দিকপাল

গুচ্ছকবিতা

নদীর  দৃশ্যনদীর দৃশ্য আমাদের দেয় সুখ,কিন্তু কেউ কি দেখেছো তার দুখ?উফফ তার উতাল -পাতালে কারো বাসর সাজেকারোরই বা  ঘর ভাঙে।সেই সংসার নামক যাতাকলে পিষ্ট হয় হাজারো নারী।এই নদী তখন  সেই নারীর আহাজারির সাক্ষী হয়।সাক্ষী হয় তার পাপ -পুণ্যের জীবন বাজির  মায়ায়।নদী শুষে নেয় তার সকল অশ্রুশক্তি দেয় কষ্টের জীবন শুষে নেওয়ার  পাশে দাড়ানোর অভয়ে।সুখহীন ধরাকোনোদিন আসে  না যেন  তোমার স্মৃতি। আর কোনোদিন ফিরে না আসুক সেই  মুখছবি।রাস্তাটি হয়ে যাকঅমসৃণ গর্তে ভরা।পড়ন্ত বিকেলটা  হয়ে যাক কোন  সুখহীন ধরা।একদিন পাখি হবো  দূর আকাশে উড়ে.মন  বেঁধে  রেখেছি শুণ্য এই হৃদয়ে।বাজবে না বাঁশি আর উদার সুরে মিলাব না হাত আর  তোমার হাতে।মিশে যাবো মাটিতে তোমার  আঘাত নিয়ে সাথে।ভালোবাসার বিশাল মঞ্চসকালে ঘুম থেকে উঠেতোমার  খোঁজ নিতে গিয়ে দেখি তুমি পাশে নেই।পশ্চিমের মাঠে দেখি মেঘের দল মিলেতৈরী করছে ভালোবাসার বিশাল মঞ্চ।তাই তোমার কাছে ছুটতে পার হলাম মাঠ.মঞ্চের দিকে তাকাতেই. চোখে  পরল  তোমাকেই। আমার শরীরটা কিছুটা কাঁপলোভাবলাম তোমাকে জড়িয়ে ধরব, দেখলাম দু.হাতে তোমার  ফুলের ঝুড়িতোমাকে ইশারা দিয়ে ডাকলাম।বললাম, এসো খুলে দিয়েছি আমার মনের বাগান।রাগ- ক্ষোভ ফেলেকুড়িয়ে নাও সমস্ত ফুল।ভাবি তুমি তোমার স্মৃতিতেমনে করছো সেই রাত।আমি ভাবতে ভাবতেতোমাতেই হারালাম। তোমাকে  দিয়ে দিলাম না পাওয়া  আমার  সকল  বিশ্বাসের দাম।মৃত্যুর মৃত্যুবরণমৃত্যু এখন মৃত্যুবরণ করেছে বয়সের  শেষ  সীমায় পৌছে গেছে।একদিন সে  শিশু ছিল,শিশুময় কাটিয়ে তারুণ্যে গেলো,যৌবন তার ভরপুর ছিলকিন্তু মানেনি শাসন মানেনি ডর ভয়মানেনি পৃথিবীর বাড়ন।ছুটেছে অজানা নেশায় ফিরেছে গ্লানি নিয়ে হতাশায়,ফিরবে না আর দাম্ভিকতা নিয়েশক্তির মাতম বানিয়ে।শুনছ  ওহে জগতবাসী আজ ডাল- পালা গজালেও পারেনি তা ধরে রাখতে। কেননা তা  উত্তপ্ত  য়ৌবনের নেশায়জ্বলে পুড়ে ছারখার  হয়ে গেছে।কী আয়ত্ত করবে কিসের প্রায়শ্চিত্ত  করবেতার হিসেব রাখেনি সে।অতচ সময় ফুরিয়েছে,মৃত্যু পাড়ি দিয়েছে তার নিজ গন্তব্যে হায়!জলপাখিএকদিন তুমি  আকাশের ঠিকানায় এসো,দেখবে আমি আকাশ রঙের নীল শাড়ি পড়ে বসে আছি তোমার অপেক্ষায়।দেখবে কল্পনার চেয়েও সুন্দরী আমি তোমার হাত ধরে সেই ঠিকানায় আমরা দেখব দূর থেকে জলপাখি।সমুদ্রের গর্জন শুনতে শুনতে বৃষ্টির দেখা মিলেভিজে যাব আমি- তুমি সেই ঠিকানায় দিনশেষে।আমার দু’চোখ ব্যথায় তোমার  হাত বুলিয়ে দিয়েদু’হাতের উষ্ণতা অনুভব করে হারিয়ে যাব।তোমার জন্য কাঁদতে কাঁদতে, ফুরিয়ে গেছে দু’চোখের জল।তোমাকে আমি যতবার ডেকেছিততবার  ডাকলে আমি পেয়ে যেতাম স্রষ্টার মন। তোমাকে যত আগলে রাখতে চেয়েছিযদি সেই আগলে রাখাটা নিজের মধ্যে নিজেকে কর‍তামমনকে সাজিয়ে রাখতে পারতাম অহর্নিশি।যতদূর তোমার শুন্যতাকে আড়াল করতে চেয়েছিততদিনে আমি চাঁদের কলংক মুছে দিতে পারতাম।তোমার জন্য  যতটুকু  হেঁটেছি ততটুকু  হাঁটলেআমি  আকাশ পাড়ি দিতে পারতাম।নোট : ধরা - পৃথিবী

গুচ্ছকবিতা