প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬
সংকট আর অব্যবস্থাপনায় পিছিয়ে চামড়াখাত
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বিপুল চাহিদা এবং কদর থাকা সত্ত্বেও সেই বিশাল বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে কোনোভাবেই কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ। আমাদের দেশে কাঁচামালের পর্যাপ্ত সহজলভ্যতা রয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় শ্রমের ব্যয় অনেক কম এবং দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একটি মজবুত শিল্পভিত্তিও রয়েছে। এতসব ইতিবাচক দিক ও অনুকূল পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও দেশের অন্যতম শীর্ষ সম্ভাবনাময় এই রপ্তানি খাতটি তার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। মূলত পরিবেশগত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থতা, সাভারের চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের দীর্ঘদিনের অকার্যকারিতা, চরম অর্থায়ন সংকট ও লাগসই নীতিগত দুর্বলতার কারণে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি এখন বিশ্ববাজারে নিজের চিরচেনা প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারাতে বসেছে।দেশের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সাম্প্রতিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে চামড়া, চামড়াজাত পণ্য এবং পাদুকা বা জুতা রপ্তানি খাত থেকে দেশের আয় হয়েছে প্রায় ৯৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এর আগের অর্থবছরের ঠিক একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৯৩ কোটি ২৫ লাখ ডলার। আপাতদৃষ্টিতে খাতার কলমে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়তির দিকে মনে হলেও অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আমাদের যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে তার তুলনায় এই অর্জন অত্যন্ত নগণ্য। বর্তমান বিশ্বে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি ডলারের এক বিশাল চামড়ার বাজার গড়ে উঠেছে। সেই বৈশ্বিক সমীকরণের দিকে তাকালে বাংলাদেশ যদি এই বিশাল বাজারের মাত্র এক শতাংশ অংশীদারিত্বও নিজের দখলে নিতে পারত, তবে প্রতি বছর অনায়াসেই এই একটি খাত থেকেই ৫০০ কোটি ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হতো।কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আমাদের পরিবেশগত উদাসীনতার কারণে ইউরোপ ও আমেরিকার মতো বড় বড় উন্নত বাজারগুলো বাংলাদেশ ধীরে ধীরে হাতছাড়া করে ফেলছে। সাভারের ট্যানারি শিল্পনগরী গড়ে তোলার পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও সেখানে এখনো আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য শোধন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে দেশের সিংহভাগ ট্যানারি বা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রয়োজনীয় মানদণ্ড ও শংসাপত্র অর্জন করতে পারছে না। আর এই বিশেষ আন্তর্জাতিক শংসাপত্র বা সনদ ছাড়া ইউরোপ, আমেরিকা কিংবা দক্ষিণ কোরিয়ার বড় বড় নামী ব্র্যান্ড ও ক্রেতারা বাংলাদেশি চামড়া কিনতে কোনো ধরনের আগ্রহ দেখাচ্ছে না।এই চরম সংকটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ জানিয়েছেন, অতীতে ইউরোপ, আমেরিকা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উন্নত দেশগুলোই ছিল আমাদের প্রক্রিয়াজাত চামড়ার প্রধান ও সবচেয়ে বড় ক্রেতা। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় এখন চীন ছাড়া বাংলাদেশের সামনে আর কোনো বড় বাজার অবশিষ্ট নেই। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে চীনা ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ থেকে অত্যন্ত কম ও পানির দামে কাঁচা ও আধা-প্রক্রিয়াজাত চামড়া কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এরপর তারা নিজেদের দেশে নিয়ে সেই চামড়ার ওপর লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের আন্তর্জাতিক সনদের সুবিধা ব্যবহার করে চড়া দামে ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে বিক্রি করছে। এর ফলে বাংলাদেশি মূল উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা চরমভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তিনি আরও জানান যে, সাভারের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার বা সিইটিপি পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ার কারণেই দেশ এই আন্তর্জাতিক শংসাপত্র থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা বিশ্ববাজারে আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। সময়োপযোগী ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অভাবেই এই সংকট দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে এবং চামড়ার বাজার দখলে চীন, ভারত ও পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলো বাংলাদেশকে বহুদূর পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে।বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিডার একটি বিশেষ প্রতিবেদনেও এই সংকটের ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং আন্তর্জাতিক সনদের অভাবে বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রায় ৫০ কোটি ডলারের সম্ভাব্য রপ্তানি আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমানে সমগ্র দেশের মধ্যে মাত্র চারটি ট্যানারি কারখানা এই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের শংসাপত্র পেয়েছে, যার একটিও আবার সাভারের সরকারি চামড়া শিল্পনগরীর ভেতরে অবস্থিত নয়।সাভারের এই কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার বা সিইটিপির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এটি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অকার্যকর অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ঢাকার হাজারীবাগ এলাকার পরিবেশ দূষণ রোধে ২০০৩ সালে ট্যানারি শিল্পকে সাভারে স্থানান্তরের এই মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। শুরুর দিকে মাত্র দুই বছরের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার কথা থাকলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ধীরগতির কারণে এটি সম্পন্ন হতে প্রায় দুই দশক সময় লেগে যায়। এই দীর্ঘ সময়ে প্রকল্পের মূল ব্যয় ১৭meta কোটি টাকা থেকে এক লাফে বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ১৫ কোটি টাকায়। কিন্তু এত বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের পরও সাভারের শিল্পনগরী আজ পর্যন্ত পুরোপুরি পরিবেশসম্মত হিসেবে গড়ে উঠতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের মতে, এই বর্জ্য শোধনাগারের নকশাতেই শুরু থেকে বড় ধরনের গলদ ছিল। এখানে প্রতিদিন মাত্র ২৫ হাজার ঘনমিটার তরল বর্জ্য শোধনের সক্ষমতা রয়েছে, অথচ কারখানাগুলো থেকে প্রতিদিন উৎপাদিত বর্জ্যের পরিমাণ প্রায় ২৮ হাজার ঘনমিটার। আর পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির মৌসুমে যখন চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের ধুম পড়ে, তখন বর্জ্যের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার ঘনমিটারে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক ও উদ্বেগের বিষয় হলো, বর্জ্য থেকে বিষাক্ত ক্রোমিয়াম আলাদা করার ইউনিটটি এখনো পুরোপুরি কার্যকর করা যায়নি। যার ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার অপরিশোধিত বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্য সরাসরি পার্শ্ববর্তী ধলেশ্বরী নদীতে গিয়ে পড়ছে, যা আশেপাশের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য এক দীর্ঘমেয়াদি ও ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনছে। তবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, গত দুই বছরে এই শোধনাগারের কিছু সংস্কার কাজ করা হয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় ইতালির একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান এখন এর কারিগরি মূল্যায়ন করছে। তারা আশা করছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এর একটি স্থায়ী সমাধানের রূপরেখা তৈরি করা সম্ভব হবে।এদিকে প্রতি বছর কোরবানির মৌসুমে দেশের চামড়া বাজারের আরেকটি করুণ চিত্র ফুটে ওঠে, যখন কাঁচা চামড়া পানির দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। ঈদুল আজহার সময়ে দেশে প্রায় এক কোটির মতো পশুর চামড়া সংগৃহীত হয়। অথচ এই বিপুল পরিমাণ উন্নতমানের প্রাকৃতিক কাঁচামালের কোনো ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না মাঠ পর্যায়ের মৌসুমি ব্যবসায়ী, গ্রামীণ দরিদ্র মানুষ এবং এতিমখানা ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। এক সময় যে বড় আকারের গরুর চামড়া অনায়াসে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা দেশের অনেক এলাকায় মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় নেমে এসেছে। আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের দাবি, কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক ও লবণের খরচ এখন এতটাই বেড়ে গেছে যে, তা অনেক সময় মূল বিক্রয়মূল্যের চেয়েও বেশি হয়ে যায়। ফলে প্রান্তিক সংগ্রহকারীদের চরম লোকসান গুনতে হচ্ছে এবং অনেক সময় ক্ষোভে ও হতাশায় মূল্যবান চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা বা নদীতে ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।এরই মধ্যে বাজারে লবণের আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি চামড়া খাতে নতুন করে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে। একটি বড় আকারের গরুর চামড়া প্রাথমিকভাবে সংরক্ষণের জন্য অন্তত ৭ থেকে ১০ কেজি লবণের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে লবণের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় চামড়া সংরক্ষণ বা দলাই করার খরচ অনেক বেড়ে গেছে। ৭৪ কেজির প্রতি বস্তা লবণ যা কয়েক মাস আগেও ৬৮০ থেকে ৭০০ টাকায় পাওয়া যেত, তা এখন বাজারে ৯৩০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চামড়া ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট অভিযোগ, লবণ সিন্ডিকেট বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এই দাম বাড়িয়েছে। এর সাথে প্রতিটি চামড়ার পেছনে পরিবহন খরচই পড়ে যায় ৪০০ টাকার বেশি। ট্যানারি মালিকরা আড়তদারদের বকেয়া টাকা সময়মতো পরিশোধ না করায় এবং লবণের দাম বাড়তে থাকায় ছোট ও মাঝারি আড়তদাররা এখন দেউলিয়া হওয়ার পথে।ব্যবসায়ীদের এই আর্থিক সংকটের পেছনে ব্যাংকগুলোর উদাসীনতাও কম দায়ী নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চামড়া ব্যবসায়ীদের দ্রুত ও সহজ শর্তে ঋণ বিতরণের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া থাকলেও বাস্তবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এই খাতে ঋণ দিতে অনীহা প্রকাশ করছে। এই শিল্পে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো অর্থায়ন কমিয়ে দিয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালেও চামড়া খাতে যেখানে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল, গত বছর তা নাটকীয়ভাবে কমে মাত্র ১২৫ কোটি টাকায় এসে ঠেকেছে। ছোট-বড় সব ব্যবসায়ীদের একই দাবি, সহজ শর্তে এবং দীর্ঘমেয়াদি বিশেষ ঋণ সুবিধা না দিলে এই খাতে নতুন কোনো দেশি বা বিদেশি বিনিয়োগ আসা অসম্ভব।অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের অন্যতম বড় দুর্বলতা হলো পণ্যের মানোন্নয়ন বা রূপান্তর মূল্যের অভাব। আমরা এখনো আমাদের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগের জন্য 'ওয়েট ব্লু' বা প্রাথমিক স্তরের আধা-প্রক্রিয়াজাত চামড়ার ওপর নির্ভরশীল হয়ে আছি। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে আসল বড় মুনাফা আসে চামড়া দিয়ে তৈরি বিশ্বমানের জুতা, জ্যাকেট, সুদৃশ্য ব্যাগ এবং বিভিন্ন আধুনিক ফ্যাশন সামগ্রী থেকে। চামড়া শিল্পকে শুধু কাঁচামাল বিক্রির খাত হিসেবে না দেখে এর ডিজাইন, নিজস্ব ব্র্যান্ডিং এবং উন্নতমানের ফিনিশড পণ্য উৎপাদনে জোর দিতে হবে। কাঁচামাল ও সস্তা শ্রম থাকা সত্ত্বেও সমন্বিত জাতীয় নীতি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও পরিবেশগত ছাড়পত্র নিশ্চিত করতে না পারায় সম্ভাবনার একটি বড় অংশই অপূর্ণ রয়ে যাচ্ছে।এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দেশের চামড়া খাতের ব্যবসায়ীরা এখন একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও শক্তিশালী ‘জাতীয় চামড়া বোর্ড’ গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, নীতিগত সমন্বয় সাধন, আন্তর্জাতিক নতুন বাজার সন্ধান, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও শংসাপত্র অর্জন এবং সঠিক অর্থায়ন ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। এর পাশাপাশি এলডব্লিউজি সনদের জটিলতা কাটাতে সাভারের সিইটিপির ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি ট্যানারিতে নিজস্ব উদ্যোগে ছোট ইটিপি স্থাপন, শুল্কমুক্ত সুবিধায় কেমিক্যাল আমদানি এবং স্থানীয় বাজার বড় করার জন্য দেশের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চামড়ার তৈরি জুতা ও ব্যাগ ব্যবহারে উৎসাহিত করার মতো কিছু দূরদর্শী প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়েছে।যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হচ্ছে যে চামড়া শিল্পকে পোশাক খাতের মতো একটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত রপ্তানি খাত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, তবে ব্যবসায়ীদের মনে এখনো গভীর সংশয় ও সন্দেহ রয়ে গেছে। তাঁরা মনে করেন, শুধু কোরবানি এলে বা বছরের নির্দিষ্ট কোনো সময়ে কিছু সাময়িক ও মৌসুমি উদ্যোগ নিয়ে এই গভীর সংকট কাটানো সম্ভব নয়। সাভারের শোধনাগারকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, সহজ শর্তে ব্যাংকিং ঋণ নিশ্চিত করা এবং রপ্তানি প্রণোদনা বৃদ্ধি করা ছাড়া এই শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা যাবে না। তৈরি পোশাক খাতের পর যা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত হওয়ার সমস্ত যোগ্যতা রাখত, তা আজ দীর্ঘদিনের কুশাসন, অব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত সংকটের চোরাবালিতে হারিয়ে যেতে বসেছে।সম্প্রতি দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছেন যে, চামড়া শিল্পের উন্নয়ন ও সুরক্ষায় সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। বিশেষ করে কোরবানির উৎসবের সময়ে চামড়া যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ নিশ্চিত করা, মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকার এই খাতের সব অংশীজনদের সাথে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল