প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬
মিয়ানমারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৫৫
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
মিয়ানমারের জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রিত একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামে ভয়াবহ ও শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত পঞ্চান্ন জন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই মর্মান্তিক ও আকস্মিক দুর্ঘটনায় আরও বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। আজ সোমবার, পয়লা জুন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই রক্তক্ষয়ী বিপর্যয়ের খবরটি বিশ্ববাসীর সামনে এনেছে।প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন সীমান্তের একেবারে কাছাকাছি অবস্থিত মিয়ানমারের অশান্ত শান রাজ্যের নামখাম টাউনশিপের অন্তর্গত কাউং টাট গ্রামে এই বিধ্বংসী বিস্ফোরণটি ঘটে। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি সম্পর্কে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে অবগত এমন একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে পঁচিশ জন নারী এবং ত্রিশ জন পুরুষ রয়েছেন। তবে অঞ্চলের বর্তমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে অন্যান্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সূত্রে নিহতের এই সংখ্যাটি কিছুটা ভিন্নভাবেও উল্লেখ করা হচ্ছে। গত রবিবার দুপুর বেলা হুট করেই এই বিস্ফোরণটি ঘটে এবং এর পরপরই পুরো গ্রামের আকাশজুড়ে এক বিশাল ও কুচকুচে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়, যা বহু দূর থেকেও স্পষ্ট দৃশ্যমান ছিল।অঞ্চলটির দায়িত্বে থাকা মিয়ানমারের শক্তিশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠী তা'আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি ঘটনার সার্বিক সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছে, মূলত খনির কাজে ব্যবহারের জন্য ওই গ্রামে বিপুল পরিমাণে বিস্ফোরক উপাদান মজুত রাখা হয়েছিল। কোনো কারণে সেই মজুতকৃত উপাদানে আকস্মিক ও অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আগুন ধরে গেলে এই ভয়াবহ হতাহতের ঘটনা ঘটে। চীন সীমান্তসংলগ্ন এই কৌশলগত গ্রামটি দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের চ্যুত সামরিক জান্তা সরকারের হাত থেকে মুক্ত করে নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এই গোষ্ঠীটি। উল্লেখ্য, তা'আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি হলো মিয়ানমারের বর্তমান স্বৈরাচারী সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াইয়ে লিপ্ত থাকা অন্যতম প্রধান ও সুসংগঠিত জাতিগত বিদ্রোহী বাহিনী।ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে ওই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সময় রবিবার ঠিক দুপুর ১২টার দিকে এই মারাত্মক ‘দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণ’ ঘটে। এটি কোনো পরিকল্পিত হামলা ছিল না বলেই তাদের প্রাথমিক ধারণা। ঘটনার পর গোষ্ঠীটি তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করে জানায়, এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিস্ফোরণের ফলে বহু স্থানীয় নিরীহ বাসিন্দা তাদের মূল্যবান প্রাণ হারিয়েছেন, অনেকে চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর আঘাত পেয়েছেন এবং পুরো অঞ্চলের ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্পত্তি ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মুখে পড়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ও অভ্যন্তরীণ তদন্তের কারণে তারা এই ঘটনার নেপথ্যের বিস্তারিত সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো পুরোপুরি প্রকাশ করেনি।এদিকে দুর্ঘটনাস্থল থেকে আসা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্রে অত্যন্ত বিভীষিকাময় ও হৃদয়বিদারক দৃশ্য ফুটে উঠেছে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, মাটির গভীরে এক বিশাল ও গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। চারপাশের মজবুত ভবনগুলো তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে, পুরো এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ এবং ধোঁয়া ওঠা কঙ্কালের মতো দাঁড়িয়ে থাকা গাছপালা। আহতদের উদ্ধারে স্থানীয় বাসিন্দারা এবং চিকিৎসাকর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব এবং সীমান্ত অঞ্চলের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ব্যাহত হচ্ছে জরুরি সেবা।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল