প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬
তরুণদের জন্য আদর্শিক দৃষ্টান্ত জিয়াউর রহমান: রাষ্ট্রপতি
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, শহীদ জিয়ার সাদাসিধে ও নির্মোহ জীবনযাপন, বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, প্রশ্নাতীত সততা এবং একজন বাস্তববাদী ও কর্মোদ্যমী রাষ্ট্রনায়কের অনন্য রূপ এ দেশের জনগণের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান ও জাগরূক থাকবে। রাষ্ট্রপ্রধান আশা প্রকাশ করেন যে, শহীদ জিয়ার কর্মময় জীবন, অগাধ দেশপ্রেম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন কঠোর নীতি, ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠায় অটল অবস্থান, স্বনির্ভর উন্নয়ন ভাবনা এবং জীবন আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য যুগে যুগে অনুপ্রেরণার এক অবিরাম উৎস হয়ে কাজ করবে।বাণীতে দেশের রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ও অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে ইতিহাসের এক বেদনাবিধুর অধ্যায় স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশবিরোধী এক গভীর ও নৃশংস ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে এই মহান নেতা নির্মমভাবে শাহাদতবরণ করেন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এই বীর সেনানায়ক, স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে দেশের অগ্রগতিতে যে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন, তা সমগ্র জাতি চিরকাল অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের উষালগ্নে তথা ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার বলিষ্ঠ আহ্বান জানান। তাঁর এই ঐতিহাসিক আহ্বান ও স্বাধীনতার ঘোষণা তৎকালীন সময়ে দিশেহারা ও পরাধীন সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে তীব্রভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিল। রণাঙ্গনে তাঁর অসামান্য বীরত্ব, রণকৌশল ও অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাঁকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।পরবর্তী সময়ে দেশের রাষ্ট্র পরিচালনার কঠিন দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরুত্থান ঘটান এবং বাক-ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করেন। সেই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের এক নতুন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চেতনার ভিত্তিতে গোটা জাতিকে এক সুতোয় ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জন, স্বনির্ভরতা লাভ এবং সাধারণ জনগণের জীবনমান সুউচ্চ শিখরে উন্নীত করার লক্ষ্যে তিনি বহুমুখী পরিকল্পনা ও যুগান্তকারী সব কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর দূরদর্শী চিন্তাপ্রসূত ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল মূলত একটি উৎপাদনমুখী, গতিশীল ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অনন্য এক রূপরেখা।আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং দেশের স্বার্থ সমুন্নত রাখতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ ও সফল পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছিলেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের বিশাল শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও অবদান ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যা দেশের অর্থনীতিকে মজবুত ভিত্তি দিয়েছিল। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর বাণীর শেষাংশে উল্লেখ করেন যে, দেশ পরিচালনার জন্য জিয়াউর রহমান অত্যন্ত স্বল্প সময় পেলেও গভীর দেশপ্রেম, ন্যায়পরায়ণতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও অসাধারণ দূরদর্শিতার মাধ্যমে দেশকে এক অভূতপূর্ব অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন, যা আজ অবধি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক সমুজ্জ্বল ও অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল