প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬
জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা ইসরাইলের
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে নারীদের ওপর যৌন সহিংসতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার গুরুতর অভিযোগে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইসরাইলকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসংঘ। আন্তর্জাতিক এই বিশ্ব সংস্থার এমন কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ইসরাইল সরকার। এই ঘটনার জেরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে ছিন্ন করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ব দরবারে ইসরাইলের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে এক বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরাইলের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বিশ্ব সংস্থার এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমান মহাসচিবের প্রশাসনের অধীনে ইসরাইল আর কোনো ধরনের যৌথ কার্যক্রমে অংশ নেবে না বা তাদের সঙ্গে কোনো কাজ করবে না। আসন্ন জাতিসংঘের বার্ষিক প্রতিবেদনের কঠোর সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ইসরাইলি সামরিক বাহিনীকে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে যৌন সহিংসতা ব্যবহারের দায়ে অভিযুক্ত করাটা সম্পূর্ণ অন্যায্য এবং অত্যন্ত অসংগত একটি সিদ্ধান্ত। এই ধরনের মনগড়া অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই বলেও তিনি দাবি করেন।মূলত জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদনে ইসরাইলকে এমন এক লজ্জিত ও নেতিবাচক দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের নিয়মিত সশস্ত্র সেনা ও বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন সময় যুদ্ধবন্দি অথবা চরম অসহায় ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর ওপর বারবার ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ ঘটিয়েছে। এই ধরনের চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। জাতিসংঘ মহাসচিব অবশ্য গত বছরই এই বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে, যদি এই ধরণের অপরাধ বন্ধ না হয় তবে ইসরাইলকে এমন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে এবং কালো তালিকায় যুক্ত করা হবে। শেষ পর্যন্ত সেই সতর্কবার্তারই বাস্তব প্রতিফলন ঘটল এই প্রতিবেদনে।জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তের পর ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি কড়া ও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়েছে। সেখানে জাতিসংঘকে একটি রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী ও দুর্নীতিগ্রস্ত সংস্থা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই বিশ্ব সংস্থাটি তার প্রতিষ্ঠার মূল আদর্শ ও নীতিগুলো থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত হয়েছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলকে তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। এই ক্ষোভের জেরে ইসরাইল সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বর্তমান মহাসচিবের কার্যালয়ের সঙ্গে তারা সব ধরনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থগিত রাখবে এবং বর্তমান মহাসচিবের পদের মেয়াদ শেষ হয়ে নতুন কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি এই পদে অধিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করবে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।সূত্র: মিডল ইস্ট আই
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল