প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬
ট্রাম্পের বৈঠক শেষ, ইরান শান্তিচুক্তি ঘিরে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
ইরানের সঙ্গে বহুল আলোচিত ও সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির বিষয়ে একটি ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার লক্ষ্যে নিজের শীর্ষ স্তরের সামরিক ও কূটনৈতিক সহযোগীদের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠক শেষ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই বৈঠকের পরও দুই দেশের মধ্যকার কোনো নিশ্চিত সমঝোতা বা পরবর্তী বাস্তব পদক্ষেপ সম্পর্কে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ইতিবাচক বার্তা পাওয়া যায়নি। নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, উভয় পক্ষের প্রধান আলোচকদের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় তৈরি করা খসড়া প্রস্তাবটিতে শেষ মুহূর্তে সায় বা অনুমোদন দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। হোয়াইট হাউসের বিশেষ পরিস্থিতি কক্ষে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা দীর্ঘ ও নিবিড় আলোচনার পরও তিনি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ছাড়াই তিনি ওই পরিস্থিতি কক্ষ ত্যাগ করেন, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য শান্তি চুক্তিটি এখনো গভীর অনিশ্চয়তার দোলাচলের মধ্যেই রয়ে গেল।অবশ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন অনমনীয় অবস্থানের পরও সম্ভাব্য এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো যথেষ্ট আশাবাদী দেশটির হোয়াইট হাউসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার গণমাধ্যমকে আশ্বস্ত করে বলা হচ্ছে যে, তেহরান ও ওয়াশিংটন দুই পক্ষই দীর্ঘদিনের বৈরিতা ভুলে একটি ঐতিহাসিক চুক্তির একেবারে দ্বারপ্রান্তে বা খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। অপরদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রচারণায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে। ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক এখনো চূড়ান্ত রূপ পায়নি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ব্যাংকে ইরানের জব্দকৃত বিশাল অংকের অর্থনৈতিক সম্পদ বা তহবিল ছেড়ে দেওয়া, দেশটির নিজস্ব পারমাণবিক কর্মসূচি এবং তেহরানের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মৌলিক ইস্যুগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো গভীর দ্বিমত ও মতপার্থক্য রয়ে গেছে।তবে উদ্ভূত পরিস্থিতির মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রধান শর্তগুলো পুনর্ব্যক্ত করে এক প্রকার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, যেকোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে ইরানকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা ভবিষ্যতে কখনোই কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা মজুত করবে না। এর পাশাপাশি বৈশ্বিক পণ্য ও তেল পরিবহনের প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত কৌশলগত হরমুজ প্রণালি উভয় দিক থেকেই আন্তর্জাতিক সব ধরনের বাণিজ্যিক নৌযান চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দিতে হবে। একই সঙ্গে ওই জলসীমায় এর আগে পাতা সমস্ত সামুদ্রিক মাইন দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপসারণ এবং সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার শর্তও জুড়ে দিয়েছেন তিনি। মূলত গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসের অত্যন্ত সুরক্ষিত পরিস্থিতি কক্ষে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। যেকোনো বড় ধরনের আন্তর্জাতিক বা জাতীয় সংকট মোকাবিলার কৌশল নির্ধারণে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা এই বিশেষ কক্ষটি ব্যবহার করে থাকেন। তবে এই বৈঠকের ঠিক পূর্বমুহূর্তে তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, তারা তাদের সার্বভৌম পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে কারও সাথে কোনো প্রকার আলোচনা বা আপস করতে রাজি নয়।চলমান এই চরম উত্তেজনার সূত্রপাত হয়েছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যৌথভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সামরিক স্থাপনায় একযোগে আকস্মিক বিমান হামলা চালায়। সেই বিধ্বংসী হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং ইসরাইলসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এই সংঘাতের একপর্যায়ে ইরান কার্যত কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নৌপথ বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নাটকীয় ও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পায়, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের সাময়িক যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চললেও, গত কয়েক দিনে একে অপরের বিরুদ্ধে সেই যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে ওয়াশিংটন ও তেহরান, যা এই অঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে।সুত্র: বিবিসি।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল