প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬
চীনের প্রভাব বিস্তারে আপত্তি, এলো কঠোর বার্তা
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
সিঙ্গাপুরে চলমান এশিয়ার শীর্ষ নিরাপত্তা সম্মেলন ‘শাংরি-লা ডায়ালগ’-এ বিশ্ব রাজনীতির ভূ-কৌশলগত অবস্থান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার সম্পর্কের সমীকরণ তুলে ধরে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এশীয় অঞ্চলে চীনের একক আধিপত্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বেইজিংকে সরাসরি এক ধরণের কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, চীন কিংবা বিশ্বের অন্য কোনো রাষ্ট্র এই অঞ্চলে একক কোনো আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না। একই সঙ্গে কোনো দেশের এমন কোনো পদক্ষেপকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিংবা তার বন্ধুভাবাপন্ন মিত্র রাষ্ট্রগুলোর সামগ্রিক নিরাপত্তাকে বিন্দুমাত্র বিঘ্নিত বা হুমকির মুখে ফেলতে পারে।তবে এই কঠোর অবস্থানের সমান্তরালে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি ইতিবাচক দিকও বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক বিগত বহু বছরের তুলনায় এখন সবচেয়ে ভালো ও সুসংহত অবস্থানে রয়েছে। উত্তেজনা হ্রাস ও ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে দুই দেশের সামরিক ও কৌশলগত যোগাযোগের পথ আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্মুক্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, বেইজিংয়ের সামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের আগের চেয়ে আরও ঘন ঘন ও ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশের ভেতরেই তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সবসময় চায় চীন যেন এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক অবস্থান, কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং নিরাপত্তামূলক উপস্থিতি সসম্মানে বজায় রাখতে সহযোগিতা করে।পিট হেগসেথ তাঁর বক্তৃতায় ক্ষমতার ভারসাম্যের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, যেকোনো একটি নির্দিষ্ট পক্ষের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ক্ষমতার ভারসাম্যকে সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট করবে, যা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান যুদ্ধের ডামাডোল এবং মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনার কারণে গত কয়েক মাস ধরে ওয়াশিংটনের সম্পূর্ণ মনোযোগ ভিন্ন দিকে নিবদ্ধ ছিল। তবে এই ব্যস্ততার মাঝেও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল নিয়ে মার্কিন নীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র একটি সম্পূর্ণ মুক্ত, উন্মুক্ত, বৈষম্যহীন এবং নিরাপদ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল বজায় রাখতে নিজেদের সর্বোচ্চ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।একই সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিশ্ব রাজনীতির অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে এক বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের আভাস দেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, বিশ্বের ধনী ও সামর্থ্যবান রাষ্ট্রগুলোকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অযাচিত আর্থিক ভর্তুকি ও ঢালাও নিরাপত্তা সুবিধা দেওয়ার পুরনো যুগের এখন অবসান ঘটেছে। প্রতিটি রাষ্ট্রকে এখন থেকে নিজস্ব নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী দায়িত্ব কাঁধে নিতে হবে। বৈশ্বিক নিরাপত্তার এই নতুন সমীকরণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেবল সমান অংশীদারিত্বের ভিত্তিতেই মিত্রদের পাশে থাকবে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল