প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬
জ্বালানিতে স্বনির্ভরতার দিকে অগ্রসর বাংলাদেশ
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
বাংলাদেশ এখন আর কেবল পরিবেশ সুরক্ষার ফাঁকা বুলি বা আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, সবুজ অর্থনীতি এবং আত্মনির্ভরশীল বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার দিকে বাস্তবমুখী ও দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। গতকাল সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে এক বিশেষ জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ‘নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ অন-গ্রিড রুফটপ’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দেশের জ্বালানি খাতের এই ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক রূপান্তরের কথা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেন, আজ যে বিশেষ ও আধুনিক প্রকল্পটির উদ্বোধন করা হলো, সেটি কেবল সাধারণ একটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ মাত্র নয়। বরং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, দূষণমুক্ত ও টেকসই বাংলাদেশের প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় সংসদ ভবনের ছাদে এই শক্তিশালী এক মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে একটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট বার্তা দেওয়া সম্ভব হলো। আর সেই বার্তাটি হলো—বাংলাদেশ এখন পরিবেশবান্ধব সবুজ জ্বালানি এবং আত্মনির্ভরশীল বিদ্যুৎ খাতের এক নতুন অভিযাত্রায় শামিল হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অনুরোধ রক্ষা করে এই পরিবেশবান্ধব ও যুগান্তকারী অন-গ্রিড রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক ফলক উন্মোচন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীরবিক্রম।বিশ্ববিখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের অনন্য ও নান্দনিক নকশায় নির্মিত ঢাকার এই জাতীয় সংসদ ভবনকে দেশের শাসনব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পবিত্র ভবনের ছাদে সরাসরি সূর্যের আলো বা সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে আজ এটি প্রমাণিত হলো যে, দেশের নেতৃত্ব কেবল মুখের কথায় বা কাগজে-কলমের নীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা বাস্তব কর্মক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হয়। তিনি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে দ্রুত শিল্পায়ন বাড়ছে, যার ফলে প্রতিনিয়ত বিদ্যুতের চাহিদাও জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এই উন্নয়নের ডামাডোলের মধ্যেও আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক অভিঘাতে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম একটি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, অনিয়মিত এবং অসময়ের বর্ষণ, ঘন ঘন শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় এবং উপকূলীয় নদীভাঙন এখন দেশের মানুষের জন্য প্রতিদিনের এক নির্মম বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।এই প্রাকৃতিক বৈরিতার প্রেক্ষাপট টেনেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির পথে হাঁটা এখন আর কেবল কোনো পরিবেশগত আনুষ্ঠানিকতা বা বিলাসিতা নয়, বরং এটি বর্তমান বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং সামগ্রিক জাতীয় নিরাপত্তার এক অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই বিশাল সম্ভাবনার সবচেয়ে উজ্জ্বল এবং সহজলভ্য দিকটি হলো সৌরশক্তি। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে প্রতি বর্গকিলোমিটারে সাড়ে চার থেকে পাঁচ কিলোওয়াট ঘণ্টার সৌরশক্তি বা সূর্যের আলো পাওয়া যায়। দেশের এই বিশাল প্রাকৃতিক শক্তিকে কাজে লাগানোর জন্য আমাদের অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি ভবনের ছাদ, বিস্তীর্ণ শিল্প এলাকা, পরিত্যক্ত খোলা জমি এবং বিশাল উপকূলীয় অঞ্চল এক একটি অফুরন্ত সম্ভাবনার খনি হিসেবে কাজ করতে পারে।তিনি গভীর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আশা প্রকাশ করেন যে, জাতীয় সংসদ ভবনের ছাদে শুরু হওয়া এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগটি দেখে দেশের অন্য সব সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বড় বড় বেসরকারি শিল্পকারখানাগুলোও নিজেদের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত হবে। দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এবং সচেতন নাগরিক যদি নিজের অবস্থান থেকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ জ্বালানির এই জাতীয় মহাযজ্ঞে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়, তবে বাংলাদেশ অচিরেই বিশ্বের বুকে টেকসই উন্নয়নের একটি অন্যতম সেরা মডেল রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে।ঐতিহাসিক এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনুষ্ঠানস্থলে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের হুইপ, সংসদ সদস্য, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদে কর্মরত বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত থেকে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হন।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল