প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬
ইরানের কাছে কঠোর শর্তে নতুন প্রস্তাব ট্রাম্পের
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসন এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়ায় আরও কিছু কঠোর ও জটিল শর্ত যুক্ত করে তা পুনরায় তেহরানের কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে এই শান্তি প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া বা জবাব পেতে অস্বাভাবিক বিলম্ব হওয়ায় তীব্র অসন্তোষ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত প্রভাবশালী ও নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও সংঘাতের অবসান ঘটাতে পূর্বে প্রস্তাবিত শান্তি কাঠামোর একটি বড় ধরনের সংশোধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসনের তৈরি করা এই নতুন খসড়ায় আগের প্রাথমিক খসড়ার তুলনায় অনেক বেশি কঠোর ও শক্ত শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যা তেহরানের জন্য বেশ চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।এই পুরো কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার বিষয়ে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে এমন তিনজন উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে চুক্তির খসড়ার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা সংশোধন করেছেন এবং তা পুনর্বিবেচনার জন্য পুনরায় তেহরানের টেবিলে ফেরত পাঠিয়েছেন। তবে কৌশলগত কারণে এই নতুন খসড়ায় ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে বা কী শর্ত যুক্ত করা হয়েছে, তা প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ব্যাংকে ইরানের জব্দকৃত বিশাল অর্থ ও সম্পদ অবমুক্ত করার আইনি সম্ভাবনা রয়েছে— এমন কিছু নির্দিষ্ট ধারা নিয়ে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সেগুলোকে আরও কঠোর করার নির্দেশ দিয়েছেন।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ব্যাকচ্যানেল বা পরোক্ষভাবে চলা এই দীর্ঘ আলোচনায় ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক জবাব পেতে দীর্ঘ সময় লাগায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্রমেই অধৈর্য ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। উল্লেখ্য, এই দুই বৈরী দেশের মধ্যকার বরফ গলাতে ও আলোচনা সচল রাখতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও পর্দার আড়াল থেকে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।দ্য নিউইয়র্ক টাইমস তাদের প্রতিবেদনে আরও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা এবং দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত কঠিন একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক হিসেবে বর্ণনা করা এই গুরুত্বপূর্ণ নথিতে নতুন করে কোনো পরিবর্তন বা কঠোর শর্ত যোগ করা হলে, চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হতে আরও অনেক বেশি বিলম্ব হওয়ার একটি বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।এর আগে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের সামগ্রিক প্রচেষ্টা এবং কূটনৈতিক কৌশল নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করতে গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসের অত্যন্ত সুরক্ষিত সিচুয়েশন রুমে নিজের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী একটি উচ্চপর্যায়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই বৈঠকটি শেষ হওয়ার পর মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল