প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬
কিউআর কোড স্ক্যান করলেই মিলত কুশ-সিনথেটিক গাঁজা! বসুন্ধরার ৪০০ শিক্ষার্থীকে টার্গেট করা মাদক চক্রের হোতা গ্রেপ্তার
সুমাইয়া জাবির , ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর ||
প্রযুক্তির অভিনব অপব্যবহার করে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে গড়ে ওঠা একটি আধুনিক মাদক চক্রের সন্ধান পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি)। ভিজিটিং কার্ডের কিউআর কোড স্ক্যান করে সিক্রেট টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে হোম ডেলিভারিতে মাদক বিক্রির অভিযোগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ড্রপআউট শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সম্প্রতি ডিএনসির সাইবার প্যাট্রলিং ও বিশেষ অভিযানে রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে চক্রের মূল হোতা ও গ্রুপ অ্যাডমিন মো. সাইম ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রায় আধা কেজি কুশ, সিনথেটিক গাঁজা, বিপুল পরিমাণ বিশেষ ভিজিটিং কার্ড এবং মাদক বিক্রির নানা আলামত উদ্ধার করা হয়।
যেভাবে চলত অভিনব এই কারবার: ভিজিটিং কার্ডের একপাশে লেখা রয়েছে ক্রেভিংস এবং অন্যপাশে রয়েছে একটি সাধারণ কিউআর কোড। আপাতদৃষ্টিতে কোনো রেস্তোরাঁ বা ব্র্যান্ডের প্রচারণাপত্র মনে হলেও, এর আড়ালে লুকিয়ে ছিল ভয়ংকর মাদকের জগৎ। এই কিউআর কোড স্ক্যান করলে ব্যবহারকারী পৌঁছে যেতেন একটি গোপন ওয়েবসাইটে, যেখানে থাকত একটি সিক্রেট টেলিগ্রাম গ্রুপের লিংক। সেখানে লগইন ও রেজিস্ট্রেশন করে সাবস্ক্রাইব করার পর সরাসরি গ্রুপ অ্যাডমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেত। পরবর্তীতে অর্ডারের ভিত্তিতে কুশ ও সিনথেটিক গাঁজার মতো উচ্চমাত্রার মাদক সরাসরি হোম ডেলিভারির মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হতো।
আইটি জ্ঞান খাটিয়ে মাদক সাম্রাজ্য: গ্রেপ্তার সাইম ইসলাম ২০২৪ সালে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে ভর্তি হন। দুই বছর পর পড়াশোনা ছেড়ে ড্রপআউট হলেও তিনি নিজের আইটি জ্ঞানকে কাজে লাগান এই মাদক ব্যবসার প্রসারে। প্রযুক্তির আড়ালে সম্পূর্ণ নিজেকে আড়াল করে ক্রেভিংস নামে ওই সিক্রেট টেলিগ্রাম গ্রুপটি পরিচালনা করতেন তিনি।
বসুন্ধরার চারশ শিক্ষার্থী ছিল ক্রেতা: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি) জানিয়েছে, সাইমের তৈরি ওই গোপন টেলিগ্রাম গ্রুপে ৩৯৭ জন সাবস্ক্রাইবার রয়েছে, যাদের প্রায় সবাই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। অত্যন্ত কৌশলে শিক্ষার্থীদের মাঝে এই কিউআর কোড সংবলিত ভিজিটিং কার্ড বিলি করে তিনি এই বিশাল গ্রাহকশ্রেণি গড়ে তোলেন। গত ছয় মাস ধরে এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মাদকের কেনাবেচা চলে আসছিল।
নেপথ্যে আন্তর্জাতিক চক্র: সাধারণ গাঁজার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ শক্তিশালী ও মারাত্মক ক্ষতিকর কুশ মাদকটির বাজার বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে ডিএনসি।সম্প্রতি ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কুশের বেশ কয়েকটি বড় চালান ধরা পড়ার পর, সাইম সরাসরি সেই আন্তর্জাতিক চক্রের কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করছিল কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিতে তারা একটি নিরাপদ ও ডিজিটাল চ্যানেল তৈরি করেছিল। উঠতি বয়সি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে এই কারবার চালানো হতো। এরই মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দেশে উচ্চমাত্রার এই মাদকের বিস্তার ও বাজার তৈরির যেকোনো প্রচেষ্টা নস্যাৎ করতে ডিএনসির গোয়েন্দা নজরদারি বর্তমানে আরও জোরদার করা হয়েছে।সূত্র: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি) ও সময় সংবাদ
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল