প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬
নিজের ভালো মন্দকে অন্যের উপর নির্ভর করাবেন না
জান্নাতুল আদন, কবি ||
আমাদের সমাজে কুসংস্কার আর আবেগে ভরপুর।আমাদের মুরব্বিরা ফরজ বিধান অমান্যকে সহজে মেনে নিলেও অহেতুক কু ধারণা থেকে ঋণ করে হলেও ছাগল জবাই করে মাজারে, মসজিদে খাওয়াই।একটা মানুষের দুইটা মেয়ের পর একটা ছেলে সন্তান হয়েছে।আমাদের সমাজ যতই বলুক সমান চোখে দেখে সব সন্তানকে, ভেতর থেকে ছেলে সন্তান মানেই বংশের বাত্তি।এখন ছেলের ফুফু নাকি স্বপ্ন দেখলো ছেলেটার কঠিন অসুখ হয়েছে, এবার ছেলের বাবা এই স্বপ্নের কথা বোনের কাছ থেকে জানার পরে ছাগল মানত করে ফেললো।আমরা বাঙ্গালীরা যতই সহীহ্ অনুসরণ করি না কেন আমাদের রক্তে রক্তে দূর্বলতা, সবকিছুতে আল্লাহর ইচ্ছে বলে ভরসা করার এক পার্সেন্ট সাহসও আমরা পায় না।কোনো অঘটন ঘটলেই অন্যকে দোষ দেওয়া, অন্যের কারণে অনিষ্ট হয়েছে বলে নিজের দুঃখে হাহুতাশ কমানোর চেষ্টা করা, আসলেই কি হাহুতাশ কমে? নাকি অন্যকে দোষ দিলে আরো বেশি হাহুতাশ বেড়ে যায়? সকালে ওঠে ফজর না পড়লেও বাড়ির বউদের নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই আমাদের অনেক মুরব্বিদের, কিন্তু সকালে উঠে ঝাড়ু হাতে নিয়ে ঘর পরিস্কার না করলে এটাতে আমাদের জাতপাত চলে গিয়ে একে কার হয়ে যায়।অথচ আমাদের আমলের হিসাব নিকেশ নিয়েই আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে।তাই বলে বাড়ির কাজ বাদ দিবে তা বলছি না।যে-ই মেয়ে ফজর দিয়ে দিনের সূচনা করবে সেই আসলেই অনেকটা গুছিয়ে রাখবে সবকিছু।নামাজের আয়োজনের জন্য আমাদের মেয়েদেরকে আসলেই অনেকগুলো কাজ স্পেসিফিক সময়ে করে ফেলতে হয়। আবার অনেকেই আছে নতুন বউ আনার পরে জামাইয়ের উন্নতি হলে বউ ভাগ্যবতী, উন্নতি না হলে বলে অভাগী।অথচ আল্লাহ আমাদের তকদীর নির্ধারণ করে রেখেছেন দুনিয়াতে আসার আগে থেকেই।যারা কখনো কোনো সময় কারো ভালোর ক্রেডিটে নিজেকে অংশীদার করে না, সেটা জামাই হোক কিংবা ভাই বাবা।এতে করে দেখা যায় খারাপেও তাদের অংশীদারত্ব নিতে হয় না।আবার অনেক মেয়েও আছে গর্বের সাথে বলে আমাকে বিয়ে করার পর থেকে আমার জামাইয়ের এটা হয়েছে সেটা হয়েছে।অথচ ভালো মন্দের সাথেই আমাদের জীবন চলা।সবচেয়ে সুখী মানুষ হচ্ছে ধৈর্যের সাথে যাদের বিশ্বাস আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্য করেন এসব মানুষরা।চট্টগ্রাম।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল