আইন কঠোর প্রয়োগ ও সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বানে পালিত হচ্ছে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস
সড়ক দুর্ঘটনা রোধ, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বানের মধ্য দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস’। সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরতে এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘নিরাপদ সড়ক, সমৃদ্ধ দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ’। দিবসটি উপলক্ষে লন্ডন থেকে পাঠানো এক বার্তায় 'নিরাপদ সড়ক চাই' (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন দেশবাসীকে ট্রাফিক আইন মেনে চলা ও দায়িত্বশীলভাবে যানবাহন চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। দিবসটি ঘিরে সকাল ১০টায় রাজধানীর কাকরাইলে নিসচার কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়। তিনি বলেন, অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালনা, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসার অভাবে বহু প্রাণহানি ঘটে। এ অবস্থা নিরসনে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয় জরুরি।এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩১ হাজার ৫৭৮ জনের মৃত্যু হলেও বিআরটিএ-এর হিসাবমতে ২০২৫ সালে নিহতের সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৪৯০ জন। সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে ইতোমধ্যে 'সড়ক নিরাপত্তা আইন, ২০২৬'-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে সরকার। প্রস্তাবিত এই আইনে আহতদের বিনামূল্যে জরুরি চিকিৎসা, সহায়তাকারীদের আইনি সুরক্ষা, ডিমেরিট পয়েন্ট ব্যবস্থা চালু এবং বারবার আইন লঙ্ঘনে দ্বিগুণ জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।চলতি মাসের ১৪ তারিখ সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, বৈশ্বিক ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকার ২০২৭ সালের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।সূত্র: সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং নিসচা