প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬
গুচ্ছকবিতা
তানভীর আহমেদ হৃদয়, কবি ||
১. উত্তরাধিকারতোমার চলে যাওয়ার পর আয়নাটি আমাকে চিনতে অস্বীকার করেছে।প্রতিদিন তার সামনে দাঁড়িয়ে একটু একটু করে অন্য মানুষ হচ্ছি।একদিন হয়তো আমার মুখে তোমার অনুপস্থিতিও থাকবে না।২. মৃত্যুর মহড়াপ্রতিদিন রাতে ঘুমিয়ে পড়ি, সকালে উঠে দেখি পৃথিবী আগের মতোই বেঁচে আছেশুধু আমার ভিতরে কেউ একজন রাতভর মৃত্যুর মহড়া দিয়ে গেছে।৩. ব্যক্তিগত ভূগোলতোমার শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর আমার হাত দুটি আর কোনো মানচিত্র মানে না।যেখানে তোমাকে ছুঁয়েছিলাম, সেখানেই পৃথিবীর সীমানা শেষ।৪. অনুপস্থিতির ব্যাকরণতুমি নেই—বাক্যটি লিখতে গিয়ে দেখি, ক্রিয়াপদটি ঠিক আছে,শুধু সর্বনামটি ধীরে ধীরে আমার মুখ হয়ে উঠছে।৫. সময়ের ময়নাতদন্তপুরোনো ছবিটা কেটে দেখলাম,আমাদের হাসির ভিতরে একটি মৃত বিকেল জমে আছে।সময় তাকে পচতে দেয়নি; স্মৃতি বলে চালিয়ে দিয়েছে।৬. ঈশ্বরের ঠিকানাপ্রার্থনা করতে গিয়ে নিজের বুকেই দরজার শব্দ শুনলাম।খুলে দেখি, কেউ নেই।অথচ ভিতর থেকে কে যেন প্রতিদিন আমাকে বের করে দিচ্ছে।৭. শেষ চিঠিতোমাকে শেষ চিঠিটি লিখিনি।ডাকবাক্সে নিজের নাম ফেলেছিলাম।বহুদিন পর ফেরত এলো—খামের ভিতরে একজন অপরিচিত মানুষ।৮. প্রেমের পরিভাষাআমরা পরস্পরকে ভালোবাসিনি,হয়তো পরস্পরের ভিতরে আশ্রয় নিয়েছিলাম।বিপর্যয়ের পর দুজনেই বেঁচে গেলাম;শুধু বাড়ি ফেরার রাস্তাটি আর খুঁজে পেলাম না।৯. স্মৃতির কারখানারাত হলেই মস্তিষ্ক পুরোনো দৃশ্যের নকল তৈরি করে।সেখানে তুমি হাসো, আমি কাঁদি,আর বাস্তবতা বাইরে দাঁড়িয়ে নকলের সত্যতা যাচাই করে।১০. আত্মজীবনীআমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটি কোথাও ঘটেনি।তবু তার পর থেকে সবকিছু ঘটছে—শুধু আমি আর আগের মানুষটি নেই।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল