প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৬
তিন শর্ত না মানলে সরছে না ইরানের নিষেধাজ্ঞা!
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও অর্থনৈতিক কূটনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক অত্যন্ত কঠোর ও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য পুনরায় পুরোপুরি উন্মুক্ত করা এবং তেহরান তাদের কাছে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সম্পূর্ণ মজুত আন্তর্জাতিক মহলের কাছে হস্তান্তর করতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর আরোপিত কোনো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা শিথিল করা হবে না। মার্কিন অর্থমন্ত্রীর এই অনমনীয় অবস্থান থেকে এটি পরিষ্কার যে, ওয়াশিংটন তাদের জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিশ্ব বাণিজ্যের সুরক্ষার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করতে রাজি নয়। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বেসেন্ট অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, যতক্ষণ না পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ হচ্ছে এবং ইরানীরা তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অন্য দেশের কাছে সমর্পণ করতে রাজি হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কোনো বিষয়ই মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনার টেবিলে বিবেচনা করা হবে না।এই তীব্র বাদানুবাদ ও কঠোর অবস্থানের মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সাময়িক অবসান ঘটাতে একটি ইতিবাচক আলোও দেখা গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর লক্ষ্যে এবং চলমান যুদ্ধের একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার উদ্দেশ্যে উভয় দেশ একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকে উপনীত হতে সক্ষম হয়েছে। ৬০ দিনের এই বর্ধিত যুদ্ধবিরতির রূপরেখা বা খসড়া চুক্তিটি বৈশ্বিক রাজনীতির সমীকরণে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, এই প্রস্তুতকৃত শান্তি আলোচনার রূপরেখাটি বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। যদি হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই চুক্তিতে চূড়ান্ত সবুজ সংকেত দেওয়া হয়, তবে বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা স্থবির ও নিষ্ক্রিয় কূটনীতির অবসান ঘটে এটি হবে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তির ইতিহাসে অন্যতম একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি। অবশ্য এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভেতরে থাকা সব ধরনের গোপন শর্ত ও বিস্তারিত রূপরেখা এখনও সাধারণ মানুষের সামনে পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি, যার ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে এখনও এক ধরনের কৌতুহল ও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই অনমনীয় শর্ত এবং ইরানের পরমাণু নীতির ভবিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে এই চুক্তির দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল