প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণহানি
||
পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে বাড়ির পথে রওনা হওয়া মানুষগুলোর ঈদযাত্রা মুহূর্তের মধ্যেই এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে রূপ নিল। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতি এলাকায় রডবোঝাই একটি পণ্যবাহী ট্রাক উল্টে ১৭ জন যাত্রী ঘটনাস্থলেই নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। বুকফাটা আর্তনাদ আর রক্তে রঞ্জিত হয়েছে মহাসড়কের পিচঢালা পথ। এই অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, যাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার ভোর চারটার দিকে মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া নামক এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ আতাউর রহমান গণমাধ্যমের কাছে দুর্ঘটনার এই ভয়াবহ চিত্র এবং নিহতের সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, নিহত হতভাগ্য যাত্রীদের প্রায় সবাই পেশায় দিনমজুর বা নিম্নআয়ের মানুষ। তারা সবাই ঈদে ঘরে ফেরার জন্য কোনো দূরপাল্লার বাস বা নিরাপদ যানবাহন না পেয়ে কম খরচে যাতায়াতের আশায় ওই রডবোঝাই ট্রাকে চেপে উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিলেন। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন আর বাড়ি ফেরা হলো না, তার আগেই মাঝপথে ঝরে গেল ১৭টি তাজা প্রাণ। দুর্ঘটনার আকস্মিকতা এবং তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের সবার নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। স্বজনদের খোঁজে হাইওয়ে থানা ও হাসপাতালে এখন এক শোকার্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।হাইওয়ে পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা যায়, ঢাকা থেকে রড বোঝাই করে ছেড়ে আসা উত্তরবঙ্গগামী ওই ট্রাকটি মহাসড়কের যমুনা সেতুমুখী লেনের ভাতকুড়া এলাকায় পৌঁছালে এক চরম বিপর্যয় ঘটে। দূরপাল্লার ক্লান্তিতে ভোররাতের দিকে ট্রাকের চালক চলন্ত অবস্থাতেই হুট করে ঘুমিয়ে পড়েন। চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে দ্রুতগতির ভারী ট্রাকটি সড়কের মাঝখানে থাকা সড়ক বিভাজকের ওপর সজোরে উঠে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে উল্টে পড়ে। রডের প্রচণ্ড ওজন এবং ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই চালকসহ ১৭ জনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই টাঙ্গাইল ও এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের একাধিক উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তারা স্থানীয় সাধারণ মানুষের সহায়তায় রডের নিচে ও ট্রাকের বডির ভেতরে আটকে থাকা ছিন্নভিন্ন লাশগুলো উদ্ধার করার কাজ শুরু করেন।এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার কর্তব্যরত সার্জেন্ট সাজিদুল ইসলাম এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার বিষয়ে জানান যে, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টায় সবকটি লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটিকে রাস্তা থেকে সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। প্রতি বছরই ঈদের আগে এভাবে ট্রাকে করে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার কারণে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটলেও, অসচেতনতা ও তদারকির অভাবে আবারও ঝরে গেল এতগুলো প্রাণ। এই ঘটনায় পুরো টাঙ্গাইল জেলা জুড়ে এবং নিহতদের পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল