প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬
দ্রুত বিচার নিশ্চিতে ছুটির দিনেও আদালত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সচল রাখার লক্ষ্যে ছুটির দিনেও আদালত খোলা রাখার বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। চুয়াডাঙ্গা সফরকালে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করেন।সোমবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউসে স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় মিলিত হন আইনমন্ত্রী। সভা শেষে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় তিনি বলেন, দেশের বিচার ব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং মামলা জট কমাতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় গঠিত ট্রাইব্যুনালগুলো ছুটির দিনেও সচল রাখার এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবীতে ঘটে যাওয়া আট বছরের শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের নির্মম প্রসঙ্গটি টেনে আইনমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন, এই স্পর্শকাতর মামলার বিচার প্রক্রিয়া আসন্ন ঈদের ছুটির পর প্রথম কার্যদিবসেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হবে। তিনি প্রশাসনের তৎপরতার প্রশংসা করে উল্লেখ করেন যে, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে এবং অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় আদালতে মামলার অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ধরনের জঘন্য অপরাধের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।একই সময়ে গণমাধ্যমকর্মীরা মন্ত্রীর কাছে সম্প্রতি ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সুস্থ রাজনীতিতে এই ধরনের সহিংস আচরণ মোটেও কাম্য নয়। এই ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং মোটেও শোভনীয় বা গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।সাংবাদিকদের সাথে কথা বলা শেষে আইনমন্ত্রী চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ঐতিহাসিক কার্পাসডাঙ্গায় রওনা হন। সেখানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তিনি। কার্পাসডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী মিশনারি মাঠে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, কবি নজরুল কেবল একজন সাহিত্যিক নন, তিনি আমাদের জাতীয় চেতনা ও প্রেরণার এক অবিনাশী নাম। কবির কালজয়ী সাহিত্য, দ্রোহের বাণী এবং বিদ্রোহী দর্শন আজও প্রতিটি মানুষকে যেকোনো অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে এবং প্রতিবাদ করতে সাহস জোগায়। আমাদের জাতীয় জীবনে নজরুলের প্রাসঙ্গিকতা চিরকাল অক্ষুণ্ন থাকবে।ঐতিহাসিক কার্পাসডাঙ্গা মিশনারি মাঠে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ আলোচনা ও সমাপনী সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামানসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। বক্তারা কবির স্মৃতিবিজড়িত কার্পাসডাঙ্গাকে আরও আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল