শেরপুরের প্রান্তিক কৃষক সেন্টু কুমার হাজংয়ের ২১ বছরের সাধনায় ২৫টি নতুন ধানের জাত উদ্ভাবন
আধুনিক গবেষণাগার কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক বড় কোনো সহায়তা ছাড়াই দীর্ঘ ২১ বছরের নিরলস গবেষণায় নিজের ছোট্ট জমিতে একে একে ২৫টি নতুন ধানের জাত উদ্ভাবন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন শেরপুরের প্রান্তিক কৃষক সেন্টু কুমার হাজং। তবে এত বড় সাফল্যের পরেও সরকারি স্বীকৃতি ও পৃষ্ঠপোষকতা না পাওয়ায় কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেছেন এই উদ্ভাবক। [TECHTARANGA-POST:3262]আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের চাটকিয়া গ্রামের কৃষক সেন্টু কুমার হাজং মাত্র ১২ কাঠা জমিকে উন্মুক্ত গবেষণাগার বানিয়ে এই অনন্য সাফল্য অর্জন করেছেন। আর্থিক অনটনে এসএসসি পাসের পর প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেলেও কৃষিতে নতুন কিছু করার অদম্য আগ্রহ থেকে ২০০৫ সালে একটি এনজিও থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি এই কাজ শুরু করেন। বর্তমানে তার ১২ কাঠা জমিতে প্রায় ৪৪০টি পরীক্ষামূলক প্লট রয়েছে, যেখানে প্রাকৃতিক সংকরায়ণ বা ব্রিডিং পদ্ধতিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে তিনি ‘সেন্টু-১’ থেকে ‘সেন্টু-২৫’ পর্যন্ত নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করেছেন। তার উদ্ভাবিত এসব ধানে সাধারণ জাতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ফলন মিলছে। [TECHTARANGA-POST:3252]সেন্টুর উদ্ভাবিত ধানের সুফল পেয়ে স্থানীয় কৃষক সুমন্ত বর্মণ ও ওসমান গণিসহ শেরপুর ও এর বাইরে বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকেরা তার কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করছেন; বিশেষ করে তাঁর প্রথম সফল জাত ‘সেন্টু শাইল’ এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পাশাপাশি তিনি হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী বগি, হালই, গোলাপী ও খাসিয়াবিন্নির মতো দেশি জাত সংরক্ষণেও কাজ করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন তাঁর গবেষণার মাঠ পরিদর্শন করে তাঁর কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং সরকারি স্বীকৃতি ও পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছেন।