প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬
ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনা নতুন মোড়ে
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা বা চুক্তি নিয়ে মাত্র কয়েক দিন আগেও যে আশাবাদী পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাতে কিছুটা ভাটা পড়েছে। খোদ হোয়াইট হাউসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এখন এ বিষয়ে বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, চুক্তি চূড়ান্ত করার আগে এখনও বেশ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বাকি রয়েছে। ফলে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে আরও বেশ কিছুদিন সময় লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এই আলোচনা নিয়ে একেবারেই হতাশ নন। শেষ পর্যন্ত একটি ফলপ্রসূ সমঝোতা হবে—এমন সম্ভাবনা তারা উড়িয়ে দিচ্ছেন না, তবে সেই প্রক্রিয়াটি ঠিক কতটা দ্রুত সম্পন্ন হবে তা নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।চলমান এই দীর্ঘ সংঘাতের পুরো সময় জুড়েই একটি অদ্ভুত দ্বিমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যখনই কোনো একটি বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দাবি করেছে, ইরান প্রায় প্রতিবারই তা সরাসরি অস্বীকার বা নাকচ করে দিয়েছে। চলমান আলোচনাতেও সেই একই চেনা চিত্রনাট্যের পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় স্বাভাবিক ও উন্মুক্ত করে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনায় বেশ অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে যে, দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এখনও সেই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এই বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক মহলেও এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।এদিকে বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাজারের বড় বড় অংশীদাররা এখন অত্যন্ত নিবিড়ভাবে এই আলোচনার প্রতিটি পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালী বৈশ্বিক জ্বালানি ও তেল সরবরাহের প্রধান ধমনী হিসেবে বিবেচিত। এই জলপথের সামান্য অস্থিরতাও পুরো বিশ্বের জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এর মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ফাঁস হয়েছে। সেই গোপন নথির তথ্য অনুযায়ী, ইরান বর্তমানের এই অচলাবস্থা বা টানটান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি আরও অন্তত তিন থেকে চার মাস অনায়াসে বজায় রাখতে সক্ষম। তেহরানের এই দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতার খবর ভাবিয়ে তুলছে আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের।অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই এই সংকট আরও কয়েক মাস স্থায়ী হয়, তবে বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য আকাশচুম্বী হয়ে উঠবে। আর এত দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ তেলের মূল্যের নেতিবাচক ধাক্কা বিশ্ব অর্থনীতি কতটা সহ্য করতে পারবে, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন ও গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে। এর ফলে অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে নতুন করে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।উদ্ভূত এই পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জনসভায় ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, পুরো পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই রয়েছে এবং তারা যেভাবে চাইবে পরিস্থিতি সেভাবেই মোড় নেবে। তবে তেহরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। তারা পাল্টা কড়া বার্তা দিয়ে ওয়াশিংটনকে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই ভূরাজনৈতিক সংকটে তেহরানেরও নিজস্ব বিশাল প্রভাব, প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষমতা এবং পাল্টা আঘাত হানার যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে, যা উপেক্ষা করা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের বিশ্ব রাজনীতির ভাগ্য।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল