প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬
মানবাধিকার ও সুশাসন ছাড়া দেশ এগোতে পারে না: অধিকারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বক্তারা
আবদুল্লাহ মজুমদার ||
মানবাধিকার ও সুশাসন ছাড়া কোনো দেশের টেকসই অগ্রগতি সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় আপসহীন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রামে আয়োজিত আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় তাঁরা এসব কথা বলেন।১০ অক্টোবর শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক আবদুল্লাহ মজুমদার। প্রধান অতিথি ছিলেন দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম-এর সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী। অধিকার ডিফেন্ডার ও সাংবাদিক মুজিব উল্ল্যাহ তুষারের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন এনসিপি চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন জাহেদুল করিম বাপ্পী এবং দপ্তর সম্পাদক মো. আরমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধিকার ডিফেন্ডার ও সাংবাদিক মুহাম্মদ আমির হোসাইন।১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর কয়েকজনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় মানবাধিকার সংগঠন অধিকার। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে। পাশাপাশি নাগরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অধিকার বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তিদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে। একই সঙ্গে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিয়োজিত জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়েছে। এ দীর্ঘ পথচলায় পাশে থাকা মানবাধিকারকর্মী, আন্তর্জাতিক সংস্থা, স্থানীয় নেটওয়ার্ক, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।অধিকার জানিয়েছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিভিন্ন সরকারের আমলে সংগঠনটি হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানবাধিকারকর্মীরাও বিভিন্ন সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন। বিশেষ করে শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে সংগঠনটির ওপর হয়রানি ও নিপীড়ন চরম আকার ধারণ করেছিল বলে দাবি করা হয়েছে।প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বক্তব্যে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অধিকার। সংগঠনটির অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, ক্ষমতা গ্রহণের পর সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা মানবাধিকার-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো সংসদে পাস না হওয়ায় সেগুলো বাতিল হয়ে গেছে।গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংগঠনটি। অধিকারের মতে, এসব আইনে শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্তের ক্ষমতা সীমিত বা রহিত করার বিষয়টি উদ্বেগজনক। এ ছাড়া মিরাজ শেখ নামের এক জেলে গুমের শিকার হয়েছেন এবং এখনো তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে।সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে অধিকার। সংগঠনটির অভিযোগ, সরকারের সমালোচনা করে মতপ্রকাশের কারণে ব্যক্তিদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করে তারা।র্যাবের নাম পরিবর্তন করে একই কাঠামো বহাল রেখে এসআরবি গঠনের বিষয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে অধিকার। সংগঠনটির আশঙ্কা, কাঠামোগত পরিবর্তন না হলে অতীতের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি থেকেই যাবে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলো সংশোধনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।বক্তারা বলেন, মানবাধিকার ও সুশাসন নিশ্চিত করা ছাড়া দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অধিকারের ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সংগঠনটির অঙ্গীকার—মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আপসহীন লড়াই অব্যাহত রাখা।সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ কাজী গোলাম মোস্তফা, সাংবাদিক ইকবাল হোসাইন, ফজলুল করিম নাহিদ ও মো. সরোয়ারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এতে সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠকেরা অংশ নেন।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল