প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬
আদালতে তোলা হলো রামিসা হত্যা মামলার আসামিদের
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
রাজধানীর পল্লবীতে স্কুলছাত্রী শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আজ সোমবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে এই মামলার দুই আসামিকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে নিয়ে আসা হয় এবং তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। আজই আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বা চার্জ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। এর আগে গত ২৪ মে ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মামলার অভিযোগপত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে আমলে নেন এবং শুনানির জন্য আজকের এই দিনটি নির্ধারণ করেন।সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানির মধ্য দিয়েই মূলত এই লোমহর্ষক মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। অপরাধীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করেছিলেন। পরবর্তীতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত সেই অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও বিচারের জন্য মামলাটি শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের নির্দেশ প্রদান করেন।এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। গত রোববার ঝিনাইদহের শৈলকুপায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান রামিসা হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এই জঘন্য অপরাধের জন্য আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করা হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের ওপরই নির্ভর করছে। আইনমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, মামলায় আসামির নিজস্ব স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং যেসব অকাট্য সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে, তার ভিত্তিতে আদালত ন্যায়বিচারের স্বার্থে সর্বোচ্চ শাস্তির বিষয়টিই বিবেচনায় নেবেন বলে সরকার গভীরভাবে বিশ্বাস করে।মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, শিশু রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে নিজ ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে নানা কৌশলে ফুসলিয়ে নিজেদের ঘরের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার স্কুলে যাওয়ার সময় হয়ে গেলে তার মা তাকে চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাচ্ছিলেন না।এক পর্যায়ে রামিসার মা আসামিদের ঘরের দরজার সামনে শিশুটির একটি পায়ের স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন। এতে তার মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তিনি দরজায় ধাক্কা দিয়ে অনেক ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাননি। তখন রামিসার বাবা-মা এবং ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা জড়ো হয়ে সম্মিলিতভাবে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন। ভেতরে ঢুকে তারা এক বিভৎস দৃশ্য দেখতে পান। সোহেল রানার শোবার ঘরের মেঝেতে রামিসার মাথা বিচ্ছিন্ন রক্তাক্ত দেহ পড়ে ছিল এবং তার কাটা মাথাটি বাথরুমের ভেতরের একটি বড় বালতিতে লুকানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।এই ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল দেওয়া হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। তারা লাশ উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকেই স্বপ্না আক্তারকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে উন্নত তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মূল হোতা সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সমুখভাগ থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।এই নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারের পর গত ২০ মে আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। সে তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করে যে, এই জঘন্য ও পাশবিক হত্যাকাণ্ড ঘটানোর ঠিক পূর্বমুহূর্তে সে মারাত্মক মাদক ইয়াবা সেবন করেছিল। দেশের সাধারণ মানুষ এখন এই নিষ্পাপ শিশুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল