প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬
দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও অর্থায়নের অভাবে আটকে আছে উশুর বিশ্বজয়ের সম্ভাবনা
স্পোর্টস ডেস্ক ||
উশুসহ বিভিন্ন মার্শাল আর্ট ডিসিপ্লিনে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে বাংলাদেশের পক্ষে প্রচুর পদক জয়ের সুপ্ত সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে দীর্ঘমেয়াদি ও সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ, যথাসময়ে অর্থ বরাদ্দ এবং নিজস্ব স্থায়ী প্রশিক্ষণ সুবিধা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন দেশের ক্রীড়াসংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক উশু প্রতিযোগিতায় মাত্র ২৪ দিনের প্রস্তুতি নিয়ে অংশগ্রহণ সত্ত্বেও জিন্নাত আক্তার এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ পদক এনে দিয়ে ইতিহাস গড়েছেন। উশুর নারী ৫২ কেজি ক্যাটাগরিতে প্রতিদ্বন্দ্বীর ওজনজনিত ডিসকোয়ালিফিকেশনের কারণে জিন্নাত কোয়ার্টার ফাইনাল অতিক্রম করেন এবং পরবর্তীতে চীনের বর্তমান চ্যাম্পিয়নের কাছে সেমিফাইনালে হেরে ব্রোঞ্জ অর্জন করেন। বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের (বিডব্লিউএফ) প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক দিলদার হাসান দিলু জাতীয় বার্তা সংস্থাকে জানান, যেখানে এশিয়ার অন্যান্য শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বীরা বছরজুড়ে কঠোর প্রশিক্ষণে থাকেন, সেখানে মাত্র ২৪ দিনের প্রস্তুতিতে এশিয়ান গেমসে পদক জয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।তিনি উশুর আন্তর্জাতিক পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে তিনটি প্রধান বাধা চিহ্নিত করেছেন—স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পফান্ড বা অর্থ বরাদ্দে দীর্ঘসূত্রতানিজস্ব স্থায়ী প্রশিক্ষণ সুবিধার অভাবদিলদার হাসান দিলু বলেন, সাধারণত বড় কোনো টুর্নামেন্টের এক বা দুই মাস আগে অ্যাথলেটদের ক্যাম্পে ডাকা হয়, যা শারীরিক ফিটনেস এবং কৌশলগত উন্নতির জন্য একেবারেই অপ্রতুল। এছাড়া নিজস্ব ভেন্যু না থাকায় অ্যাথলেটদের বিভিন্ন অস্থায়ী ভেন্যুতে অনুশীলন চালাতে হয়।সরকারের নতুন উদ্যোগ ও বরাদ্দ:বিদ্যমান নানামুখী চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন সাম্প্রতিক কিছু সরকারি পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিডব্লিউএফ সাধারণ সম্পাদক। স্বাধীনতার পাঁচ দশক পর এবারই প্রথম অ্যাথলেটদের জন্য পারফরম্যান্স-ভিত্তিক মাসিক ভাতা কর্মসূচি চালু করেছে সরকার।এছাড়া উশুর প্রশিক্ষণের সুবিধার্থে কমলাপুরের ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে’ ৫,০০০ বর্গফুটের একটি স্থায়ী জায়গা বরাদ্দ দিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। ফেডারেশন নিজস্ব অর্থায়নে এই জায়গাটিকে একটি আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রূপান্তর করার পরিকল্পনা করছে।জিন্নাত আক্তারের পরামর্শ ও ঐতিহাসিক সাফল্য:এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জজয়ী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্রীড়াবিদ জিন্নাত আক্তারও আন্তর্জাতিক দরবারে উশুর সাফল্য ধরে রাখতে বছরব্যাপী ক্যাম্প, উন্নত পুষ্টিকর খাদ্য এবং বিদেশী কোচের দীর্ঘমেয়াদি নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে পুরাতন ম্যাট ও অস্থায়ী শেডের নিচে অনুশীলন চালাতে হচ্ছে, যা অ্যাথলেটদের পেশাদার বিকাশকে ব্যাহত করছে। সাম্প্রতিক স্বল্পমেয়াদি ক্যাম্পে বাসস্থান ও লজিস্টিক সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।২০০৭ সালে বাংলাদেশ উশু ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর ২০০৮ সালে ৩য় সাউথ এশিয়ান উশু চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করে এবং ৩টি সোনা, ১১টি রূপা ও ৭টি ব্রোঞ্জ পদক জয় করে। এরপর ২০১০ এসএ গেমসে ২টি সোনা ও ২টি ব্রোঞ্জসহ পরবর্তী সময়ে গুয়াহাটি ও পোখরা এসএ গেমসে ধারাবাহিক পদক সাফল্য বজায় রাখে বাংলাদেশ।২০২৪ সালে ফেডারেশনের প্রশাসনিক পুনর্গঠনের পর রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে শিখা খাতুন প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন। ক্রীড়াসংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বিদেশি কোচের অধীনে নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পেলে উশু, কারাতে ও তায়কোয়ান্দো থেকে এশিয়ার ও কমনওয়েলথ গেমসের মতো বড় মঞ্চে বাংলাদেশের ধারাবাহিক পদক জয় সম্ভব।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল