প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৬
বিদ্যুৎ সংকটে মাদারগঞ্জের শতাধিক পরিবার
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডব শেষ হওয়ার পাঁচদিন পার হয়ে গেলেও এখনো অন্ধকারের মধ্যেই রাত কাটাতে হচ্ছে প্রায় ২৫০টি পরিবারকে। উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের পূর্ব নলছিয়া এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা যায়, গত রোববার সকাল ছয়টার দিকে মাদারগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে হঠাৎ করেই তীব্র কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। ঝড়ের প্রচণ্ড আঘাতে পুরো এলাকার অন্তত অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় এবং উপড়ে পড়ে প্রায় তিন শতাধিক গাছপালা। ঝড়ের সময় তীব্র বাতাসে বেশ কিছু বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ে এবং বিভিন্ন স্থানে তার ছিঁড়ে গিয়ে পুরো উপজেলার বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। পরবর্তী সময়ে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে তৎপরতা চালিয়ে উপজেলার অধিকাংশ এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হলেও, পূর্ব নলছিয়া গ্রামের দৃশ্যপট এখনো বদলায়নি। সেখানকার প্রায় আড়াইশ পরিবার গত পাঁচদিন ধরে টানা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন কতটা কঠিন হয়ে পড়েছে, তা ফুটে উঠেছে স্থানীয়দের কথায়। পূর্ব নলছিয়া এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসাইন হৃদয় নিজের ক্ষোভ ও কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন যে, টানা পাঁচদিন ধরে ঘরে আলো নেই। দিনের বেলা কোনোমতে কেটে গেলেও রাতের বেলা ভোগান্তির আর শেষ থাকে না। বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া থেকে শুরু করে ঘরে থাকা খাবার দাবার সংরক্ষণ করা—সবকিছু নিয়েই চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের। একই এলাকার আরেক বাসিন্দা ইসাহাক মণ্ডলের গলাতেও শোনা গেল একই কষ্টের সুর। তিনি জানান, ঝড়ের সেই সকাল থেকেই তারা অন্ধকারে আছেন। দিনের চেয়ে রাতের অন্ধকার তাদের বেশি কষ্ট দিচ্ছে। পরিবারের ছোট-বড় সবাইকে নিয়ে প্রতি রাতে এই অন্ধকারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তিনি বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ছেঁড়া তার ও খুঁটি মেরামত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করার জোরালো দাবি জানান।শুধু আলমগীর বা ইসাহাক নন, এলাকার মো. জিয়া, আব্দুল গণি, লাল মিয়া, সাইফুল ইসলাম, বাচ্চু মিয়া, সালাউদ্দিন, রেজা মিয়া, রুস্তম, কলু মণ্ডল ও খোকা মণ্ডলসহ বহু ভুক্তভোগী মানুষ এই তীব্র গরমে ও অন্ধকারে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তাদের সবারই এখন একটাই দাবি, যেন দ্রুত এই সংকটের সমাধান করা হয়।গ্রামবাসীর এই দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগ এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে যোগাযোগ করা হয়েছিল জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিনের সাথে। তিনি ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির সত্যতা স্বীকার করে জানান যে, রোববারের কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে বৈদ্যুতিক লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তাদের কর্মীরা দিনরাত নিরলসভাবে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন, এমনকি ঈদের ছুটির দিনেও কেউ বসে ছিলেন না। গ্রামীণ অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত লাইনগুলো দ্রুত মেরামত করে যত দ্রুত সম্ভব সব পরিবারে বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল