প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ মে ২০২৬
সম্ভাব্য মার্কিন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি নিচ্ছে কিউবা
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যেকোনো সামরিক আগ্রাসন নস্যাৎ করতে ব্যাপক এবং জোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে কিউবা। আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে গত শনিবার দেশটিতে ‘পারিবারিক নির্দেশিকা’ নামের একটি বিশেষ আদেশ জারি করেছে দেশটির সরকার। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি উঠে এসেছে। মূলত ‘সব মানুষের যুদ্ধ’ নামক একটি সুপরিচিত প্রতিরক্ষা মতবাদের ওপর ভিত্তি করে এই নির্দেশিকাটি ঢেলে সাজানো হয়েছে। গত শতাব্দীর শেষভাগে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর কিউবা এই বিশেষ সামরিক মতবাদটি গ্রহণ করেছিল। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো, দেশের সাধারণ নাগরিকদের গেরিলা যুদ্ধ, স্থানীয় মিলিশিয়া বাহিনী এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের আওতায় এনে বিদেশি শত্রুর আক্রমণ প্রতিরোধ করা।বিশেষজ্ঞদের মতে, কিউবার সামরিক সক্ষমতা ও প্রস্তুতি অন্যান্য অনেক দেশের চেয়ে ভিন্ন। গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক অর্থনীতির অধ্যাপক হ্যালেন ইয়াফে এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, কিউবার প্রায় প্রতিটি নাগরিকই কোনো না কোনোভাবে সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং তারা দেশের জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাথে সরাসরি যুক্ত। ফলে মার্কিন বাহিনী যদি ভেনিজুয়েলার মতো কোনো কৌশল এখানে খাটাতে চায়, তবে তা কিউবাতে সফল হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। লাতিন আমেরিকা বিষয়ক প্রখ্যাত বিশ্লেষক কার্লোস মালামুদ মনে করেন, ভেনিজুয়েলার সেনাবাহিনীর তুলনায় কিউবার সামরিক বাহিনী অনেক বেশি সুপ্রশিক্ষিত এবং তারা উন্নত যুদ্ধ সরঞ্জামে সজ্জিত।চলতি বছরের শুরুর দিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী এক আকস্মিক ও ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ভেনিজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার স্ত্রীসহ আটক করে নিয়ে যায়। অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই অভিযানে মার্কিন বাহিনীকে তেমন কোনো শক্ত প্রতিরোধের মুখোমুখি হতে হয়নি। তবে কিউবার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার ওপর একের পর এক কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে চলেছেন। বিশেষ করে দেশটির ওপর জ্বালানি অবরোধ আরোপ করার ফলে কিউবার অর্থনীতি বর্তমানে মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। এর পাশাপাশি সম্প্রতি কিউবার চারপাশের সামুদ্রিক ও আকাশসীমায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, চীন ও রাশিয়ার সাথে কিউবার গভীর নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সম্পর্ক রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক বিরাট হুমকি। এই ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই কিউবা সরকার সম্ভাব্য মার্কিন হামলা মোকাবিলায় পরিবারগুলোর করণীয় নির্ধারণ করে সুরক্ষামূলক পদক্ষেপের তালিকা তৈরি করেছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, কিউবাতে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিলে উল্টো যুক্তরাষ্ট্রে কিউবান অভিবাসীদের এক বিশাল ঢল নামতে পারে। এই অভিবাসন সংকট শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য হিতে বিপরীত বা বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।সূত্র: রয়টার্স।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল