প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬
স্টারলিংককে ‘যুদ্ধের হাতিয়ার’ ঘোষণা ইরানের, কঠোর অভিযানের হুঁশিয়ারি
শামিমা লিয়া, আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর ||
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স-এর কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা 'স্টারলিংক'-কে শত্রুপক্ষের ‘যুদ্ধের হাতিয়ার’ হিসেবে অভিহিত করেছে ইরান। একই সঙ্গে দেশে স্টারলিংকের ব্যবহার বন্ধে চিরুনি অভিযান অব্যাহত রাখা এবং ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর আইনি ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার।বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সাইবারস্পেস কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ আমিন আগামিরি জানান, দেশবিরোধী শত্রুপক্ষ তাদের কমান্ড, কন্ট্রোল, গোয়েন্দাগিরি এবং তথ্য সংগ্রহের কাজে মূলত স্টারলিংক ব্যবহার করছে। জাতীয় নিরাপত্তার চরম স্বার্থে ইরানে স্যাটেলাইটভিত্তিক এই ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই আদেশ অমান্য করে অবৈধভাবে স্টারলিংক ব্যবহার বা বিক্রির অপরাধে মোটা অঙ্কের অর্থদণ্ড, দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড এমনকি মৃত্যুদণ্ডের কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।চলতি ২০২৪ সালে ইরান দুই দফায় দীর্ঘমেয়াদী ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট প্রত্যক্ষ করেছে। এর মধ্যে বছরের শুরুতে গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে টানা তিন সপ্তাহ এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর টানা ৮৮ দিন সারাদেশে ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুমোদনহীন নতুন ডিভাইসের জিপিএস সংকেত বিঘ্নিত করতে জামার ব্যবহার, আকাশপথে ড্রোন অভিযান পরিচালনা এবং অবৈধভাবে সংগৃহীত স্টারলিংক টার্মিনাল ও ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করার কার্যক্রম বর্তমানে জোরদার করা হয়েছে।ইরানের প্রযুক্তি উপমন্ত্রী মোহাম্মদ হাফেজ হাকামি সতর্ক করে জানিয়েছেন, সরকারি কোনো প্রকার নিয়ন্ত্রণ ছাড়া স্টারলিংক বিস্তৃত হলে তা ইরানের সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো কঠোর ব্যবস্থার ইঙ্গিতও দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।এদিকে, স্টারলিংকের ওপর বিধিনিষেধ নিশ্চিত করতে নরওয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে তেহরান। এ ইস্যুতে ইতোমধ্যে নরওয়ের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে দেশটি এবং আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) কাছে আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।এ ছাড়া ইরানের সরকারি মুখপাত্র ফাতেমে মহাজেরানী জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য সাইবার হামলা থেকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভাণ্ডার ও সাইবার স্পেস সুরক্ষায় সাময়িকভাবে ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল