প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬
ইরানে হামলা ভুল ছিল, স্বীকার করলেন ট্রাম্প
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
ইরাক ও ইরানের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ করা একেবারেই উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তবে এই ভুল সিদ্ধান্তের কথা স্বীকার করার পাশাপাশি ট্রাম্প নিজের একটি সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে তীব্র সাফাই গেয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, আজ থেকে ঠিক নয় মাস আগে মার্কিন বাহিনী যদি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে শক্তিশালী বোমাবর্ষণ না করত, তবে এতক্ষণে তেহরান পুরোদমে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে ফেলত।ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িয়ে পড়াকে একটি বড় ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। সাক্ষাৎকারে নিজের ক্ষোভ ও অনুশোচনা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইরাকের দিকে তাকালে স্পষ্ট বোঝা যায় সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কত বড় ক্ষতি হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন অতীতে যে কী পরিমাণ বোকামি করেছে, তা এই যুদ্ধগুলোর দিকে তাকালেই অনুধাবন করা যায়। ট্রাম্পের মতে, মার্কিন বাহিনীর আসলে প্রথমেই ওই অঞ্চলে সামরিক অভিযানে যাওয়া উচিত হয়নি।একইভাবে ইরানের মাটিতেও যুক্তরাষ্ট্রের পা রাখা ঠিক হয়নি বলে মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে ইরাকের চেয়ে ইরানের পরিস্থিতি যে কিছুটা ভিন্ন এবং তাদের যে পারমাণবিক সক্ষমতা রয়েছে, সেটিও তিনি উল্লেখ করেন। ইরানে মার্কিন বিমান হামলার যৌক্তিকতা তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, নয় মাস আগে যদি মার্কিন সামরিক বাহিনী বি-টু বোমারু বিমান দিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত না হানত, তবে আজকের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারত। তাঁর দাবি, ওই হামলা না হলে এতক্ষণে ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র চলে আসত এবং তার পরিণতিতে হয়তো আজ ইসরায়েল কিংবা গোটা মধ্যপ্রাচ্যেরই কোনো অস্তিত্ব থাকত না। আর সেখান থেকে বিশ্ব পরিস্থিতি কোন ভয়াবহ রূপ নিত, তা ভাবাও কঠিন।সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই ইরানের মূল সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করেনি। ট্রাম্পের মতে, ইরানের নিয়মিত সামরিক বাহিনীকে এক রকম স্পর্শই করা হয়নি, কারণ মার্কিন প্রশাসন মনে করে তাদের সেনাবাহিনী কিছুটা নমনীয় বা সমঝোতাপূর্ণ। তবে ইরানের ভেতরে এমন কিছু উগ্র ও অনমনীয় গোষ্ঠী বা ব্যক্তি ছিল, যাদেরকে মার্কিন বাহিনী পুরোপুরি খতম করেছে। ইরানের নেতৃত্বের বিভিন্ন বিতর্কিত অংশকে সরিয়ে দেওয়া হলেও দেশের মূল বাহিনীকে অক্ষত রাখা হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, এই কৌশলটি শুনে সাধারণ মানুষ অবাক হতে পারে। তবে যুদ্ধে যখন কোনো দেশের সবাইকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়, তখন সেটি একটি বড় ভুল হিসেবে গণ্য হয়। কারণ এর ফলে সেই দেশটি পরবর্তী দীর্ঘ চল্লিশ বছরেও নিজেকে আর নতুন করে পুনর্গঠন করতে পারে না।এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও নতুন কোনো চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো তাড়াহুড়ো নেই বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাথে একটি অসাধারণ ও কার্যকর চুক্তি করতে যাচ্ছে। আর যদি কোনো কারণে সেই চুক্তি সফল না হয়, তবে মার্কিন বাহিনী স্রেফ আগের অবস্থানে ফিরে গিয়ে ইরানকে সামরিকভাবে সম্পূর্ণরূপে শেষ করে দেবে। তবে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, তিনি যুদ্ধের চেয়ে চুক্তির মাধ্যমেই অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা করতে বেশি আগ্রহী। চুক্তিটি সই হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিতর্কিত হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া সম্ভব হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।ইরানের শীর্ষ নেতাদের প্রশংসা ও সমালোচনা দুটোই করেন ট্রাম্প। তিনি মন্তব্য করেন, ইরানের নেতারা আন্তর্জাতিক দরকষাকষিতে অত্যন্ত দক্ষ ও চতুর। তবে মার্কিন প্রশাসনও দমে যাওয়ার পাত্র নয়; যুক্তরাষ্ট্র যা চায়, ধীরে ধীরে তা ইরানের কাছ থেকে আদায় করে নিচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, এই প্রক্রিয়ায় কিছুটা লম্বা সময় লাগবে এবং মার্কিন সরকারের এতে কোনো তাড়া নেই। কারণ তাড়াহুড়ো করলে কখনোই ভালো চুক্তি করা সম্ভব হয় না। ধীরে ধীরে এগোলেও যুক্তরাষ্ট্র তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারছে। আর শেষ পর্যন্ত যদি আলোচনার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না আসে, তবে মার্কিন প্রশাসন অন্য কোনো কঠোর উপায়ে এই সংকটের চূড়ান্ত সমাধান করবে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল