প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬
ভারতের সিইসির পদত্যাগের দাবিতে সোমবারে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের দিল্লি চলোর ডাক, মুখোমুখি মোদী সরকার ও বিরোধীরা
শামিমা লিয়া, আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর ||
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে এবার চূড়ান্ত ও সর্বাত্মক আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। 'সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণ করতে হবে এবং এতে কোনো আপস নয়'—এই কঠোর অবস্থানে অনড় থেকে আগামী সোমবার (১২ অক্টোবর) দিল্লির রাজপথে বিশাল 'প্রতিবাদ পদযাত্রা'র কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কংগ্রেসসহ সমস্ত মিত্র রাজনৈতিক দলগুলো। একই সঙ্গে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় জালিয়াতি রোধে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চেয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও এসেছে। শনিবার রাতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা কে সি ভেনুগোপাল সরাসরি হুংকার দিয়ে বলেন, "ভারতের গণতন্ত্র রক্ষায় উদ্বিগ্ন প্রতিটি নাগরিকের কাছে আমাদের আকুল আহ্বান, মোদী-শাহ সরকারের সুপরিকল্পিত ভোট চুরির বিরুদ্ধে সোমবারে দিল্লির এই ঐতিহাসিক মহাসমাবেশে যোগ দিন। জ্ঞানেশ কুমার অ্যান্ড কোম্পানিকে না হটানো পর্যন্ত আমরা একচুলও পিছপা হব না।" এর আগে শনিবার সকালে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) যন্তর মন্তর অভিযান ঠেকাতে দিল্লি পুলিশ নজিরবিহীন কড়াকড়ি ও গণ-আটক অভিযান চালায়। এ সময় একাধিক রাজ্যের সাবেক ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে আটক করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়িতে ঘুরিয়ে অবশেষে হরিয়ানা-দিল্লি সীমান্তে ছেড়ে দেয়। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বলেন, "আমরা তো কোনো অপরাধী নই! দুই ঘণ্টা ধরে পুলিশ আমাদের তুলে নিয়ে গিয়ে গাড়িতে ঘুরিয়েছে, এটি কোনো গ্রেপ্তার নয়, এটি সরাসরি অপহরণ! দেশে এখন ‘সুপার ইমার্জেন্সি’ চলছে।" পরবর্তী পরিস্থিতিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিশেষ অনুরোধে কলকাতা ফেরার ফ্লাইট বাতিল করে দিল্লিতেই অবস্থান করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যা বিরোধী ঐক্যের এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। তাঁর সঙ্গে যোগ দিতে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও দিল্লিতে পৌঁছাচ্ছেন বলে জানা গেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, বামপন্থী শীর্ষনেতা বৃন্দা কারাত, দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, যোগেন্দ্র যাদব এবং বিশিষ্ট আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণকেও আটক করেছিল পুলিশ। এ বিষয়ে এক্সে (টুইটার) ক্ষোভ প্রকাশ করে কেরালা মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেন, "বিরোধীদের দেখে মোদি সরকার কতটা আতঙ্কিত যে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের গাড়িতে পুরে এক ঘণ্টা ঘুরিয়ে রাখতে হচ্ছে! মোদির ভয় এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে, যা সত্যিই লজ্জাজনক।" মূলত ভোটার তালিকা পুনর্নিরীক্ষণ বা ‘স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন’ (এসআরআই) প্রক্রিয়ায় লাখ লাখ ভোটারের নাম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাদ দেওয়ার অভিযোগ থেকেই এই রাজপথের উত্তাপ তৈরি হয়েছে। এর আগেই কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ওমর আবদুল্লাহদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে সিইসির পদত্যাগ দাবি করেন। শনিবারের গণ-ধরপাকড়ের পর সোমবার ‘ইন্ডিয়া’ জোটের দিল্লি চলো কর্মসূচীকে ঘিরে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে চরম বিস্ফোরক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল