প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬
এআইয়ের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরতায় কমছে কি মানুষের স্মৃতিশক্তি ও স্বাধীন চিন্তা? বিশেষজ্ঞদের মতামত
সুমাইয়া জাবির , ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর ||
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর যুগে চ্যাটজিপিটির মতো প্রযুক্তি মানুষের দৈনন্দিন কাজ বহুগুণ সহজ ও দ্রুত করলেও, এর অতিমাত্রায় ব্যবহার মানুষের স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং স্বাধীন চিন্তাভাবনার ক্ষমতাকে ধীর করে দিচ্ছে কিনা—তা নিয়ে চিকিৎসক ও গবেষকদের মাঝে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। ভারতের চেন্নাইয়ের গ্লেনিগলস হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. নাইজেল পিটার সিমস জানান, নতুন কিছু শেখা ও মনে রাখার ক্ষমতা নির্ভর করে তথ্যের সঙ্গে মস্তিষ্ক কতটা সক্রিয়ভাবে যুক্ত হচ্ছে তার ওপর। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় স্নায়ুকোষের এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে ‘নিউরোপ্লাস্টিসিটি’ বলা হয়। মস্তিষ্কের ‘হিপোক্যাম্পাস’ অংশটি স্মৃতি গঠনে মূল ভূমিকা পালন করে, যা মূলত গভীর মনোযোগ ও সক্রিয় চিন্তাভাবনার মাধ্যমে শক্তিশালী হয়। কিন্তু দীর্ঘ লেখা সংক্ষেপ করা বা জটিল সমস্যার উত্তর খোঁজার কাজে এআই-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা মানুষের এই ‘অ্যাক্টিভ রিকল’ বা নিজের মাথা খাটিয়ে শেখার সহজাত অভ্যাসকে কমিয়ে দিচ্ছে। সম্প্রতি এমআইটি মিডিয়া ল্যাবের ‘ইওর ব্রেন অন চ্যাটজিপিটি’ শীর্ষক এক গবেষণায় ইইজি (EEG) পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা গেছে, যারা এআই-এর সাহায্য নিয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন, তাঁদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যকার সাময়িক সামগ্রিক সংযোগের মাত্রা স্বউদ্যোগে লেখা ব্যক্তিদের তুলনায় কম ছিল। তবে বিশেষজ্ঞরা আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, এআই ব্যবহারে স্মৃতিশক্তি স্থায়ীভাবে বিনষ্ট হওয়া বা মস্তিষ্কের শারীরিক ক্ষতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। তাই গবেষকদের পরামর্শ হলো—এআই-কে পুরোপুরি চিন্তার বিকল্প না বানিয়ে কেবল সহায়ক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। এআই থেকে আইডিয়া বা ধারণা নেওয়ার পর নিজের ভাষায় তা বিশ্লেষণ, সত্যতা যাচাই ও সমাধান নিজে করার চর্চা অব্যাহত রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।সূত্র: এমআইটি মিডিয়া ল্যাব ও স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল