প্রিন্ট এর তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬
স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা: অটোরিকশাচালক সুমন গ্রেপ্তার, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
বাসায় ফেরার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠা সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সংক্ষিপ্ত পথে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যার চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়াকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।পুলিশ জানায়, গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানখেতের আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। পরে লালমাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত ওই কিশোরী কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা যশোর হলেও বাবা একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লার রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করতেন।তদন্তে পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্সে যাওয়ার জন্য সুমনের অটোরিকশা ভাড়া করেন ওই স্কুলছাত্রী। কিছুদূর যাওয়ার পর সুমনকে ১০০ টাকা দিয়ে কলা ও রুটি কিনে আনেন তিনি। এরপর সংক্ষিপ্ত পথে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সুমন নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে ইউটার্ন নিয়ে চাঁদপুরগামী সড়ক ধরে বিজরা বাজার হয়ে অন্য পথে চলে যান।নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে অন্ধকার ও নির্জন জায়গায় অটোরিকশা থামানোর পর ওই স্কুলছাত্রী ভয় পেয়ে কোথায় এনেছেন জানতে চান। সুমন জানান, এটি রেসকোর্স নয়, অন্য জায়গা। তখন জীবন বাঁচাতে অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন ওই শিক্ষার্থী। এ সময় সুমন তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন এবং অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করেন। ওই শিক্ষার্থী চিৎকার শুরু করলে সুমন তার গামছা গলায় পেঁচিয়ে ধরেন, যার ফলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েন।জিজ্ঞাসাবাদে সুমন মিয়া জানান, তিনি ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেন। এরপর তাকে ধানখেতে নিয়ে উপুড় করে শুইয়ে মাথা পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। অপরাধ ঢাকতে তার ব্যবহৃত হ্যান্ডব্যাগ থেকে আইফোনটি নিয়ে ব্যাগটি ধানখেতে ফেলে দেন। পরে ঘটনাস্থলে অটোরিকশাটি রেখে কাচিকাটা মসজিদের সামনের একটি পুকুরে গোসল করেন সুমন। এরপর ভাড়ায় চালিত অন্য একটি অটোরিকশায় করে বাখরাবাদ এলাকায় গিয়ে একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গলে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে পালিয়ে যান। পুলিশ আরও জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম থেকে সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী, বাখরাবাদ এলাকার পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে ওই শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল