প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৬
ওমানের পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের হুমকিকে 'গুন্ডামি' আখ্যা দিল ইরান!
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ওমানের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া হুমকিকে চরম বিপজ্জনক এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষেত্রে এক ধরনের ‘গুন্ডামি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইরান। ওমানের মতো একটি শান্তিকামী রাষ্ট্রের পাশে দাঁড়িয়ে তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের এই আচরণ বৈশ্বিক আইনকানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওমানকে পুরোপুরি ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ মতো এমন চরম আগ্রাসী বার্তার পর মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।মূলত এই বিরোধের সূত্রপাত ওমান ও ইরানের সম্ভাব্য একটি চুক্তিকে কেন্দ্র করে। মার্কিন প্রশাসনের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর একটি বিশেষ শুল্ক বা টোল ব্যবস্থা চালু করতে ইরানের সঙ্গে যৌথ চুক্তি করতে পারে ওমান। আর এই বিষয়টি সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে ওয়াশিংটন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ওমান যদি এই শুল্ক ব্যবস্থা তৈরিতে ইরানকে কোনো ধরনের সহায়তা করে, তবে ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির ওপর অত্যন্ত কঠোর ও আগ্রাসী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। এই হুমকির পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও এক ধাপ এগিয়ে ওমানকে ধ্বংস করার চরম হুঁশিয়ারি দেন।আমেরিকার এমন আগ্রাসী অবস্থানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মার্কিন এই পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি ওমানের ভূরাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ওমান এমন একটি দেশ যা সব সময়ই এই অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অত্যন্ত গঠনমূলক এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। দীর্ঘ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের জটিল সব কূটনৈতিক সংকট নিরসনে ওমান একটি বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে নিজের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা উৎসর্গ করেছে। জাতিসংঘের একজন সম্মানিত সদস্য রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও ওমানকে যেভাবে ধ্বংস করার হুমকি দেওয়া হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সব নিয়মকানুনের বাইরে।ইরানের মুখপাত্র আরও অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই আচরণ শুধু বলপ্রয়োগের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাকেই অমান্য করে না, বরং এটি বিশ্ব রাজনীতিতে এক ধরনের আইনহীনতা এবং গুন্ডামিকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করার একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক লক্ষণ। ওয়াশিংটনের এমন কর্মকাণ্ডকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রকে ব্ল্যাকমেইল করার নোংরা চেষ্টা হিসেবে দেখছে তেহরান। ইসমাইল বাঘাই মনে করেন, এই ধরনের হুমকি মার্কিন শাসনব্যবস্থা এবং তাদের সামগ্রিক রাজনীতির চরম নৈতিক দেউলিয়াত্বকেই বিশ্বের সামনে বারবার উন্মোচিত করে।নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক শক্তি প্রদর্শনের এই মার্কিন নীতিকে সম্পূর্ণ অবৈধ আখ্যা দিয়ে ইরান বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতি লঙ্ঘন করার এই যে আমেরিকান প্রবণতা, তা যদি এখনই প্রতিরোধ করা না হয় তবে তা ভবিষ্যতে বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তাই মার্কিন এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্বের সব দেশের ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হওয়া এবং উপযুক্ত জবাব দেওয়া উচিত।সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল