প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬
এআই মামলার নামে ভুয়া লিঙ্ক, সতর্ক করল বিআরটিএ , ডিএমপি
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
রাজধানীর সড়কগুলোতে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি সমৃদ্ধ আধুনিক ক্যামেরা চালুর পর থেকেই এক অভিনব ও সুসংগঠিত প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এআই ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে মামলা হয়েছে এবং এর জন্য দ্রুত জরিমানা পরিশোধ করতে হবে—এমন তথ্য জানিয়ে সাধারণ গাড়িচালক ও মালিকদের মুঠোফোনে ভুয়া খুদে বার্তা পাঠাচ্ছে একটি চক্র। তবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআরটিএ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বা ডিএমপির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই ধরণের কোনো বার্তা বা খুদে বার্তা তাদের তরফ থেকে পাঠানো হচ্ছে না। একই সাথে এই মারাত্মক প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে সর্বস্তরের নাগরিক ও যানবাহন মালিকদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।প্রতারক চক্রের পাঠানো ‘জরিমানা পরিশোধসংক্রান্ত চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি’ শিরোনামের ওই ভুয়া বার্তায় অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কাল্পনিক জরিমানার নম্বর, তারিখ, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ধরন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে কঠোর আইনি শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, জরিমানা পরিশোধের শেষ সময়সীমা মনে করিয়ে দিয়ে বার্তার সাথে একটি সন্দেহভাজন ইন্টারনেট লিংক বা ওয়েবসাইটের ঠিকানাও জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। কৌতূহলবশত বা আইনি জটিলতা এড়াতে সাধারণ মানুষ যখনই সেই লিংকে প্রবেশ করছেন, তখনই সেখানে জরিমানার একটি বড় অংকের পরিমাণ প্রদর্শন করা হচ্ছে, যা দেখে অনেকেই আতঙ্কে টাকা পরিশোধ করে দিচ্ছেন।সম্প্রতি বিআরটিএর প্রধান কার্যালয় থেকে জারি করা এক জরুরি সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, একটি অসাধু ও অপরাধী চক্র বিভিন্ন সাধারণ মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে চালকদের বিভ্রান্ত করছে। তারা মুঠোফোনে ‘গতিসীমা লঙ্ঘনের কারণে জরিমানা বকেয়া রয়েছে, দ্রুত পরিশোধ করুন’ অথবা ‘আপনার গাড়ির নামে বকেয়া জরিমানা আছে’—এই জাতীয় প্রতারণামূলক বার্তা পাঠাচ্ছে। এসব বার্তার সাথে যে সমস্ত ভুয়া ওয়েবসাইটের লিংক দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো দেখতে হুবহু বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালের আসল ওয়েবসাইটের মতো তৈরি করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় এই পরিবহন সংস্থাটি জোর দিয়ে জানিয়েছে, এসব ভুয়া ওয়েবসাইট বা পোর্টালের সাথে তাদের অফিশিয়াল পোর্টালের কোনো ধরণের সম্পর্ক বা সংযুক্তি নেই। এগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ এবং প্রতারণামূলক কার্যক্রমের অংশ। সাধারণ মানুষকে এ ধরনের কোনো বার্তার লিংকে ক্লিক না করতে, কোনো ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার না করতে এবং সব ধরণের আর্থিক লেনদেন থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, কেউ এমন প্রতারণার শিকার হলে বা বার্তা পেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নিকটস্থ স্থানীয় থানা অথবা পুলিশের সাইবার অপরাধ তদন্ত ইউনিটকে অবহিত করার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।অন্য দিকে, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের নাম ব্যবহার করে পাঠানো এই জরিমানাসংক্রান্ত খুদে বার্তাগুলোকে সম্পূর্ণ বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। ডিএমপির পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ট্রাফিক জরিমানা আদায়ের বিষয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মুঠোফোনে নগরবাসী ভুয়া বার্তা পাচ্ছেন বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করেছে যে, এ ধরনের কোনো বার্তার সাথে তাদের বিন্দুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক সংশ্লিষ্টতা নেই। সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুযায়ী যদি কোনো যানবাহনের বিরুদ্ধে বাস্তবে কোনো মামলা দায়ের করা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষরযুক্ত একটি অফিশিয়াল ও কাগজের চিঠি চালক বা মালিকের নিবন্ধিত স্থায়ী ঠিকানায় পাঠানো হয়ে থাকে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে যদি কোনো বার্তা পাঠানো হয়, তবে তা কেবল শূন্য এক তিন দুই শূন্য—শূন্য চার দুই দুই শূন্য সাত এবং শূন্য এক তিন দুই শূন্য—শূন্য চার দুই দুই দুই সাত নম্বর দুটি থেকেই পাঠানো হতে পারে। এর বাইরে অন্য কোনো নম্বর থেকে পাঠানো বার্তা বৈধ নয়।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্রাফিক বিভাগের জরিমানা করা যানবাহনের ক্ষেত্রে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের নির্দিষ্ট দুটি বৈধ মাধ্যমের সাহায্যেই কেবল অর্থ পরিশোধের আইনগত সুযোগ রয়েছে। ট্রাফিক বিভাগ বা পুলিশের কোনো সদস্য কখনোই কোনো ব্যক্তির কাছে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যক্তিগত গোপন নম্বর, পাসওয়ার্ড কিংবা ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড বা এককালীন ব্যবহারের গোপন কোড জানতে চায় না। তাই এ ধরনের ডিজিটাল প্রতারণা ও জালিয়াতি থেকে বাঁচতে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। ট্রাফিকসংক্রান্ত যে কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই করার জন্য ডেল্টা-৩ অথবা নির্দিষ্ট সরকারি নম্বরগুলোতে এবং প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার জন্য জনসাধারণের প্রতি বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল