্রায় ৫০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত বাটলার শহরের এই ট্র্যাজেডিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বর্তমানে মার্কিন বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থা ‘ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড’ (NTSB) এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।

প্যাসিফিক অ্যারোস্পেস পি-৭৫০ মডেলের বিমানগুলো সাধারণত স্কাইডাইভিং ও স্বল্প দূরত্বের পণ্য পরিবহনের জন্য বিশ্বজুড়ে বেশ জনপ্রিয়। অত্যন্ত শক্তিশালী ইঞ্জিন এবং ছোট রানওয়ে থেকে দ্রুত উড্ডয়নের ক্ষমতার জন্য এটি পরিচিত হলেও, অতীতে বিভিন্ন দেশে এই মডেলের বিমানের বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত ওজন বহন কিংবা উড্ডয়নের সময় আকস্মিক যান্ত্রিক জটিলতার কারণে এর আগে স্কাইডাইভিংয়ের বিমান দুর্ঘটনার নজির রয়েছে। মিসৌরির এই দুর্ঘটনার পেছনে যান্ত্রিক ত্রুটি, জ্বালানি সংকট নাকি পাইলটের নিয়ন্ত্রণ হারানো দায়ী ছিল, তা এনটিএসবির চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল