প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ২৩ কিলোমিটার যানজট, দুর্ভোগে ঘরমুখো মানুষ
আকাশ মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার ||
অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, বৈরী আবহাওয়া ও যমুনা সেতু সংযোগ সড়কে রাতে একের পর এক গাড়ি বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার দিবাগত গভীর রাত থেকেই মহাসড়কের ২৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে থেমে থেমে চলছে যানবাহন। যমুনা সেতুর পূর্ব পারের টোল প্লাজা থেকে শুরু করে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রাবনা বাইপাস পর্যন্ত এই দীর্ঘ যানজট ছড়িয়ে পড়েছে।হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া এই অচলাবস্থার কারণে মহাসড়কে যাতায়াতকারী হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকায় বিশেষ করে নারী, শিশু এবং বয়োবৃদ্ধ যাত্রীদের কষ্ট এখন চরমে পৌঁছেছে। গণপরিবহনের তীব্র সংকটের কারণে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।গাজীপুরের মৌচাক থেকে পাবনাগামী যাত্রী মোতালেব মিয়া জানান, শেষ রাতে কোনো বাস না পেয়ে তিনি নিরুপায় হয়ে ট্রাকে উঠেছিলেন। যে পথটুকু পাড়ি দিতে স্বাভাবিক সময়ে মাত্র দেড় ঘণ্টা লাগার কথা, সেখানে মহাসড়কের যানজটের কারণে পৌলি এলাকা পর্যন্ত আসতেই তাঁর সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় লেগে গেছে। এরপরও দীর্ঘ সময় ধরে একই জায়গায় আটকে আছেন তিনি।নিলুফা বেগম নামের অপর এক নারী যাত্রী তাঁর ক্ষোভ ও কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, তিনি পাবনা যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা এলাকা পার হওয়ার পর থেকেই গাড়ি আর স্বাভাবিক গতিতে চলছে না। কিছুক্ষণ পরপর গাড়ি সামান্য একটু সামনে এগোলেও আবার দীর্ঘ সময়ের জন্য আটকে যাচ্ছে। এই তীব্র গরম আর যানজটের কারণে সাধারণ যাত্রীদের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় হয়েছে।যাত্রী সাধারণের এই দুর্ভোগকে পুঁজি করে কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও পাওয়া গেছে। মনোয়ার মিয়া নামের এক তরুণ যাত্রী জানান, দূরপাল্লার কোনো বাসেই কোনো আসন খালি নেই, এমনকি বাসের ভেতরে দাঁড়িয়ে যাওয়ার মতো ন্যূনতম জায়গাটুকুও অবশিষ্ট নেই। বাধ্য হয়ে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি টাকা খরচ করে তিনি ট্রাকে উঠেছেন। কিন্তু সেখানেও তীব্র যানজটের কারণে প্রচণ্ড কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।এই সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, রাতের বেলা আচমকা বৃষ্টি শুরু হওয়া এবং ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণেই মহাসড়কের কিছু জায়গায় এই জটলার সৃষ্টি হয়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, বেলা বাড়ার সাথে সাথে এবং রোদ উঠলে রাস্তায় গাড়ির চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল