প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বাস ভাড়া দ্বিগুণ, ট্রাকে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর অংশের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় ঘরমুখো সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তির চিত্র ফুটে উঠেছে। আসন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে বাড়ি ফিরতে চাওয়া সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে দূরপাল্লার বাসগুলোতে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ টাকা দাবি করা হচ্ছে। ফলে পকেটের অতিরিক্ত টাকা বাঁচাতে এবং সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে নিরুপায় হয়ে অসংখ্য মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাকে করে নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন।স্থানীয় একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় বাসস্ট্যান্ডটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মোড়। এখান থেকে প্রতিদিন উত্তরবঙ্গসহ দেশের প্রায় সাতাশটি দূরপাল্লার সড়কে বিভিন্ন ধরনের গণপরিবহন যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু উৎসবের এই মৌসুমে চন্দ্রা এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাসভাড়া আকাশচুম্বী করা হয়েছে বলে সাধারণ যাত্রীরা অভিযোগ তুলেছেন। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ বা তারও বেশি ভাড়া দাবি করায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের সাধারণ যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েছেন এবং বাসের টিকিট না কেটে কম খরচে বিকল্প হিসেবে মালবাহী ট্রাকে চড়ে বসছেন।উত্তরের জেলা দিনাজপুরের বীরগঞ্জগামী হাসিনুর নামে এক ভুক্তভোগী যাত্রী নিজের ক্ষোভ ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করে জানান, স্বাভাবিক সময়ে তাদের এই রুটের জাহেদা পরিবহনের বাসভাড়া সাধারণত সাতশত টাকা হয়ে থাকে। কিন্তু আজকে উৎসবের চাপকে উসিলা করে সেই একই টিকিটের মূল্য চাওয়া হচ্ছে ষোলোশত টাকা। সাধারণ একজন শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে এত বিপুল পরিমাণ বাড়তি টাকা দিয়ে বাসে যাতায়াত করা অসম্ভব। তাই বাধ্য হয়ে অনেকটা কম খরচে এবং ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি ট্রাকে করেই বাড়ি যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।ভাড়া বৃদ্ধির এই প্রকাশ্য অনিয়মের বিষয়ে বাদশাহ পরিবহনের একজন সুপারভাইজারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি অবশ্য পুরো দায় চাপিয়েছেন স্থানীয় টার্মিনাল বা স্ট্যান্ডের ওপর। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, উৎসবের এই সময়ে স্ট্যান্ডে গাড়ি প্রতি তাদের স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি চাঁদা ও বিবিধ খরচ দিতে হচ্ছে। ফলে রাস্তায় যাতায়াত ও স্ট্যান্ডের বাড়তি খরচ পুষিয়ে নিতে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায় করা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো দ্বিতীয় উপায় বা বিকল্প পথ খোলা নেই।যাত্রী ভোগান্তি ও সিন্ডিকেটের এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের বিষয়ে গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান জসীম উদ্দিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি দাবি করেন, এই টার্মিনালে কোনো ধরনের সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব নেই এবং তারা সাধারণ যাত্রীদের সেবায় নিয়োজিত আছেন। তিনি বলেন, গাজীপুর জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে প্রায় চল্লিশজন কর্মী মহাসড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রাকে যেন কোনো যাত্রী না উঠতে পারে, সে বিষয়ে তাদের কড়া নজরদারি রয়েছে এবং চন্দ্রা মোড় থেকে ট্রাকে যাত্রী ওঠানো তারা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে এর মধ্যেও দু-একজন যাত্রী প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলন্ত বা দাঁড়ানো ট্রাকে লাফিয়ে উঠে পড়ছেন, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।সড়ক ও মহাসড়কের সার্বিক নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাওগাতুল আলম সাংবাদিকদের জানান, উৎসবের এই সময়ে কোনো পরিবহন বা চক্র যাতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত বা বাড়তি ভাড়া আদায় করতে না পারে, সে জন্য হাইওয়ে পুলিশের একাধিক দল মাঠে সজাগ দৃষ্টি রাখছে। তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত অভিযোগ তারা পাননি। তবে কোনো ভুক্তভোগী যাত্রী যদি বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য বা অভিযোগ নিয়ে তাদের কাছে আসেন, তবে অপরাধী পরিবহন ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অবশ্যই দ্রুত এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল