প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬
গুচ্ছকবিতা
আমেনা তালুকদার (বৃষ্টি) ||
১শেষ চিরকুটএকদিন জীবনের সব হিসাব চুকে যাবে।শেষ হবে জীবনের সমস্ত অভিমান - অভিযোগ।চোখ গুলো একদিন স্থব্ধ পাথর হয়ে যাবে।ঝরে পড়া তপ্ত অস্রু গুলো ক্ষান্ত হবে।ব্যবিলনের শূন্য উদ্যানের ন্যায় বিলীন হয়ে যাবেঠোঁটের কোনায় লেগে থাকা মিথ্য হাসিটাও।জাপানের হিরোসীমা আর নাগাসির মতোইক্ষতবিক্ষত হওয়া হৃদয়ের দহন থেমে যাবে।ক্ষণিকের রঙিন স্বপ্ন গুলো ও একদিনফিকে হয়ে যাবে অমাবস্যা রজনীর ন্যায়।পৃথিবী আপন গতিতেই পরিচালিত হবে।রবি- শশী নিজস্ব গতিতেই আলো হারাবে।কিছু না বলা নির্মম গল্প রয়ে যাবেসবার অগোচরে। যা কখনো বলা হবে না,লিখা হবে না,পড়া হবে না কোনো কালে।সময়ের ভারের কাছে পরাজিত হয়ে যাবেকিছু নির্মম সত্য।কোনো এক বেলা শেষে ক্লান্ত সূর্যের ন্যায়আমার জীবন প্রদীপটাও নিভে যাবে।জীবন গল্পের শেষ চিরকোট লিখা হবেআমি আর নেই।২:বাহারী দুঃখশুনেছি বদনজরে –সবকিছু ধ্বংস হয়ে যায়,একটা উটকে রান্নার পাতিলে আর মানুষকে কবরে।তবে আমার দুঃখে কেন নজর লাগে না?জন্মলগ্নের এই বাহারী দুঃখ কেন ফুরোয় না?কেবল সুখের ঘরে চৈত্রের খরতা, আর কালবৈশাখীর তাণ্ডব লীলায় স্বপ্ন ভেঙে যায়।তবে কী সুখের চেয়েও দুঃখের ক্ষুদা বেশি?সবকিছু খাওয়ার পরেও চোখের জল খেতে হয়!৩:কবিতা লেখার মতো,যদি আমার ভাগ্য লেখার অধিকারওবিধাতা আমার হাতে দিয়ে দিতেন—কবিতার ভুল পঙ্ক্তিমালার মতোআমার জীবনে করা ভুলগুলোও হয়তোআমি নিজ হাতেই লিখে ফেলতাম।ভাগ্যিস, বিধাতা এই ক্ষমতানিজের হাতেই রেখে দিয়েছেন।নয়তো জীবনের মতোভাগ্যকেও ধ্বংস করে ফেলতাম।আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনাকারী—তিনি নিজ হাতেই লিখেছেন আমার ভাগ্যফল।জীবনে যত দুঃখ, কষ্ট, যাতনা ভোগ করেছি,সবকিছুই হয়তো আমার কর্মফল।৪: আচ্ছা স্মৃতির ওজন এতো ভারি হয় কেন?কেন লোনা জলে মাখা ভাত গোগ্রাসে গিলতে হয় দুঃখ।কেন রাত বিরাতে তপ্ত অস্রু বিসর্জনে নির্ঘুম প্রহর কাটে?ভালোবাসা যদি দুটি হৃদয়ের সন্ধি হয়,তবে এক পক্ষ কেন বিষাদ সিন্ধুতে ডুবে মরে।তবে কি ভালোবাসা এক পাক্ষিক হয়?৫:সময়ের কাছ থেকে ধার করে আনা তোমাকে,আমি আবার চক্রবৃদ্ধি মুনাফা হারে, সময়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে যাব।চলতি ট্রেনে আমি আবার নামহীন অজানা উদ্দেশ্য রওনা দেব।ফেরা হবেনা কখনো আর পুরাতন স্টেশন চত্বরে।তোমার প্রতি আমার কোনো আক্ষেপ নেই।কোনো কালেই কোনো অভিমান -অভিযোগ নেই।সমস্ত অভিমান তো আমার সময়ের কাছে যে তোমাকে রাখেনি আমার করে।চেয়ে নেওয়া সময় কিংবা ভালোবাসা।কোনো কালে দুঃখ ব্যাথিত সুখ দেয় না।৬:প্রতিটা নির্ঘুম রজনী জানে অপেক্ষার প্রহর কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়।কতো তৃষ্ণার্ত হৃদয়ের আর্তনাদে ভারি হয় চারিপাশ।দিনের আলোয় আলোকিত মুখোশ গুলো উন্মোচন বিদঘুটে অমাবস্যায়।৭:উড়তে দিলাম তোমায় মেঘের মতো আকাশের ঐ নীলিমায় যখন মন খারাপ হইবো বৃষ্টি হইয়া নাইমা আইসো।আমি তুমাতে দুঃখ লুকাবো৮:নাটাই হাতে থাকা উদাসীন কিশোরেরমনের অবস্থা যদি সুতো কাটা ঘুড়ি জানতে পারতোতবে কখনোই সুতা ছিঁড়ে চইলা যাইতে পারতো না সুদূর আকাশ পানে।বাতাসের সাথে পাল্লা দিয়ে কখনই আকাশ ছুঁয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখতো না।নাটাইয়ের টানে হয়তো ফিরে যাইতো কিশোরের হাতে ।কিশোরের যত্নে গড়া রঙিন ঘুড়িটি যদি জানতে পারতোকতটা আকুলতা রয়েছে তার হারানোর মাঝেকতটা অশ্রু বিসর্জন দিয়েছে জলাঞ্জলি,কতটা আহত হয়েছে তার হৃদপিণ্ডতাহলে হয়তো মায়ায় পড়ে সুতো ছিঁড়ে যাওয়ার ভয় সেও করতো।৯:গুটিকয়েক মানুষ নয়,আমি চাইসমগ্র পৃথিবীটাই আমাকে ভুল বুঝুক।ভুলের আবরণে একদিনসবাই আমাকে ভুলে যাক।ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নিক,মুছে যাক আমার স্মৃতিচিহ্নগুলোসবার হৃদয়ের শেষ প্রান্ত থেকেও।অতঃপর কোনো একদিনসবাই জানুক—আমি আর নেই,আমি আর নেই এই ধরনীতে,কোনো অচিন দেশে দিয়েছি পাড়ি।যতটা ভুল বুঝেছিল সবাই,ততটাই নির্দোষ ছিলাম আমি১০:অনবরত অশ্রু বিগলিত চক্ষুদয় কে শুধোলোমখরস্রোতা নদীও কালের প্রভাহে জল শূণ্য হয়ে যায়।বারিবর্ষণে ক্লান্ত হয়ে আকাশ ও ক্লান্ত হয়ে গিয়ে -উজ্জ্বল রৌদ্র ছড়ায় ।অক্লান্ত নেত্রপল্লবের কি কোনোক্রমেই পরিসমাপ্তি নেই?এহেন শুনিয়া আঁখিদ্বয় নিরেট হাসিয়া কহিল।ওহে বোকা ,ওহে অধম,,,,,নয়নে বয়ে চলা তরল পদার্থ এ কোনো জল নহে।ইহা হৃদপিন্ডে যাতনার অনলে লালন করা হৃদয়ের রক্তক্ষরণ।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল