প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬
রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল আজ!
স্বাধীন আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার ||
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির কোমলমতি শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে পাশবিক নির্যাতনের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে এক বড় অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ডিএনএ পরীক্ষার যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ তথা সিআইডি গতকাল শনিবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আজ রোববারের মধ্যেই বিজ্ঞ আদালতে এই মামলার চূড়ান্ত অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করা হতে পারে বলে জানা গেছে। পল্লবী থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই মামলার নথিপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং ডিএনএ পরীক্ষার এই অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণটি হাতে পাওয়ার পরপরই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।লোমহর্ষক এই ঘটনাটি ঘটেছিল গত উনিশে মে পল্লবীর মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন একটি বসতবাড়িতে, যেখানে পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই পৈশাচিক ঘটনার ঠিক পরের দিন অর্থাৎ বিশে মে শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে সুনির্দিষ্টভাবে আসামি করা হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে বিশে মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় প্রধান আসামি সোহেল রানার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। বিজ্ঞ আদালতে দেওয়া সেই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসামি নিজের অপরাধের কথা পুরোপুরি স্বীকার করে এবং জানায় যে, এই জঘন্য ও বর্বর কাণ্ডটি ঘটানোর পূর্বে সে মারাত্মক মাদক ইয়াবা সেবন করেছিল।এদিকে এই অবুঝ শিশুকে নির্মমভাবে হত্যার বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে বর্তমান সরকার শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তীব্র প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দেশের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। গতকাল শনিবার রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত ব্র্যাক সেন্টার অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর এবং ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আইনি সুরক্ষা ও সচেতনতা বিষয়ক একটি বিশেষ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন। আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন যে, দেশের ইতিহাসে এর আগেও অতি দ্রুততম সময়ে বিচার সম্পন্ন করার নজির রয়েছে, যেমন মাগুরার আছিয়া হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিলের পর মাত্র এক মাসের মধ্যে বিচার শেষ হয়েছিল এবং ১৯৪৮ সালের ঐতিহাসিক মুলুক চাঁদ মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হয়েছিল মাত্র এক দিনে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পঁচিশে মে থেকে পবিত্র ঈদ উপলক্ষে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার আগেই যেহেতু ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া গেছে এবং অভিযোগপত্র দাখিল করা সম্ভব হচ্ছে, তাই ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পরপরই এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করা যাবে। উচ্চ আদালতে এই ধরনের মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের ক্ষেত্রে যে দীর্ঘসূত্রতা দেখা যায়, তা দূর করতে এবং মামলার বৃত্তান্ত বা পেপার বুক তৈরির প্রক্রিয়াটি আরও সহজ ও দ্রুত করার জন্য সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাজ করছে বলেও তিনি গণমাধ্যমকে আশ্বস্ত করেন।অন্যদিকে এই ঘটনাটিকে পুরো দেশের জন্য একটি চরম লজ্জা ও গভীর বেদনার বিষয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। গতকাল শনিবার সকালে শেরেবাংলা একে ফজলুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের এক আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন যে, রামিসার মতো একটি নিষ্পাপ শিশুকে এভাবে চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেলা পুরো জাতির জন্য অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। প্রধানমন্ত্রী নিজে নিহত শিশুর শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন এবং দেশের প্রচলিত কঠোর আইনের আওতায় অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তথ্যমন্ত্রী এই জাতীয় অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা এবং জনমত গঠনে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বলেন যে, সাংবাদিকদের লেখনীর মাধ্যমেই সমাজ থেকে এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ চিরতরে নির্মূল করা সম্ভব হবে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল